কেরলের ত্রিশূরে বাজি কারখনায় বিস্ফোরণ। ছবি: সংগৃহীত।
কেরলে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। মঙ্গলবার দুপুরে থালাপ্পিলির মুন্ডাথিক্কোডুর এক গুদামে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের ফলে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। জানা গিয়েছে, ত্রিশূরের পুরম উৎসবের জন্য ওই গুদামে আতশবাজি মজুত ছিল।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, পুরম উৎসবের আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছে দুই প্রধান গোষ্ঠী। তার মধ্যে অন্যতম থিরুভাম্বাদি দেবস্বম। তারা উৎসবের জন্য আতশবাজি তৈরির দায়িত্ব পেয়েছিল। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবারের বিস্ফোরণের ঘটনায় অনেকে আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই ওই থিরুভাম্বাদি দেবস্বমের কর্মী।
খবর পাওয়ামাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় দমকল। নিকটবর্তী হাসপাতাল থেকে পাঠানো হয় অ্যাম্বুল্যান্সও। আহতদের উদ্ধার করে ত্রিশূর মেডিক্যাল কলেজ-সহ অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দমকলের এক কর্তা বলেন, ‘‘বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ বিস্ফোরণের খবর পাই। ওই বাজি কারখানাটি একটি ধানখেতের উপর ছিল। তবে বিস্ফোরণের অভিঘাত অনেকটা ছিল। আমাদের ওই এলাকায় পৌঁছোতে বেগ পেতে হয়।’’ কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটল, তা এখন স্পষ্ট নয়। বিস্ফোরণের জেরে অনেক দেহাংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে ওই ধানখেতে। মৃতদের মধ্যে সকলের পরিচয় এখনও জানা যায়নি বলে খবর পুলিশ সূত্রে।
কেরলের দুর্ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মৃতদের পরিবারপিছু দু’লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন মোদী।
দিন কয়েক আগেই ছত্তীসগঢ়ের সক্তী জেলায় বেদান্ত শিল্পগোষ্ঠীর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বয়লার বিস্ফোরণে ঘটনায় ২৩ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনায় বেদান্ত গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান অনিল অগ্রবাল, সংস্থার ম্যানেজার দেবেন্দ্র পটেল-সহ কয়েক জন আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে এ বার কেরলের ত্রিশূরে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ।