হুমাযুন কবীর। ফাইল চিত্র।
মহমেডান ক্লাবের নতুন সভাপতি হলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। আগামিকাল, শনিবার দুপুরে নতুন সভাপতিকে মহমেডান ক্লাবে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। গত কয়েক দিন ধরে ক্লাবের সদস্য-সমর্থকেরা তৎকালীন সভাপতি আমিরুদ্দিন ববির পদত্যাগের দাবি করছিলেন। তার জেরে শুক্রবার আমিরউদ্দিন পদত্যাগ করেন। তাঁর বদলে ক্লাবের নতুন সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হল হুমায়ুনকে।
মহমেডান ক্লাব সূত্রে খবর, ক্লাবের বাকি যে কমিটিগুলি আছে, সেগুলি আগের মতেই থাকছে। শুধু সভাপতি বদল হয়েছে। নতুন সভাপতির অধীনে ক্লাবের কাজকর্ম কী রকম হচ্ছে এবং আর্থিক সঙ্কট মেটে কি না, তা আগামী এক মাস ধরে পর্যবেক্ষণ করা হবে। তার পর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
গত কয়েক বছর ধরেই আর্থিক সমস্যায় ভুগছিল মহমেডান ক্লাব। তার জেরে আমিরুদ্দিনকে বর্তমান কমিটি থেকে সরে যাওয়ার দাবি বার বার উঠেছিল মহমেডানের সদস্য-সমর্থকদের তরফ থেকে। বিধানসভা ভোটে বিজেপি জেতার পর, যখন নতুন সরকার গঠন হয়, এই দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
এর আগে ক্লাব আর্থিক সাহায্যের জন্য রাজ্যের দুই বিধায়ক আইএসএফের নওশাদ সিদ্দিকি এবং হুমায়ুনের কাছে দ্বারস্থ হয়। দুই বিধায়ককে চিঠি পাঠিয়ে নতুন স্পনসর খুঁজে আনার ব্যাপারেও সাহায্য চায় তারা।
মহমেডানের মাথায় এখন ১৩ কোটি টাকার দেনা। পাশাপাশি পরের মরসুমের দল গড়ার অর্থও দরকার। কিন্তু ক্লাবের হাতে অর্থ না থাকায় গোটা প্রক্রিয়াটাই বিশ বাঁও জলে। কয়েক মাস আগে নওশাদ জানিয়েছিলেন, ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগানের পাশে যে ভাবে দাঁড়িয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ততটা মহমেডানের পাশে দাঁড়াননি। তখন দাবি করেছিলেন, চাইলে তিনি স্পনসরের ব্যবস্থা করতে পারেন। পরে হুমায়ুনও মহমেডানের অচলাবস্থা কাটানোর ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছিলেন। দুই আলাদা রাজনৈতিক দলের বিধায়ককেই চিঠি পাঠানো হয়।
এই বছর প্রথম বার যোগ্যতা অর্জন করে আইএসএল খেলার সুযোগ পায় মহমেডান। তবে তাদের খেলা অত্যন্ত হতাশাজনক ছিল। ট্রান্সফার ব্যান এবং ঠিক করে দল গড়তে না পেরে এ বার আইএসএল থেকে অবনমনও হতে হয়েছে মহমেডানকে। পয়েন্ট তালিকায় সবার নীচে ছিল তারা।