সম্পাদক সমীপেষু

বাড়িটা দেখলাম খিলান দেওয়া, মেঝে থেকে উঠে যাওয়া বড় বড় জানলাওয়ালা দোতলা বাড়ি। দেখেই মনে হল, সে সময়ের কোনও সম্ভ্রান্ত পরিবারের বাড়ি

Advertisement
শেষ আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০১৭ ০০:০০
Share:

পাঠাগারের নাম বঙ্কিম

Advertisement

বর্ধমানের এক প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে একটি গ্রামীণ লাইব্রেরির গায়ে ‘বাগিলা বঙ্কিম পাঠাগার, স্থাপিত: ১৯০০’ লেখা দেখে, একটু আশ্চর্য হলাম। প্রথম কারণ, সাল, আর দ্বিতীয়, বঙ্কিমের নামকরণ। কৌতূহল মেটাতে লাইব্রেরিতে ঢুকলাম, ওখানে এক জন স্থানীয় লোক ও লাইব্রেরিয়ান ছিলেন। প্রথমে স্থানীয় লোকটিকে জিজ্ঞাসা করলাম, এত প্রাচীন গ্রন্থাগার, এই গ্রামীণ অঞ্চলে? তিনি কিছুটা দূরে একটা বাড়ি দেখিয়ে বললেন, ওটা হল বাবুদের বাড়ি। ওঁদেরই তৈরি এই গ্রন্থাগার।

বাড়িটা দেখলাম খিলান দেওয়া, মেঝে থেকে উঠে যাওয়া বড় বড় জানলাওয়ালা দোতলা বাড়ি। দেখেই মনে হল, সে সময়ের কোনও সম্ভ্রান্ত পরিবারের বাড়ি। আরও কৌতূহল হতে, লাইব্রেরিয়ানকে জিজ্ঞাসা করায় বললেন, ‘হ্যাঁ, এটা ১৯০০ সালেই স্থাপিত।’ এটাই নাকি পশ্চিমবঙ্গের প্রথম গ্রামীণ গ্রন্থাগার। যদিও সে সময়ে অখণ্ড বাংলা ছিল। স্থানীয় জন জানালেন, ‘বাবুরা খুব বঙ্কিম-ভক্ত ছিলেন, তাই তাঁর নামে এই গ্রন্থাগারের নাম রাখেন।’

Advertisement

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’ প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ সালে। এবং প্রথম উপন্যাসেই তাঁর খ্যাতি এবং প্রভূত জনপ্রিয়তা। সেই জনপ্রিয়তারই চাক্ষুষ প্রমাণ সে দিন দেখলাম বর্ধমানের ওই গ্রামে।

শুভঙ্কর মুখোপাধ্যায় পানিহাটি, উত্তর ২৪ পরগনা

অপমানই সার

‘অপমানের ছুটি’ (সম্পাদকীয়, ২৬-১০) পড়লাম। ২০০৪ সালের যে দিন থেকে শিক্ষকজীবন শুরু হয়েছে, সে দিন থেকে অপমানের বোঝা বইতে বইতে আমরা ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত হয়ে গেছি। প্রথম দিন থেকে আমরা অবহেলিত ও বঞ্চিত। যদিও মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের আদেশবলে আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার শুরু।

১৪ বছর অনেকটা দিন। নিজেদের দরদি ভাবা বামফ্রন্ট সরকার ২০০৯ সালে আরটিই আইনকে ফাঁকি দিয়ে শুধুমাত্র ৬০ বছরের চাকরির নিশ্চয়তা প্রদান করেছে, কিন্তু তার সঙ্গে যে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার কথা আইনে বলা আছে, তা তারা মানেনি। ২০১১ সালে পরিবর্তনের পর ভেবেছিলাম আমাদের ভাগ্যে হয়তো সূর্যমুখী সকাল হবে। কিন্তু কিছুই পেলাম না, শুধুমাত্র মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছ থেকে ‘অযোগ্য’ উপাধি ছাড়া। এই সাত বছরে ক্লাসের সংখ্যা বাড়ল এবং স্কুলের সমস্ত অ-কাজ আমাদের কাঁধে চাপানো হল।

২০১৬ সালে মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট ‘সমকাজে সমবেতন’ রায় ঘোষণা করে। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে সেই রায় এখনও অধরা। ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশের শিক্ষামিত্রদের জন্য সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে, (টেট পাশ সমস্ত শিক্ষামিত্রদের [পার্শ্বশিক্ষক] সহশিক্ষকে উন্নীতকরণ অবিলম্বে করতে হবে) সেই রায় কবে কার্যকর হবে কে জানে? আমরা কম বেতন ও অসম্মানিত হলেও আশাবাদী, হয়তো ভারতীয় সংবিধান অনুসারে আমাদের প্রাপ্য অধিকার ফিরে পাব।

বাবুন সেন বাঁকুড়া

অভিজ্ঞতা

২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো-র নিয়োগ পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট দিনে পরীক্ষাকেন্দ্রে নির্ধারিত আসনে বসি। পরীক্ষাকেন্দ্রে দু’জন ইনভিজিলেটর নিযুক্ত ছিলেন। সময় চলে যাওয়ার অনেক পরেও প্রশ্নপত্র আমাদের কাছে আসেনি। কারণ, একতলার চার নম্বর ঘরে যেখানে আমাদের পরীক্ষা চলছিল, সেই ঘরটিতে তিনটি সারিতে বেঞ্চ পাতা ছিল, প্রত্যেক বেঞ্চে তিন জনের জন্য আসন বরাদ্দ ছিল। ডান দিক থেকে প্রশ্ন দেওয়া শুরু করে যখন আমাদের দিকে প্রশ্ন এল, তখন ১২ মিনিট সময় অতিক্রান্ত। তার পরেও প্রশ্নপত্র দিতে যথেষ্ট দেরি হচ্ছিল। উত্তরপত্রের নির্দিষ্ট স্থানে প্রশ্নপত্রের ক্রমাঙ্ক নং লিখে গোল করতে হয়, প্রশ্নপত্র না পাওয়ার জন্য সেই কাজ করতেও দেরি হয়।

কেন্দ্রীয় সরকারের এমন একটি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের মুখ বন্ধ ছিল না। সাধারণ ভাবে এই ধরনের প্রশ্নপত্রগুলি সিল করা থাকে এবং পরীক্ষার্থীদের এই মর্মে নির্দেশিকা দেওয়া থাকে, যতক্ষণ না ঘণ্টা পড়ছে, প্রশ্নপত্রের সিল কাটা যাবে না। প্রশ্নপত্র আগে দেওয়ার কারণ হল, উত্তরপত্রের নির্দিষ্ট স্থানে তার ক্রমাঙ্ক লিখতে হয়। এমন কোনও ঘণ্টার আওয়াজ আমরা পাইনি। পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে কোনও ওয়ার্নিং বেল-ও পড়েনি। পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইনভিজিলেটর বাঁ দিক থেকে খাতা সংগ্রহ করতে শুরু করেন। অথচ ডান দিকে যারা ছিল, তারা পরীক্ষা দিতে থাকে। ইনভিজিলেটর আমাদের প্রত্যেকের উত্তরপত্রে (ওএমআর শিট) স্বাক্ষর করেননি। এত কিছুর পরে আমরা একটি অভিযোগপত্র লিখে সকলের স্বাক্ষরসমেত কয়েক জন মিলে আইবি-র নিযুক্ত পর্যবেক্ষকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাই। আমাদের বাইরে অপেক্ষা করতে বলা হয়। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পরে আমরা পর্যবেক্ষকের দেখা পাই। তাঁকে সমস্যার কথা জানিয়ে আমরা অভিযোগপত্রটি জমা দিতে চাইলে, তিনি নিতে অস্বীকার করেন এবং কলেজ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আমাদের কলেজের গেটের বাইরে বের করে দিতে। সবচেয়ে হতাশ করল পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থার আমাদের প্রতি ব্যবহার।

ধীমান হালদার কলকাতা-৩২

অপ্রিয় বাস্তব

তাজুদ্দিন আহমেদের ‘এই ভারত এক সংকীর্ণ ভূমি’ (১২-১০) শীর্ষক নিবন্ধ প্রসঙ্গে বলি, শুধু মানবিকতার খাতিরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভারতে আশ্রয় দিলে ভবিষ্যতে অন্যান্য যুদ্ধবিধ্বস্ত ও সমস্যাদীর্ণ দেশগুলো থেকে শরণার্থীর ঢল নামার সম্ভাবনা থেকে যাবে। ভারত সেই ভার বহন করতে পারবে কি?

রবীন্দ্রনাথ যে ভারতবর্ষের কথা বলেছিলেন, তার ভৌগোলিক আয়তন, প্রাকৃতিক সম্পদ আজকের চেয়ে অনেক বেশি ছিল এবং জনসংখ্যাও আজকের চাইতে ৮০ কোটি কম ছিল। সে দিনের বৃহৎ ভারতবর্ষের পক্ষে বহিরাগত মানুষদের আশ্রয় দেওয়া যতটা সহজ ছিল, আজকের ১৩০ কোটি মানুষের এবং অনেক কম আয়তনের ভারতের পক্ষে সেটা তত সহজ নয়। আজ কয়েক কোটি শিক্ষিত বেকার, আর্থিক ও সামাজিক অসাম্য ও বৈষম্য, দারিদ্র, স্বাস্থ্যহীনতার সমস্যায় ভারত নিজেই নাজেহাল। আজকের এই অসংখ্য রাজনৈতিক দল, উপদল ও আঞ্চলিক গোষ্ঠীতে বিভক্ত সমস্যাসংকুল ভারতকে রবীন্দ্রনাথ দেখে যাননি।

বাংলাদেশ যদি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি মানবিক হতে চায়, তা হলে স্বাধীন বাংলাদেশ থেকে কেন অসংখ্য ছিন্নমূল হিন্দুকে এ দেশে চলে আসতে হয়েছিল? নিবন্ধকার বাইবেল ও গ্রিসের উদাহরণ দিয়েছেন। গ্রিস যেমন প্লেটো বা সক্রেটিসের জন্ম দিয়েছে তেমনই আলেকজান্ডারের মতো সাম্রাজ্যবাদীকেও জন্ম দিয়েছে। আর বাইবেল ও যিশুকে শ্রদ্ধা করেও বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, বাইবেলের অনেক বছর আগে ব্যাপকতর ও মহত্তর মানবতাবাদের কথা, সর্বত্র সমদৃষ্টিসম্পন্ন হয়ে সবাইকে ভালবাসার কথা উপনিষদের যুগে, মহাকাব্যের যুগে এবং গৌতম বুদ্ধের যুগেও বলা হয়েছে।

দেবব্রত ঘোষ কলকাতা-১৫৩

পরাজয়ের সম্মান

‘ফল-মিষ্টিতে বরণ বাংলার তিন বিশ্বকাপ তারকাকে’ (১৪-১০) শীর্ষক সংবাদটি পড়ে বিস্মিত হলাম। অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে খেলে আসা পরাজিত খেলোয়াড়দের সংবধর্না জানানোর মাতামাতি কেবল বাংলাতেই আছে বলে মনে হয়। হেরে যাওয়া দল বা খেলোয়াড়দের ঘটা করে সংবর্ধনা বা অভিনন্দন জানানোর মাতামাতি নীতি বিশ্বে কোনও দেশে আছে বলে জানা নেই।

তপনকুমার বিদ বেগুনকোদর, পুরুলিয়া

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement