গত ২৪ জুন আনন্দবাজার পত্রিকার প্রথম পাতার ছবিটি হৃদয়বিদারক। হাওড়া টিকিয়াপাড়ায় পূর্ব রেলের জমিতে গজিয়ে ওঠা বেআইনি বস্তি উচ্ছেদ করতে বুলডোজ়ার চলেছে। যে শিশুদের ছবি প্রকাশিত হয়েছে, তারা শৈশবেই ঘরছাড়া হল। হয়তো পড়াশোনাও আপাতত বন্ধ হল। তাদের একমাত্র অপরাধ তারা রেলের জমিতে দরিদ্র মা-বাবার তৈরি অস্থায়ী ঘরে বা ছাউনিতে থাকত। হয়তো সেই ঘরের কোণে চারটে কাচের মার্বেল, একটা কুড়িয়ে পাওয়া হাত-পা ভাঙা পুতুল কিংবা দু’চাকাহীন একটা গাড়িও ছিল। সেগুলোই ছিল তাদের সম্পদ। তারা সেই সম্পদে ধনী ছিল। বুলডোজ়ার চলার আগে প্রশাসন কি সেই খবর জানার চেষ্টা করেছিল?
এই শৈশবেই কয়েক মুহূর্তের মধ্যে মাথার উপর থেকে ছাদ চলে যাওয়ার যে অভিজ্ঞতা তারা সঞ্চয় করল, তাই নিয়ে বড় হয়ে তারা সমাজকে কী ফেরত দেবে? সমাজের প্রতি ছোট থেকে জমে ওঠা রাগ, ক্ষোভ এক দিন এদেরই হয়তো বিপথে চালিত করবে। তখন আমরাই হয়তো তাদের অপরাধী বলে দূরে সরিয়ে রাখব। এটুকু ভাবব না যে, কাদের অমানবিকতার কারণে তারা বিপথে আসতে বাধ্য হয়েছে। ছবিতে শিশুগুলির চোখে জল, কেউ জামা দিয়ে চোখ মুছছে। সরকার চাইলে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে পারে বলেই আমার মনে হয়। এখন অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আছে পথশিশুদের জন্য। অনেকে ব্যক্তিগত ভাবে স্বেচ্ছাশ্রম ও অর্থ ব্যয় করেন এদের জন্য। এখন অনেকের সন্তানই পাকাপাকি ভাবে বিদেশে থাকেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে নিজেদের গচ্ছিত সম্পদ সমাজসেবার জন্য বিভিন্ন সংস্থাকে দান করেন। তাঁদের সাহায্য এই শিশুরা পেলে, একটু যত্ন-আত্তি পেলে, অনেক ভাল ফল পাওয়া যেতে পারে।
সম্প্রতি বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রী-ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে হিসাব-বহির্ভূত বিপুল অর্থ উদ্ধারের খবর প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এই বেনামী অর্থ দরিদ্র শিশুদের জন্য ব্যয় হোক। অসহায় শিশুদের কি সমাজের কাছে কোনও প্রত্যাশা নেই? নিয়মের জন্য মানুষ, না মানুষের জন্য নিয়ম?
পলি সরকার ভট্টাচার্য, হলদিয়া, পূর্ব মেদিনীপুর
সঠিক চর্চা
আকাশের ‘শরীরচর্চা কি লক্ষ্যভ্রষ্ট’ (১২-৬) শীর্ষক প্রবন্ধ প্রসঙ্গে দু’-একটি কথা। বর্তমানে সামগ্রিক সমাজ জীবনে হুজুগে মাতার একটা প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শরীরচর্চার ক্ষেত্রেও সেই প্রবণতা ক্রমবর্ধমান। তরুণ প্রজন্ম সমবয়সি বন্ধুদের দেখে শরীরচর্চায় উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। এক বারও ভাবছে না তারা কেন শরীরচর্চা করতে চায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বল্প দিনে মেদবহুল চেহারা ঝরিয়ে ফেলা, পেশিবহুল শরীর গঠন করা হয়ে উঠছে মূল লক্ষ্য। এর ফলে দলে দলে ছেলেমেয়ে পাড়ায় পাড়ায় গজিয়ে ওঠা জিমগুলিতে ভর্তি হচ্ছে। নির্দিষ্ট কিছু জিম উপযুক্ত প্রশিক্ষক রাখলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেটা থাকছে না। ফলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বন্ধুদের কাছ থেকে অথবা ইন্টারনেট থেকে কী খেতে হবে, সেই বিষয়ে পরামর্শ নিচ্ছে তরুণরা। এর নেতিবাচক প্রভাব কিন্তু সুদূরপ্রসারী।
আজ জীবনের প্রায় সর্বক্ষেত্রেই স্বল্প সময়ে স্বল্প পরিশ্রমে সাফল্য পাওয়ার চাহিদা ক্রমবর্ধমান। ইন্টারনেট এ বিষয়ে অনুঘটকের কাজ করে। তাই, এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে গেলে সর্বপ্রথম তরুণ প্রজন্মকে শরীরচর্চা সম্পর্কে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।
দেবব্রত ঘোষ, মলয় বাকসাড়া, হাওড়া
ভাষার গুরুত্ব
ভারতের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য তার ভাষাগত বৈচিত্র। এই বৈচিত্রই ভারতের শক্তি। তাই ভাষা সংক্রান্ত যে কোনও নীতি নিয়ে আলোচনা বা বিতর্ক হওয়া স্বাভাবিক। সম্প্রতি সিবিএসই কর্তৃক ত্রিভাষা নীতির প্রয়োগ বিষয়ে দেশ জুড়ে নানা মতামত প্রকাশিত হয়েছে। তবে সমস্ত বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে বিচার করলে দেখা যায়, এই নীতি শিক্ষাগত উন্নয়ন, জাতীয় সংহতি এবং সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
ত্রিভাষা নীতির মূল লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের তিনটি ভাষায় দক্ষ করে তোলা— মাতৃভাষা বা আঞ্চলিক ভাষা, ইংরেজি এবং আর একটি ভারতীয় ভাষা। এর উদ্দেশ্য কোনও ভাষাকে অন্য ভাষার উপর চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং শিক্ষার্থীদের বহুভাষিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া। বর্তমানে ইংরেজি ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম। উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইংরেজি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, আমাদের মাতৃভাষা বা অন্যান্য ভারতীয় ভাষার গুরুত্ব কমে যাবে। বরং ত্রিভাষা নীতি এমন একটি ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে, যেখানে এক জন শিক্ষার্থী নিজের ভাষাগত শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, আবার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও সমান ভাবে দক্ষ হয়ে উঠবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা মাতৃভাষায় হলে তাদের শেখার ক্ষমতা এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। শিশুরা যে ভাষায় চিন্তা করে, সেই ভাষায় শিক্ষা গ্রহণ করলে জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়া আরও সহজ এবং কার্যকর হয়। ত্রিভাষা নীতি এই বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষাগত বাস্তবতাকেই স্বীকৃতি দেয়।
এই নীতির আর একটি বড় সুবিধা হল, ভারতের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ। বিশ্বায়নের প্রভাবে অনেক আঞ্চলিক ভাষার অস্তিত্ব সঙ্কটের মুখে। নতুন প্রজন্ম যদি নিজেদের ভাষা ও সাহিত্য থেকে দূরে সরে যায়, তবে ভবিষ্যতে আমাদের বহু মূল্যবান সাংস্কৃতিক সম্পদ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি একটি জাতির ইতিহাস, স্মৃতি ও সংস্কৃতির ধারক। তাই, ভাষা রক্ষা মানে সংস্কৃতি রক্ষা।
জাতীয় সংহতির ক্ষেত্রেও ত্রিভাষা নীতির গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা প্রায়ই ‘বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য’-র কথা বলি। কিন্তু প্রকৃত ঐক্য তখনই সম্ভব, যখন আমরা একে অপরকে জানার এবং বোঝার চেষ্টা করি। পশ্চিমবঙ্গের এক জন শিক্ষার্থী যদি অন্য একটি ভারতীয় ভাষা শেখে, তবে সে সেই অঞ্চলের সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে। একই ভাবে দেশের অন্য প্রান্তের শিক্ষার্থীরাও বাংলা-সহ অন্যান্য ভারতীয় ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে। এর ফলে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং জাতীয় সংহতি আরও সুদৃঢ় হবে।
অবশ্যই, যে কোনও নীতির সাফল্য তার বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করে। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত শিক্ষক, উপযুক্ত পাঠ্যসামগ্রী এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে রাজ্যগুলির ভাষাগত বৈশিষ্ট্য ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতাকেও সম্মান জানাতে হবে। জোর করে নয়, সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এই নীতিকে কার্যকর করতে হবে।
অতএব, ত্রিভাষা নীতিকে ভাষাগত আধিপত্যের প্রচেষ্টা হিসেবে নয়, বরং শিক্ষাগত ও জাতীয় উন্নয়নের একটি সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। একটি ভাষা শেখা কখনও অন্য ভাষাকে দুর্বল করে না, বরং মানুষের জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি এবং সম্ভাবনার পরিসরকে বিস্তৃত করে। ভারতের মতো বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক দেশে ত্রিভাষা নীতি শুধু একটি শিক্ষানীতি নয়, বরং আরও ঐক্যবদ্ধ এবং সক্ষম ভারত গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
অম্লান চক্রবর্তী, কলকাতা-৫০
অযথা চাপ
সম্প্রতি অনলাইনে টাকা দিয়ে একটি এলপিজি সিলিন্ডার বুক করি। ডেলিভারির সময় সংস্থার কর্মী জানান, আমার নামে একটি গ্যাস পাইপ ‘ডিউ’ রয়েছে এবং ১৯০ টাকা দিয়ে সেটি কিনতেই হবে। আরও বলেন, পাইপটি না কিনলে ভবিষ্যতে গ্যাস দেওয়া হবে না। প্রশ্ন হল, গ্যাসের সঙ্গে অতিরিক্ত সামগ্রী কেনা কি বাধ্যতামূলক? যদি না হয়, তবে চাপ সৃষ্টি করে গ্রাহকদের থেকে টাকা আদায় করা কেন?
জর্জ খন্দকার, হিরাপুর, হুগলি
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে