NEET Exam

সম্পাদক সমীপেষু: অসহায় পরীক্ষার্থী

বহু নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও গ্রামীণ পরিবারের বাবা-মা সীমাহীন আর্থিক কষ্ট সত্ত্বেও সন্তানের স্বপ্নপূরণের জন্য ঋণ নেন, জমি বিক্রি করেন, কোচিংয়ের খরচ বহন করেন।

শেষ আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ ০৮:৪৫
Share:

নিট পরীক্ষাকে ঘিরে বার বার বিতর্ক, অভিযোগ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাপনার এক গভীর ব্যর্থতার চিত্রকে তুলে ধরেছে। লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর কাছে এই পরীক্ষা কেবল একটি মূল্যায়ন নয়— বহু বছরের ত্যাগ, শৃঙ্খলা, আর্থিক সংগ্রাম ও মানসিক বিনিয়োগের চূড়ান্ত পরিণতি। নিট আজ শুধু একটি সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নয়; এটি আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভিত নির্মাণের অন্যতম স্তম্ভ। এই পরীক্ষার মাধ্যমেই আগামী দিনের চিকিৎসকরা তৈরি হবেন, যাঁদের হাতে এক দিন সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার দায়িত্ব থাকবে। তাই একটি প্রশ্নপত্র ফাঁস কেবল সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার প্রতি প্রশ্ন তোলে না, সামগ্রিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাটিকেও ভেঙে চুরমার করে দেয়।

আরও উদ্বেগের বিষয় হল, আধুনিক প্রযুক্তি, ডিজিটাল নজরদারি ও প্রশাসনিক নিরাপত্তা সত্ত্বেও কী ভাবে প্রশ্নপত্র এখনও ফাঁস হচ্ছে। এই ধরনের সংগঠিত অসদাচরণ তদারকি এবং ফাঁসের পিছনের চক্র সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। শিক্ষার ভারপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট অধিকর্তারা তাঁদের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি, অস্বচ্ছ আর্থিক লেনদেন, অযোগ্য হয়েও সহজে চাকরি পাওয়া, বিপুল অর্থের বিনিময়ে ভর্তি নিশ্চিত করার অভিযোগ— এ সব ঘটনা যদি বার বার সামনে আসে এবং আমরা যদি তার থেকে শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হই, তা হলে এর চেয়ে লজ্জার বিষয় আর কী হতে পারে?

সবচেয়ে বেশি আঘাত পান সৎ ও পরিশ্রমী পরীক্ষার্থীরা। বহু নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও গ্রামীণ পরিবারের বাবা-মা সীমাহীন আর্থিক কষ্ট সত্ত্বেও সন্তানের স্বপ্নপূরণের জন্য ঋণ নেন, জমি বিক্রি করেন, কোচিংয়ের খরচ বহন করেন। পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়ে আসার পর একটি সর্বভারতীয় পরীক্ষা বাতিল হলে, তা তাঁদের মনে চরম অনিশ্চয়তা, হতাশা ও মানসিক যন্ত্রণা তৈরি করে। সৎ পরীক্ষার্থীরা কখনওই দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার শিকার হতে পারেন না— এটাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের নৈতিক অঙ্গীকার।

আজ শিক্ষা ক্রমশ প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্যের রূপ নিচ্ছে। সেখানে মেধা, সততা ও পরিশ্রমের পরিবর্তে যদি দুর্নীতি ও অসাধু চক্র প্রভাব বিস্তার করে, তা হলে আগামী প্রজন্ম কোন মূল্যবোধ নিয়ে এগোবে? কার উপর ভরসা করে আজকের মেধাবী সমাজ ভবিষ্যতের পথে হাঁটবে? এটি কি আমাদের সামগ্রিক বিকাশের পথে এক ভয়াবহ ব্যর্থতার ইঙ্গিত নয়?

এই অবস্থায় শুধু অভিযুক্তদের গ্রেফতার করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। প্রয়োজন দ্রুত ও সময়সীমাবদ্ধ বিচারপ্রক্রিয়া, কঠোরতম আইনি শাস্তি এবং বেআইনি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ। একই সঙ্গে প্রশাসনকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে— লাইভ সিসিটিভি মনিটরিং, বায়োমেট্রিক অ্যাক্সেস কন্ট্রোল, এনক্রিপ্টেড ই-প্রশ্নপত্র বিতরণ ব্যবস্থা এবং বহুস্তরীয় ডিজিটাল নজরদারি।

আপসহীন স্বচ্ছতা, কঠোর নিয়মকানুন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমেই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

অলোক কুমার মুখোপাধ্যায়, সোদপুর, উত্তর ২৪ পরগনা

সরকারি বাস

বর্তমানে কলকাতায় খুবই কম সংখ্যক সরকারি বাস চলাচল করছে। যে সব বাস রাস্তায় নামানো হচ্ছে, তার অধিকাংশই সঠিক ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ার কারণে অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় রয়েছে। বিশেষত এসি বাসগুলির অবস্থা শোচনীয়। অধিকাংশ বাসেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করে না, যার মূল কারণ দীর্ঘ দিনের অবহেলা ও দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ। প্রতি দিন হাজার হাজার মানুষ সরকারি পরিবহণের উপর নির্ভরশীল হলেও পরিষেবার মান ক্রমশ নিম্নগামী। তাই আবেদন, বর্তমান সরকার যেন দ্রুত উদ্যোগ করে রাজ্যের সরকারি গণপরিবহণ ব্যবস্থার পুনর্গঠন করে এবং সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত ও নির্ভরযোগ্য বাস পরিষেবা নিশ্চিত করে।

রানা ঘোষ দস্তিদার, কলকাতা-১৪৯

নজরে গ্রন্থাগার

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার আসার পর থেকেই বিভিন্ন দিকে সদর্থক উদ্যোগ করা হচ্ছে দেখতে পাচ্ছি। নতুন সরকারের কাছে বিনীত নিবেদন এই যে, অন্য বকেয়া কাজগুলির সঙ্গে রাজ্যের গ্রন্থাগারগুলির উন্নতির দিকেও নজর দেওয়া হোক। যে-হেতু দীর্ঘ দিন ধরে গ্রন্থাগারিকের নিয়োগ বন্ধ, তাই এক জন গ্রন্থাগারিককেই সাধারণত দু’-তিনটি গ্রন্থাগারের দায়িত্ব সামলাতে হয়। তাতে সুষ্ঠু ভাবে কাজ করা সম্ভব নয়। নতুন বই কেনার সময় পাঠকদের আকর্ষণ ও প্রয়োজন উপেক্ষা করে যে বইগুলো কেনা হয়, সেগুলো কদাচিৎ পাঠকের হাতে দেওয়া হয়। দুষ্প্রাপ্য বইগুলি যত্নের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরিশেষে জানাই, কোনও ভাবে শনি বা রবিবারে গ্রন্থাগার খোলা রাখতে পারলে বহু পাঠকের উপকার হবে।

প্রসূন কুমার স্বর্ণকার, তেঁতুলতলা, উত্তর ২৪ পরগনা

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের হাল

এক সময় রসপুর গ্রাম ও তার আশপাশের প্রায় ১০-১৫টি গ্রামের বাসিন্দারা স্বাস্থ্যপরিষেবার জন্য রসপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের (বর্তমানে সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র) উপরই নির্ভর করতেন। তখন হাসপাতালে ইনডোর এবং আউটডোর, দু’টি বিভাগই অত্যন্ত সফল ভাবে চালু ছিল। বর্তমানে শুধু বহির্বিভাগটি চালু থাকে সকাল দশটা থেকে দুপুর দুটো পর্যন্ত। হাসপাতালে আসা রোগীদের অভিযোগ, চিকিৎসক আসেন সপ্তাহে দু’দিন। নিয়মিত আউটডোর খোলা থাকলেও, চিকিৎসক নিয়মিত নন কেন? আরও অভিযোগ, কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে দুটোর পর এলে এই হাসপাতালে অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসার সুযোগটুকুও পান না। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে হাসপাতালে পুরুষ, মহিলা ওয়র্ড এবং বেড-সহ ইনডোর বিভাগ চালু হোক এবং আউটডোরেও যেন নিয়মিত ভাবে চিকিৎসক রোগীদের পরিষেবা দেন। সজল ধারা প্রকল্পের আওতাভুক্ত হোক এই হাসপাতাল। রাজ্যের নতুন সরকার স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল ফেরাতে বিশেষ উদ্যোগী। তাই মানুষের প্রত্যাশা, রসপুর গ্রামের বহু প্রাচীন এই হাসপাতালের পুনরুজ্জীবন ঘটবে এবং ফিরে পাবে তার গৌরব।

অসীম কুমার মিত্র, রসপুর, হাওড়া

জমা জল

আগরপাড়ার পাঁচ নম্বর রেলগেট থেকে প্ল্যাটফর্মমুখী দু’টি রাস্তায় বৃষ্টি হলেই জল জমে যায়। বিশেষত, এক নম্বর রেল লাইনের পাশের রাস্তায় জলনিকাশির কোনও ব্যবস্থা না থাকা ও রেল লাইনের পাথর ছড়িয়ে থাকায় মানুষজন খুবই অসুবিধার মধ্যে যাতায়াত করেন। পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ ও পুরসভার কাছে অনুরোধ, এই রাস্তা দু’টিতে যাতে সহজে যাতায়াত করা যায়, সে ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা করা হোক।

সুনীল চক্রবর্তী, কলকাতা-১০৯

চলন্ত সিঁড়ি চাই

উল্টোডাঙায় রাস্তা পারাপারের জন্য একটি ফুটব্রিজ আছে। কিন্তু সেই ফুটব্রিজটি ব্যবহার করতে গেলে অনেকগুলি সিঁড়ি উঠতে এবং নামতে হয়। ফলে, যাঁদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন অর্থাৎ প্রবীণ এবং শিশু কোলে মা— তাঁদের খুবই অসুবিধা হয়। অথচ, অত্যধিক যান চলাচলের জন্য এখানে ফুটব্রিজের মাধ্যমে রাস্তা পার হওয়াটা একান্ত ভাবেই জরুরি।

ওখানে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে র‌্যাম্প নির্মাণ অথবা চলন্ত সিঁড়ির মাধ্যমে ফুটব্রিজে ওঠা এবং নামার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছি।

মিতালী বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা-১৩৬

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন