Allahabad High Court

উত্তরপ্রদেশ পুলিশের তীব্র নিন্দা হাই কোর্টের

উত্তরপ্রদেশের গুন্ডাদমন আইনে হওয়া একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গাজ়িয়াবাদের বাসিন্দা রাজেন্দ্র ত্যাগীর দায়ের করা মামলার শুনানিতে উত্তরপ্রদেশে পুলিশকে নিয়ে ওই মন্তব্য করে হাই কোর্ট।

শেষ আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ ০৯:৪৮
Share:

ইলাহাবাদ হাই কোর্ট। ফাইল চিত্র।

অভিযোগ উঠেছে বারবারই, তবু ছবি বদলায়নি। এ বারে সরাসরি উত্তরপ্রদেশের পুলিশ আধিকারিকদের আচরণের তীব্র সমালোচনা করে ইলাহাবাদ হাই কোর্ট জানাল, উত্তরপ্রদেশ পুলিশের কর্তারা সংবিধানের প্রতি নয়, বরং ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতিই বেশি অনুগত! একই সঙ্গে আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা কোনও ব্যক্তির সুবিধা বা রাজনৈতিক প্রয়োজনের কাছে বন্দি থাকতে পারে না। রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আইন ও সংবিধানের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে, ক্ষমতায় থাকা কোনও রাজনৈতিক দলের কাছে নয়।

উত্তরপ্রদেশের গুন্ডাদমন আইনে হওয়া একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গাজ়িয়াবাদের বাসিন্দা রাজেন্দ্র ত্যাগীর দায়ের করা মামলার শুনানিতে উত্তরপ্রদেশে পুলিশকে নিয়ে ওই মন্তব্য করে হাই কোর্ট। গত ৩ জুনের এক রায়ে হাই কোর্টের বিচারপতি বিনোদ দিবাকর বলেন, উত্তরপ্রদেশে ‘রাজনীতিক ও আমলাদের সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতা’ দীর্ঘ দিন ধরে সাংবিধানিক শাসনকে জনগণের সেবার বদলে ব্যক্তিগত কর্তৃত্বের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিভিন্ন সরকারের আমলে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো রাজনৈতিক প্রভাবের গভীরে ঢুকে পড়েছে। আদালত আরও জানায়, উত্তরপ্রদেশে পুলিশ আধিকারিকদের বদলি থেকে পদোন্নতি— অনেক ক্ষেত্রেই যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় না, হয় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার ভিত্তিতে। বেঞ্চের মন্তব্য, ‘‘ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ বলে যাঁদের মনে করা হয়, তাঁরা শহরের কমিশনারেট বা গুরুত্বপূর্ণ জেলায় পছন্দসই পদ পান। অন্য দিকে স্বাধীন ভাবে কাজ করা আধিকারিকদের শাস্তিমূলক ভাবে গুরুত্বহীন পদে বদলি করা হয়। এ’টি সকলেরই জানা।’’

বিচারপতি দিবাকর বলেন, ‘‘অনেক আধিকারিকের আনুগত্য সংবিধানের প্রতি নয়, বরং ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতি। বদলি, পদোন্নতির মতো বিষয় মাথায় রেখে নিচু পর্যায়ের আধিকারিকেরা প্রায়ই রাজনৈতিক কর্তাদের সন্তুষ্ট করার জন্য কাজ করেন।’’ আদালতের পর্যবেক্ষণ, বেছে বেছে অভিযান চালানো, এনকাউন্টার এবং সরকারের অপছন্দের লোকেদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনের ব্যবহার নিয়ে অতীতেও আদালতের নজরে একাধিক অভিযোগ এসেছে।

একই সঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ, আধিকারিকদের একটি বড় অংশ আইনের শাসনকে সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে নয়, বরং প্রশাসনিক অসুবিধা হিসেবে দেখেন। এই প্রসঙ্গে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া না মেনে গ্রেফতার করা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এফআইআর দায়ের করা বা অভিযোগ চাপা দেওয়া এবং খেয়ালখুশি মতো প্রতিরোধমূলক আটক আইন প্রয়োগের অভিযোগও তুলে ধরেছে আদালত। বিচারপতি দিবাকরের কথায়, ‘‘ফৌজদারি কার্যবিধি এবং বর্তমানে কার্যকর ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার সুরক্ষাবিধিগুলি বহু ক্ষেত্রেই উপেক্ষা করা হয়। আদালতের নির্দেশ কাগজে-কলমে মানা হলেও বাস্তবে তার উদ্দেশ্য ভেস্তেদেওয়া হয়।’’

যে মামলাটি প্রসঙ্গে আদালতের এই কড়া পর্যবেক্ষণ, সেই আইন সংক্রান্ত একাধিক বিষয় বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনাধীন থাকায় এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত রায় দেয়নি হাই কোর্ট। তবে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবের ভূমিকার সমালোচনা করে আদালত সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের ভূমিকা স্বাধীন ভাবে মূল্যায়ন করতে।

সংবাদ সংস্থা

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন