Water Pollution

সম্পাদক সমীপেষু: আগাম সতর্কতা

মন্ত্রীর বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিয়ো পরবর্তী সময়ে সংবাদ চ্যানেল মুছে ফেলায় বা ফেলতে বাধ্য হওয়ার ঘটনায় সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, যা সমর্থনযোগ্য।

শেষ আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪২
Share:

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের ভগীরথপুরা পুরসভার বিষাক্ত জল পান করে শ’দুয়েক লোকের অসুস্থ হয়ে পড়া এবং ১৩ জনের মৃত্যুর প্রসঙ্গে “দূষিত জলে ১৩ মৃত্যু, কৈলাস বললেন ‘ঘণ্টা’!” (২-১) শীর্ষক সংবাদটিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার অভাব প্রকট হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে সেই রাজ্যের মন্ত্রীর এই ধরনের বক্তব্যের সমালোচনার কোনও ভাষা নেই। বেশ কিছু দিন ধরে ওই এলাকার মানুষ দূষিত জল নিয়ে অভিযোগ জানালেও কর্তৃপক্ষ তা নিয়ে কোনও ব্যবস্থাই করেননি, এই মর্মান্তিক ঘটনাই তার প্রমাণ। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনা এবং তাতে ক্ষতিপূরণ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে গিয়েছিল। মন্ত্রীর বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিয়ো পরবর্তী সময়ে সংবাদ চ্যানেল মুছে ফেলায় বা ফেলতে বাধ্য হওয়ার ঘটনায় সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, যা সমর্থনযোগ্য।

তবে রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ঘটনা যেন আমাদের রাজ্যেও না-ঘটে, সে দিকে আগে থেকেই নজর দেওয়া এবং ইন্দোরের আক্রান্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তৃণমূলের পক্ষ থেকে সেখানে কোনও প্রতিনিধি পাঠানোও এই সমালোচনার পাশাপাশি উচিত ছিল বলেই মনে হয়। কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে, অন্য অনেক ক্ষেত্রেই এই ধরনের পদক্ষেপের নজির আমরা আগেও লক্ষ করেছি।

প্রসঙ্গত, রিষড়া পুরসভার বেশ কিছু ওয়র্ডে বাড়ির কল থেকে প্রায়শই এত অপরিষ্কার জল বার হয়, তা পান করা তো দূরের কথা, স্নান করা বা জামাকাপড় কাচারও অযোগ্য। এর ফলে মানুষ বাধ্য হচ্ছেন নিত্য ব্যবহারের জন্য জল কিনতে এবং রমরমা বাড়ছে এই সমস্ত জল বিক্রেতার। যদিও এই জল নিয়েও আছে বিস্তর অভিযোগ এবং অজ্ঞাত কারণে পুর কর্তৃপক্ষও এই সব অভিযোগ বিষয়ে নীরব থাকেন। যাঁদের এই জল কেনার বা বাড়িতে শোধনযন্ত্র বসানোর সামর্থ্য নেই, তাঁরা মাঝেমধ্যেই আক্রান্ত হচ্ছেন পেটের অসুখে। সমস্ত কিছু জেনেও এই ধরনের অবহেলা বা গাফিলতির পরিণতি কিন্তু যে কোনও দিনই মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে আমাদের রাজ্যেও। তাই শাসক দলের পক্ষ থেকে রাজ্যের সমস্ত পুরসভা এবং পঞ্চায়েতকে এই বিষয়ে অবিলম্বে আগাম সতর্ক করা প্রয়োজন বলেই মনে হয়।

অশোক দাশ, রিষড়া, হুগলি

শৌচালয় চাই

মেট্রো রেল এখন কলকাতার জীবনরেখা। সর্বপ্রথম চালু হওয়া ব্লু লাইনে বর্তমানে দৈনিক যাত্রী-সংখ্যা কয়েক লক্ষ। বছর দুয়েক আগে চালু হওয়া গ্রিন লাইনে দৈনিক যাত্রী-সংখ্যা লক্ষাধিক। বাকি তিনটি আংশিক ভাবে চালু হওয়া লাইনে, অর্থাৎ অরেঞ্জ, ইয়েলো ও পার্পল লাইনে দৈনিক যাত্রী-সংখ্যা নেহাতই নগণ্য। তবে যাত্রী-সংখ্যা যা-ই থাক না কেন, মেট্রোর মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি গণপরিবহণ ব্যবস্থায়, প্রতিটি স্টেশনে শৌচালয় থাকাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অথচ, মেট্রো-যাত্রীদের দুর্ভাগ্য, তাঁরা এই সামান্য সুবিধাটুকু থেকে অনেক স্টেশনেই বঞ্চিত।

ব্লু লাইনে দক্ষিণেশ্বর থেকে রবীন্দ্র সরোবর পর্যন্ত কোনও স্টেশনেই শৌচালয় নেই। টালিগঞ্জ স্টেশনের বাইরে একটি শৌচালয় আছে, যেটি সম্ভবত কলকাতা কর্পোরেশনের অধীনে, মেট্রোর অধীনে নয়। তবে তাতে যাত্রীদের প্রয়োজন মিটে যায় বলে ওই স্টেশনে আর আলাদা ভাবে শৌচালয় না বানালেও হয়তো অসুবিধা হবে না। কিন্তু অন্য সমস্ত স্টেশনে কি তেমন সুবিধা যথেষ্ট আছে? থাকলেও সেগুলি কি যাত্রীদের ব্যবহারের উপযুক্ত অবস্থায় থাকে? যাত্রীদের সৌভাগ্য, গ্রিন লাইনের অনেক স্টেশনেই শৌচালয় পরিলক্ষিত হয় ও যাত্রীরা তা ব্যবহার করেন। তবে কোনও কোনও স্টেশনে শৌচালয় সাময়িক ভাবে কিছু দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল, পরে অবশ্য তা আবার খুলে দেওয়া হয়েছে। পার্পল লাইনে কেবলমাত্র মাঝেরহাট স্টেশনে শৌচালয় পরিলক্ষিত হয় ও যাত্রীরা তা ব্যবহার করতে পারেন। এই লাইনের বাকি স্টেশনগুলিতে শৌচালয় পরিলক্ষিত হয় না। অরেঞ্জ ও ইয়েলো লাইনে শৌচালয় আছে কি না, আমার জানা নেই।

মেট্রো কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, অবিলম্বে যে সব স্টেশনে যাত্রী-সংখ্যার যথেষ্ট চাপ রয়েছে, সেখানে শৌচালয়ের ব্যবস্থা করা হোক। এখন গ্রিন লাইনে যে শৌচালয়গুলি চালু আছে, সেগুলি নিঃশুল্ক শৌচালয়। প্রতিটা স্টেশনের শৌচালয় হওয়া উচিত সুলভ শৌচালয়, অর্থের বিনিময়ে যেখানে শৌচালয় ব্যবহার করা যাবে। তবেই শৌচালয়ের পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকবে। না-হলে আর পাঁচটা পাবলিক টয়লেটের মতো অচিরেই নরকে পরিণত হবে মেট্রোর শৌচালয়। কলকাতা মেট্রো কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা করার আর্জি রাখছি।

ইন্দ্রনীল ঘোষ, লিলুয়া, হাওড়া

কাজের সুযোগ

সম্প্রতি ওড়িশায় গণপ্রহারে মৃত পরিযায়ী শ্রমিক জুয়েল রানার স্ত্রীকে রাজ্য সরকার চাকরি দিয়েছে। জরুরি পদক্ষেপ। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। এখনও হাওড়া স্টেশন থেকে দক্ষিণ বা পশ্চিম ভারতের দিকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোর অধিকাংশ ভরে থাকে এই রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকে। বাইরের রাজ্যে প্রাণ হাতে করে ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে কাজ করতে যেতে তাঁরা বাধ্য হন শুধুমাত্র অধিক মজুরির জন্য এবং এই রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাবে। এই রাজ্যে সে রকম বড় শিল্প বিগত পনেরো বছরে গড়ে উঠতে পারেনি। তাই একটা বড় অংশের গন্তব্য ভিন রাজ্য। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের স্ত্রী-কে সরকারি চাকরি দেওয়া, বা পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দানের ব্যবস্থা করলেই সরকারের সব দায়িত্ব পালন করা হয়ে যাবে না। এই রাজ্যে বড় শিল্প গড়ে তোলার দিকে নজর দিতে হবে। একমাত্র তবেই ভিন রাজ্যে চলে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের স্রোতকে আটকানো যাবে। অন্য রাজ্যে তাঁদের অনিশ্চয়তার মধ্যে বাস করা আটকানো যাবে।

অভিজিৎ ঘোষ, ভুবনকালুয়া, পূর্ব মেদিনীপুর

সময়সীমা

আমি সিইএসসি-র এক জন গ্রাহক। সংস্থা প্রতি মাসে বিদ্যুতের মিটার রিডিং কবে করবে, সেই তারিখটি ইমেল মারফত আগাম জানিয়ে দেয়। কিন্তু সমস্যা হল, ওই তারিখে কোন সময়ে ওদের আধিকারিক মিটার রিডিং করতে আসবেন, সেই ব্যাপারে গ্রাহক পুরোটাই অন্ধকারে থাকেন। এখন প্রত্যেক বাড়িতেই বাসিন্দার সংখ্যা কমে গিয়েছে। অনেক সময়েই নানা কাজে বেরোতে হয়। দিনের যে কোনও সময়ে মিটার রিডিং করতে এলে আমার মতো বহু প্রবীণ নাগরিকেরই অসুবিধা হয়। উক্ত দিনে কোনও গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকলেও মুলতুবি রাখতে হয়। যদি আধিকারিক এসে আমাদের না পান বাড়িতে। সিইএসসি যদি এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়, যেমন সকাল ন’টা বা দশটা পনেরো, তবে গ্রাহকদের কিছুটা উপকার হয়। এই সময়সীমা বেঁধে দেওয়া সম্ভব, কারণ মিটার রিডিংয়ের এই প্রথা বহু দিন ধরেই চলে আসছে। সিইএসসি-র তথ্যভান্ডারও এই বিষয়ে যথেষ্ট সমৃদ্ধ বলেই মনে হয়। গ্রাহকদের সুবিধার্থে, সংস্থার কাছ থেকে এইটুকু সৌজন্য আশা করতেই পারি।

সুরজিত সাহা, কলকাতা-৩৩

লক্ষ্যভ্রষ্ট

আমাদের পাড়ায় এক জায়গায় দু’টি আবর্জনা ফেলার ড্রাম রাখা আছে। কিন্তু কিছু মানুষ ড্রামটির কাছাকাছি গিয়ে তার ভিতর ময়লা না ফেলে, দূর থেকে ছুড়ে ময়লার প্যাকেটটি ফেলেন। অনেক ক্ষেত্রেই সেটি বাইরে পড়ে ময়লা চারদিকে ছড়িয়ে যায়। এ ভাবে টিপ প্র্যাকটিস না-করে একটু এগিয়ে ময়লা ফেললে অসুবিধা কোথায়?

উজান দাস, কলকাতা-৩২

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন