Kolkata Book Fair

নাছোড় বেঁচে থাকার গল্প বলতেই বইমেলায় ইউক্রেন

কলকাতা বইমেলার পুরনো অতিথি রাশিয়া। ইউক্রেনের এ বারই আবির্ভাব। দিল্লির দূতাবাসের তথ‍্য-সংস্কৃতি বিষয়ক সেকেন্ড সেক্রেটারি ভলোদিমির প্রিতুলা ইউক্রেনের ভিশিভাঙ্কা নকশার বাহারি ঐতিহ‍্য শার্ট গায়ে কন‍্যাকর্তার ঢঙে ঘুরছেন।

ঋজু বসু

শেষ আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫২
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

‘কিছু মনে করবেন না, রাশিয়ার পতাকার পাশে আমাদেরটা রাখবেন না’! বইমেলার মাঠে পতাকার ছবি দিয়ে পথ নির্দেশ দেখে থমকে দাঁড়ান ইউক্রেন দূতাবাসের কর্তা। আর্জেন্টিনার প্যাভিলিয়নের অদূরে একটি ফলকে রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া আর ইউক্রেনের পতাকা। ঠিক পিছনে ইউক্রেনের চিলতে ঘর। উল্টো দিকে পেরুর তল্লাটের পিছনে দু’পা এগোলেই রাশিয়ায় পৌঁছনো যাবে।

কলকাতা বইমেলার পুরনো অতিথি রাশিয়া। ইউক্রেনের এ বারই আবির্ভাব। দিল্লির দূতাবাসের তথ‍্য-সংস্কৃতি বিষয়ক সেকেন্ড সেক্রেটারি ভলোদিমির প্রিতুলা ইউক্রেনের ভিশিভাঙ্কা নকশার বাহারি ঐতিহ‍্য শার্ট গায়ে কন‍্যাকর্তার ঢঙে ঘুরছেন। গিল্ডের দফতর থেকে মহাশ্বেতা দেবীর নামাঙ্কিত সভাঘরে অনুষ্ঠান ও নিজেদের স্টল সামলাচ্ছেন তিনি। বললেন, “কিছু মনে করবেন না, ইউক্রেনে রাশিয়া যা করছে, তাতে ওদের পাশে নিজেদের পতাকাটা দেখতেও চোখে জ্বালা ধরছে।”

গত ৯ জানুয়ারি কিভে রুশ বিমানহানার পর থেকে হাঁড় কাপানো শীতেও তাপবর্ধক ব‍্যবস্থা বা বিদ‍্যুতের জোগান কার্যত বন্ধ। ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হানা চলছে রোজ রাতেই। কিভ থেকে সদ‍্য কলকাতায় আসা ইউক্রেনের ঔপন‍্যাসিক, ৪১ বছরের লিউবকো দেরেশ বললেন, “কিভে মাইনাস ১৫-২০ ডিগ্রিতেও ঘণ্টা দুই বিদ‍্যুৎ পাচ্ছি। রাশিয়া সরাসরি যুদ্ধে কব্জা করতে না পেরে বিদ‍্যুৎ ব‍্যবস্থা বিকল করে আমাদের জমিয়ে মারতে চায়! এই নিষ্ঠুরতার সঙ্গে স্বাভাবিক সৌজন‍্য বজায় রাখা অসম্ভব।”

এ বার রাশিয়ার তেমন কোনও অতিথি আসার কথা নেই। রুশদের প্রশস্ত স্টল কার্যত জনহীন হলেও ১০০ ফুটের ইউক্রেন তল্লাট জমজমাট। কলকাতার বধূ, এক ইউক্রেন কন‍্যা পতাকা নিয়ে ছবি তুলে গেলেন। লা মার্টিনিয়ের ফর গার্লসের দ্বাদশ শ্রেণির আন্দ্রিতা মহানন্দ এসেছে ইউক্রেনের জাতীয় সাজ, ফুলের মুকুট ভিনোকে সেজে। ইউক্রেনের জাতীয় কবি তারাস শেভচেঙ্কোর বিখ্যাত কবিতা জাপোভিত (টেস্টামেন্ট বা ইচ্ছাপত্র) উক্রাইনি ভাষায় সে গড়গড়িয়ে আবৃত্তি করল।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস থেকে প্রকাশিত, ইউক্রেনবাসী বাঙালি অধ‍্যাপিকা মৃদুলা ঘোষের ভাষান্তরে শেভচেঙ্কোর কবিতা বাংলায় পাওয়া যাচ্ছে স্টলে। পোল‍্যান্ডবাসী এক ইউক্রেনীয় লেখিকা জ়ানা স্লোনিওয়স্কার উপন‍্যাস ‘রঙিন শার্সিওয়ালা বাড়ি’র বাংলা তর্জমাও রয়েছে। ইউক্রেনের উপরে রুশ আগ্রাসন নিয়ে পোলিশ উপন্যাসটির বাংলা করেছেন সুলগ্না মুখোপাধ্যায়। এ ছাড়া ইউক্রেন বিষয়ক নানা বইও দ্রষ্টব্য। সোভিয়েত জমানায় প্রকাশিত শেভচেঙ্কোর বাংলা জীবনীও রয়েছে।

আগে বইমেলায় আসেননি কেন? শুনে লাজুক স্বরে ভলোদিমির বললেন, “দিল্লি বইমেলা, জয়পুর সাহিত‍্য উৎসব, কেরলের সাহিত্য উৎসবেও এই প্রথম গেলাম। যুদ্ধটা শুরু হওয়ার বুঝতে পারছি, এ ভাবেও নাছোড় বেঁচে থাকার গল্পটা বলতে হবে। আশা করি, এ বার থেকে নিয়মিত আমাদের কলকাতায় দেখবেন।”

স্কুলছাত্রী আন্দ্রিতা মহানন্দ রবিবার, বইমেলায়। —নিজস্ব চিত্র।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন