কলকাতার বুকে দু’টি গাড়ি দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই চিঠি। ‘গাড়ি বিক্রির পরে মালিকানা বদলে নজর বাড়ুক, দাবি রেড রোড-কাণ্ডে’ (২৬-১) শীর্ষক খবরে রেড রোডে ২৬ জানুয়ারি উপলক্ষে কুচকাওয়াজের মহড়ায় গাড়ি নিয়ে বেপরোয়া গতিতে ঢুকে পড়ায় গ্রেফতার হন ২১ বছরের এক যুবক। সৌভাগ্যবশত ঘটনায় কেউ আহত হননি। কিন্তু ওই একই দিনে প্রকাশিত ‘পার্ক স্ট্রিটে দুর্ঘটনায় নিখোঁজ গাড়িচালক, সঙ্কটজনক মহিলা’ শীর্ষক সংবাদে প্রকাশিত ঘটনাটিতে অতটা সৌভাগ্যবান ছিলেন না পথচারী। গাড়ির ধাক্কায় মারাত্মক জখম হয়েছেন তিনি।
দু’টি ক্ষেত্রেই একটি বিষয়ে মিল আছে। দু’টি গাড়িই হাতবদল হলেও সরকারি দফতরে তা নথিভুক্ত করা হয়নি। যার ফলে দ্বিতীয় ক্ষেত্রে গাড়ি চিহ্নিত করা গেলেও মালিক-সহ ঘাতক গাড়িকে সঙ্গে সঙ্গে ধরা যায়নি। প্রথম ক্ষেত্রে তা করা গিয়েছে। প্রশ্ন হল, সরকারি দফতরে নথিভুক্ত না-করেই গাড়ির মালিকানা বদল হচ্ছে কী করে? এতে দু’টি দিক দিয়ে ক্ষতি হচ্ছে। মালিকানা বদলের জন্য সরকারি দফতর কোনও টাকা পাচ্ছে না। আর এই ধরনের গাড়ি কোনও অসামাজিক কাজ করলে প্রকৃত মালিক কে, সেটি খুঁজে বার করতে পুলিশও পড়ছে মুশকিলে।
এ ক্ষেত্রে অবশ্যই কড়া নিয়ম আনা দরকার যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। বিশেষত, পুরনো মালিক যদি সঠিক প্রক্রিয়ায় গাড়ি বিক্রি না-করে থাকেন, তবে তাঁকেও আটক করতে হবে।
সুকুমার মুখোপাধ্যায়, কলকাতা-১৪৯
অপাত্রে দান?
২০২৪ সালে স্বদেশি প্রযুক্তিতে ফোর-জি চালু করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিএসএনএল। যেখানে অন্য বেসরকারি টেলিকম সংস্থাগুলি ফাইভ-জি শেষ করে আরও উন্নত প্রযুক্তির দিকে এগিয়ে চলেছে, তখন এদের ফোর-জি পরিষেবা নিয়ে অনেক প্রশ্ন থেকে যায়। বিএসএনএল ফোর-জি চালু করলেও সমস্ত অঞ্চলে তার উপস্থিতি নেই। ফোর-জি’র সঙ্গে অত্যাবশ্যক ভোল্ট সার্ভিস পাওয়া যায় না। বহু ঢাকঢোল পিটিয়ে ভো-ওয়াইফাই চালু করলেও কোনও গ্রাহক তা তাঁদের মোবাইলে পান না। গ্রাহকরা সমাজমাধ্যমে তাঁদের ক্ষোভ উগরে দিলেও কর্তৃপক্ষ নীরব। এ বছর বাজেটেও বিএসএনএল-কে পুনরুজ্জীবিত করতে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ করেছে সরকার। কিন্তু গ্রাহকের সমস্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনও হেলদোল নেই। এমন চলতে থাকলে পুনরুজ্জীবনের নামে জনগণের টাকা যে জলে যাবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, বাস্তব বিবেচনা করে একটু গ্রাহকমুখী হোন।
স্বপন চক্রবর্তী, কলকাতা-৯২
হয়রানি
সম্প্রতি এক সঙ্কটের সম্মুখীন হলাম। ভারতের সর্ববৃহৎ ব্যাঙ্কের এক শাখা থেকে এসএমএস-এর মাধ্যমে কেওয়াইসি জমার নির্দেশ আসায় আমি আমাদের তিন জনের নামের অ্যাকাউন্টের কেওয়াইসি জমা দিতে গিয়েছিলাম। সব কাগজ সমেত তথ্য জমা দেওয়ার পর নির্দেশ এল সবাইকে উপস্থিত হতে হবে, নয়তো কেওয়াইসি কার্যকর হবে না। এত দিন এ ভাবেই চলছিল। আমাদের তিন জনের বয়স যথাক্রমে ৮৬, ৭২, ৭১ বছর। আমি সর্বকনিষ্ঠ। এখনও হাঁটাচলা করতে পারি এবং সিঁড়ি ভাঙতে পারি। অন্যদের তাতে যথেষ্ট অসুবিধা হয়। এ ভাবে যদি প্রবীণ নাগরিকদের হয়রান হতে হয়, তা হলে তাঁরা যাবেন কোথায়?
ধ্রুব দাশগুপ্ত, কলকাতা-৬৭
বন্ধ সাবওয়ে
শিয়ালদহ চত্বরে মেট্রো রেল চালু হওয়ার পর থেকে শিয়ালদহ স্টেশনের সাবওয়ে কার্যত বন্ধ হয়ে রয়েছে। কেননা, স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে সাবওয়ের গেট দিয়ে নেমে সোজা চলে গেলে মেট্রো রেলের কাউন্টারে পৌঁছনো যায়। সাবওয়ে দিয়ে বেরিয়ে বাইরে যাওয়া যায় না। অথচ, এই সাবওয়ের প্রায় মাঝামাঝি জায়গায় বাঁ দিকে বেরোনোর পথ রয়েছে। কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরে তা বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। এই সমস্যার আশু সমাধান চাইছি।
জয়ন্ত ভট্টাচার্য, কলকাতা-১০৩
গুরুত্বহীন
অতীতে ব্যাঙ্ককর্মী থাকার সুবাদে বহু ব্যাঙ্ক ধর্মঘটে শামিল ছিলাম। সেই ঝাঁঝ জানুয়ারি শেষের ধর্মঘটে আদৌ পেলাম না। শুধুমাত্র শনি-রবিবার ছুটির জন্য গোটা ব্যাঙ্ক শিল্পে তালা মেরে দেওয়া অযৌক্তিক মনে হয়। অথচ, জটিল কিছু সমস্যার কথা এখানে ঊহ্য রেখে দেওয়া হল। শাখাগুলিতে ভীষণ রকম কর্মী সঙ্কোচন চলছে। কাজের চাপে কোথাও কোথাও আত্মহত্যা করার ঘটনাও শুনতে হচ্ছে। অনেকেই শারীরিক ও মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্কে গচ্ছিত টাকা মুহূর্তের মধ্যে হ্যাকার আত্মসাৎ করছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে জনগণকে সজাগ থাকতে বলেছেন।
ব্যাঙ্কের এক সময়ের কর্মী যাঁরা আজ পেনশনপ্রাপক, তাঁদের আর্থিক দুর্গতি সীমাহীন। গত তিরিশ বছর বাজারের আমূল পরিবর্তন ঘটলেও মূল পেনশন একই রেখে দেওয়া হয়েছে। ব্যাঙ্কের টাকা হ্যাকারের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখার দায় ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের। সে বিষয়ে ব্যাঙ্ককে গুরুত্ব দিয়ে ভাবার দাবি ইউনিয়ন করতে পারত। পারত পেনশনপ্রাপকদের টাকা বাড়ানোর দাবি করতে। তাতে ব্যাঙ্ক ইউনিয়নের সামাজিক দায়বদ্ধতাটি ফুটে উঠত। সে সব বাদ দিয়ে শুধুমাত্র সপ্তাহান্তে ছুটির দাবি কেন?
স্বপন কুমার ঘোষ, কলকাতা-৩৪
তথ্য-হীন
ব্যাঙ্কে নতুন পাসবই করার সময় প্রয়োজনীয় সমস্ত নথির সঙ্গে মোবাইল নম্বরও নেওয়া হয়। পুরনো বইয়ের ক্ষেত্রে তখন মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক না-থাকলেও বর্তমানে কেওয়াইসি আপডেট করার সময় মোবাইল নম্বর সংযোজন করা হচ্ছে। অথচ, প্রথম শ্রেণির বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক গ্ৰাহকের চিঠিপত্রে মোবাইল নম্বর উল্লেখ করে না। তার উপর গ্ৰাহকের যথাযথ নাম ঠিকানাও দেওয়া থাকে না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে পোস্ট অফিসের পিয়ন গ্ৰাহকের সন্ধান না-পেয়ে চিঠিপত্র আন-ডেলিভারড বলে ফেরত পাঠিয়ে দেন। গ্ৰাহককে হয়রানির শিকার হতে হয়, বিশেষত এটিএম কার্ড সময়মতো হাতে না পেলে। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আবেদন রইল।
মঙ্গলকুমার দাস, রায়দিঘি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা
অবহেলার ফল
ঐতিহ্যবাহী বিবেকানন্দ সেতু (বালি ব্রিজ)-র বালিঘাট সংলগ্ন এলাকার এক গুরুতর সমস্যার দিকে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এই চিঠি। বেশ অনেক দিন হল সেতুর বালিঘাটের দিকে প্রবেশমুখটি কার্যত একটি খোলা শৌচাগার ও আবর্জনা ফেলার স্থানে পরিণত হয়েছে। সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা দুর্গন্ধ ও পচা আবর্জনার কারণে এলাকাটি দিয়ে চলাচল করা কার্যত অসহ্য হয়ে উঠেছে। এ ছাড়াও, আবর্জনা ও অবৈধ দখলের কারণে গঙ্গাঘাটে নামার সিঁড়িগুলিতে আর পা দেওয়াই যায় না। ফলে সাধারণ মানুষের গঙ্গা নদীতে নামতে ও ধর্মীয় কাজকর্ম করতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। স্বামী বিবেকানন্দের নামাঙ্কিত একটি ঐতিহ্যবাহী সেতু এবং পবিত্র দক্ষিণেশ্বর মন্দির সংলগ্ন এলাকায় এ ধরনের চরম অবহেলা অত্যন্ত লজ্জাজনক। অবিলম্বে নিয়মিত সাফাই, আবর্জনা অপসারণ, পর্যাপ্ত শৌচাগার নির্মাণ এবং কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা করবেন এবং সমগ্র এলাকার পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে আনবেন।
অয়ন সরকার, আড়িয়াদহ, উত্তর ২৪ পরগনা
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে