‘সংখ্যালঘু ও ভোট রাজনীতি’ (১৮-১২) শীর্ষক প্রেমাংশু চৌধুরীর প্রবন্ধ পড়ে মনে হল তাঁর বক্তব্য অর্ধসত্য। কারণ, আজ কেন্দ্র-সহ অধিকাংশ রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায়। এই সব রাজ্যের কোথাও বিজেপির ভোটব্যাঙ্কের ধারে-কাছে নেই মুসলিমরা। হয়তো তাঁদের কিছু অংশ বিজেপিকে ভোট দিয়ে থাকতে পারেন, তবে তাকে ভোটব্যাঙ্ক বলা যায় না। বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক ‘হিন্দু’রা। ২০০৪ সালে ‘ইন্ডিয়া শাইনিং’ লোগো লাগিয়ে নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এতটাই দেখেছিলেন যে, বাজপেয়ী সরকার আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নির্বাচন এগিয়ে এনেছিল। পরিণতি সবার জানা। পর পর দু’টি মেয়াদ বিজেপি ক্ষমতায় ফিরতে পারেনি।
২০১৪ সালে আরএসএস-এর পোস্টারবয় নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি ক্ষমতায় ফিরলে গত বারো বছরে আরএসএস অ্যাজেন্ডা মেনে রামমন্দির নির্মাণ, তিন তালাক রদ, কাশ্মীরের জন্য ৩৭০ ধারা রদ ইত্যাদি বিতর্কিত বিষয়গুলি কার্যকর করেছে সরকার এবং হাতেনাতে তার ফল পেয়েছে বিজেপি। আবার সম্প্রতি কেরলের তিরুঅনন্তপুরমের পুর নির্বাচনে বিজেপির জয় কেরলে বিজেপির এক রকম রাজনৈতিক প্রবেশ বলে ধরে নেওয়া যায়। ঘটনা ছোট হলেও মুসলিম, খ্রিস্টান অধ্যুষিত রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে উল্লেখযোগ্য ঘটনা বইকি। এখানে মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক কাজ করল কি?
তবে এ কথা সত্যি যে, রাজনৈতিক মহলে একটা কথা খুব চালু, নির্বাচনী লড়াইকে পরীক্ষা বলে ধরে নিয়ে পূর্ণমান ১০০ ধরে নিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল সেই লড়াইয়ে নামে আগাম ত্রিশ নম্বর হাতে নিয়ে (৩০% মুসলিম ভোট) আর বিরোধীরা নামছে শূন্য নম্বর নিয়ে। এই দৌড়ে তৃণমূল আটকে যাচ্ছে ৪৫%-এ। একদম ঘাড়ের কাছে বিজেপি নিঃশ্বাস ফেলছে ৩৮% নিয়ে। সুতরাং ২০২৬-এর নির্বাচন অবশ্যই কঠিন লড়াই তৃণমূলের। বিজেপির এই ৩৮% ভোট এক রকম ধরে নেওয়া যায় স্থির ভোট হিসেবে। প্রবন্ধকারের বক্তব্যের সঙ্গে আমি এই বিন্দুতে সহমত যে, সামাজিক ভাবে অনুন্নত মুসলিম সম্প্রদায় কেবল ভোটব্যাঙ্ক হয়েই কাটিয়ে দিল এত বছর, সামাজিক উন্নয়ন কিছু হল না। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি ব্যাপক ভাবে আহত করেছে সমাজের যুবক-যুবতীদের। সরকারি চাকরি বাতিল হয়ে তাঁরা হতাশ এবং এই সব পরিবারের যোগ্য ভোটাররা শাসক দলের সমর্থনে ভবিষ্যতে থাকবেন কি না, সন্দেহ যথেষ্ট। বাবরের নামে মসজিদ নির্মাণের শিলান্যাস করে মুসলিম জনমানসে বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে বেশ সাড়া জাগিয়েছে এবং সিপিএম, আইএসএফ ইত্যাদি রাজনৈতিক দলগুলিকে কাছে এনে দিয়েছে। যে সব ভোট এত দিন তৃণমূলে যেত, তাতে থাবা বসাতে পারলেই বিজেপির কেল্লা ফতে। কিন্তু একটা সম্ভাবনা মাথায় রেখে বলতেই হয়, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল যদি ত্রিশঙ্কু হয় এবং হুমায়ুনের প্রস্তাবিত দল কোনও কারণে লক্ষণীয় সংখ্যক আসন পায়, তবে বিজেপিকে ঠেকাতে সেই দল যে শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের তীরে গিয়ে নৌকা ভেড়াবে না, এমন কথা বলা যায় না।
তারক সাহা, হিন্দমোটর, হুগলি
নির্ধারক
প্রেমাংশু চৌধুরীর প্রবন্ধ ‘সংখ্যালঘু ও ভোট রাজনীতি’ পড়ে ঋদ্ধ হলাম। ভারতের গণতন্ত্র বহুধাবিভক্ত সমাজের উপর দাঁড়িয়ে। ভাষা, জাতি, ধর্ম ইত্যাদি নানা বৈচিত্রের মধ্যেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক ভূমিকা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই ভূমিকা শুধু সংখ্যাগত নয়, বরং রাজনৈতিক কৌশল ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গেও গভীর ভাবে যুক্ত। দেশের সংবিধান সংখ্যালঘুদের সমানাধিকারের পাশাপাশি ভোটাধিকারও নিশ্চিত করেছে। কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সংখ্যালঘু ভোট দীর্ঘ দিন ধরেই ‘ভোট ব্যাঙ্ক’ হিসেবে চিহ্নিত। বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যালঘুদের ভোটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলির কৌশল স্পষ্ট ভাবে ধরা যায়।
পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘুরা মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশের বেশি। বামফ্রন্ট আমলে সংখ্যালঘুদের বড় অংশ ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে বামদলগুলিকে সমর্থন করেছিল। ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টের জয়ে এই ভোটের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করে। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোটের বড় অংশ তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকে পড়ে, যার ফলে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটে। পরবর্তী নির্বাচনগুলিতেও সংখ্যালঘু ভোটের সিংহভাগ তৃণমূলের পক্ষে থাকায় রাজ্যে বিজেপির উত্থান সত্ত্বেও ক্ষমতার পালাবদল হয়নি। এখানে সংখ্যালঘু ভোট এক প্রকার প্রতিরোধমূলক ভূমিকা পালন করেছে, যা তারা নিজেদের নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের প্রশ্নে জরুরি বলে মনে করেছে।
জাতীয় স্তরে সংখ্যালঘু ভোটের চরিত্র আরও জটিল। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র, কেরল প্রভৃতি রাজ্যে মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট অনেক আসনে ফল নির্ধারণ করে। ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির পরাজয়ের পিছনে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক শ্রেণির সম্মিলিত ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সংখ্যালঘু ভোট বিভক্ত হওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও তাঁরা কৌশলগত ভোট দিচ্ছেন। যে প্রার্থী সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে পরাস্ত করতে সক্ষম বলে মনে হয়, তাঁকেই সমর্থন করছেন। আবার কোথাও হতাশা ও বঞ্চনার কারণে ভোটে অনাগ্রহ বা কম উপস্থিতিও লক্ষ করা যাচ্ছে। সংখ্যালঘুদের ভোট রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তব জীবনে তাঁদের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থার বিশেষ উন্নতি হয়েছে এমনটা দাবি করা কঠিন। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে তাঁরা এখনও পিছিয়ে। নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি থাকলেও ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন প্রায়ই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কেবল ভোটের অঙ্কে সংখ্যালঘুদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, গণতন্ত্রের স্বার্থে সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে নীতিনির্ধারণ; উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারের স্তরে নিয়ে যাওয়াই আসল চ্যালেঞ্জ।
গৌতম পতি, তমলুক, পূর্ব মেদিনীপুর
মৃৎশিল্প
এক সময় বনগাঁর গলিঘুঁজিতে ভেসে আসত মাটি কাটা, চাক ঘোরা আর আগুনে পোড়া মাটির গন্ধ। বনগাঁর মৃৎশিল্প ছিল জীবিকার বড় উৎস। কিন্তু এখন সেই সব মাটির সামগ্রীকে ছাপিয়ে গেছে প্লাস্টিক ও ধাতব পণ্যের বাজার। সরকারি সাহায্য ও বিপণনের সুযোগ না থাকায় অনেকেই অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। জমির অভাবও বড় সমস্যা। অনেক কারিগর এখন মৃৎশিল্পের চুল্লি বসানোর জায়গা খুঁজে পান না। তবুও আশা আছে। বনগাঁর কিছু তরুণ এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মাটির সামগ্রী বিক্রি শুরু করেছেন। স্থানীয় মেলা বা হস্তশিল্প প্রদর্শনীতে যোগ দিয়ে চেষ্টা করছেন পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে। সরকারি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, স্বল্প সুদের ঋণ ও বিপণন সহায়তা পেলে বনগাঁর মৃৎশিল্প আবার নতুন প্রাণ পেতে পারে।
সুদীপ গুহ, বনগাঁ, উত্তর ২৪ পরগনা
সঙ্কুচিত
ডায়মন্ড হারবার রেল স্টেশনে তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মের সামনে একটি স্টল আছে। প্ল্যাটফর্মে ট্রেন ধরার মূল রাস্তায় স্টলটি থাকার কারণে যাতায়াতের চরম অসুবিধা হয়। প্রচুর মানুষ ডায়মন্ড হারবার হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন। রাস্তা সঙ্কুচিত হওয়ার কারণে তাঁরা সমস্যায় পড়েন।
সৈয়দ সাদিক ইকবাল, সিমলা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে