সম্পাদক সমীপেষু: ভক্তির গুঁতো

Pilgrims

আবার এসেছে শ্রাবণ। শুরু হয়েছে ‘জলযাত্রী’ এবং যাত্রাপথে তাঁদের সেবা করে পুণ্য অর্জনাভিলাষীর দাপাদাপি, যার ফলে এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। যাত্রাপথের আশেপাশের বাসিন্দাদের এই মরসুমে, বিশেষ করে শনি-রবিবার রাতের ঘুম কাবার। বাবার নামে জয়ধ্বনির হুঙ্কার, বাঁশ অথবা বাঁকে লাগানো ভোমা সাইজের ঘুঙুর কি ডফলির আওয়াজে মধ্যরাতে আতঙ্ক। ভক্তির গুঁতো এ বছর অনেক বেশি। বুঝ যে জন কারণ করহ সন্ধান। রাস্তার পাশে জলযাত্রীদের সেবা করার জন্য সুশোভিত প্যান্ডেল, আলোকসজ্জা এবং বড় চৌবাচ্চা-সাইজের বক্স চালিয়ে বিভিন্ন রসাশ্রিত গান চলছে। বাবার ভক্তেরা নির্দিষ্ট মাচায় বাঁক রেখে গানের তালে পা এবং শরীর মেলাচ্ছেন। রাস্তায় মারাত্মক জ্যাম-জট। পথের পাশে যত্রতত্র বিশ্রাম নিচ্ছেন, শুয়ে পড়ছেন যাত্রীরা। ধূম্রসেবন চলছে। নিক্ষিপ্ত বর্জ্যে ভরে উঠছে এলাকার পথঘাট। শ্রাবণমেলা উপলক্ষে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছেন রেল-কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীদের সামাল দিতে তা একেবারেই অপ্রতুল। শুধু তারকেশ্বর নয়, সারা পূর্ব ও উত্তর ভারতে শ্রাবণ মাস জুড়ে চলছে এই উদ্দীপনার ঝাপ্টা। ধর্মের আবেগে হাত না-দিয়ে সরকার এঁদের জন্য আলাদা করিডরের কথা ভাবতেই পারে। ধর্মের সঙ্গে ধর্মাচরণকে গুলিয়ে ফেলেন না, এমন মানুষও আছেন। তাঁরা কি একটু নাগরিক সুবিচার আশা করতে পারেন না?

বিশ্বনাথ পাকড়াশি

শ্রীরামপুর-৩, হুগলি

ওয়াকি টকি

‘কী বলছে পুলিশ, ধরছে ওয়াকিটকি’ (২৯-৭) শীর্ষক প্রতিবেদনটি অসত্য এবং বিভ্রান্তিমূলক। যে ওয়াকিটকি সেটগুলির উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলি ১২০ এ, মানিকতলা মেন রোড, কলকাতা-৫৪, থানা মানিকতলা ঠিকানায় ব্যবসায়ী পরশুরাম প্রসাদ সম্পূর্ণ আইনসম্মত ভাবে ই-টেন্ডারের ভিত্তিতে ক্রয় করেন এবং এতদসম্পর্কিত সমস্ত আইনগত ও পদ্ধতিগত ধারাগুলি সুচারু রূপে সম্পাদিত হয়। বিক্রয়ের পূর্বে, নিয়মানুসারে, এই সেটগুলি সম্পূর্ণ অব্যবহার্য অবস্থায় আছে কি না বিশেষজ্ঞ দ্বারা যাচাই করে নেওয়া হয়েছে। সুতরাং এই সেটের (বা এগুলির কোনও একটির) মাধ্যমে অফিসারদের ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন শুনতে পাওয়ার অংশটি সম্পূর্ণ ভাবেই অসত্য এবং চরম বিভ্রান্তিকর। এই ধরনের প্রতিবেদনের ফলে পাঠককুলে ও জনসমাজে নিরাপত্তাহীনতার বোধ সৃষ্টি হচ্ছে, যা সামগ্রিক ভাবে সামাজিক সুস্থিতি ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক।

কল্যাণ মুখোপাধ্যায়

উপনগরপাল, পূর্ব শহরতলি, কলকাতা পুলিশ

প্রতিবেদকের উত্তর:  কলকাতা পুলিশের উপনগরপাল (পূর্ব শহরতলি বিভাগ) বলছেন, ই-টেন্ডারের ভিত্তিতে ওয়্যারলেস সেটগুলি বিক্রি করা হয়। এবং, ওই সেটগুলি যে অকেজো, বিক্রির আগে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে তা যাচাই করিয়ে নেওয়া হয়। ফলে পুলিশের ‘ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন’ শুনতে পাওয়ার বিষয়টি অসত্য।

ঘটনা হল, ওই ‘বৈধ বিক্রেতা’র বিক্রীত সেটে যে পুলিশের কথোপকথন ধরা পড়ছে, সেই ভিডিয়ো আনন্দবাজারের হাতে আছে। এমনকি, বিভিন্ন সময় ক্রেতাদের ওই ‘বৈধ কারবারি’ কী বলছেন, তার ভয়েস রেকর্ডিংও পত্রিকার কাছে রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, বিক্রি করার সময় বিক্রেতার দোকানের ছবি, থরে থরে সাজানো সেটের ছবি, তার কথোপকথনের ভিডিয়ো পত্রিকার সংগ্রহে রয়েছে।

‘আইনসম্মত ভাবে’ বিক্রি করা সেটে যে ‘কোল পোল’ লেখা উঠছে, তা প্রতিবেদনের সঙ্গেই ছাপা হয়েছে। ‘সম্পূর্ণ অব্যবহার্য অবস্থায়’ থাকা সেটে যদি এমন লেখা ভেসে ওঠে, এবং তা যদি স্বাভাবিক হয়, তা হলে সেই ভুলের দায় আমাদের?

কলকাতা পুলিশ বলছে, আইনসম্মত ভাবে সেটগুলি বিক্রি করা হয়। যোগাযোগ মন্ত্রকের আধিকারিকেরা জানাচ্ছেন, অকেজো সেটগুলি যাতে পুনর্ব্যবহার না করা যায়, সে জন্য সেগুলিকে তাঁদের জানিয়ে পুরোপুরি ভেঙে ফেলাই নিয়ম। কলকাতা পুলিশের বিশেষজ্ঞরা যেগুলিকে ‘অকেজো’ সেট ভেবে বিক্রি করছেন, সেগুলিকে পরে কোনও ভাবে ‘কেজো’ করে তোলা হচ্ছে না তো? তা না হলে অকেজো সেট কেন ১৩০০-১৭০০ টাকায় বিক্রি হবে?

প্রথম উপাচার্য

‘যাদবপুর ও তার প্রথম উপাচার্য’ শিরোনামে শর্মিষ্ঠা দত্তগুপ্তের নিবন্ধে “শিবপুরের বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এখানেই যাদবপুরের একটা বড় তফাত ছিল” বক্তব্যটি ঠিক নয়। সত্তরের দশকে শিবপুর কলেজে পড়তে গিয়ে দেখেছি, প্রথম দু’বছর সব ছাত্রকেই হিউম্যানিটিজ় চর্চা করতে হত। বিষয়গুলি ছিল ইংরেজি, সোশিয়োলজি, সিভিকস ও ইকনমিক্স ও অ্যাকাউন্টেন্সি। ইংরেজি ক্লাসে ভিড় হত সব চেয়ে বেশি, অন্য টেকনিক্যাল বিষয়গুলির হাজিরার থেকেও বেশি। কারণটা ছিল, তদানীন্তন থিয়েটার ওয়ার্কশপের মূল চালিকাশক্তি অশোক মুখোপাধ্যায়ের অসামান্য নাটকীয় দক্ষতায় বার্নার্ড শ’র আর্মস অ্যান্ড ম্যান বোঝানো। তবে যাদবপুরের মতো আমাদের বাংলা সাহিত্য পড়ানো হত না। শর্মিষ্ঠা যাদবপুরের আর এক উপাচার্য শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ড. শঙ্কর সেনের কথা বলেছেন। আমরা যখন কলেজে, ড. সেন তখন শিবপুরে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের হেড। সময়ানুবর্তিতার প্রতীক ড. সেনকে দেখে আমরা ঘড়ি মেলাতাম। ঝকঝকে তকতকে তাঁর ডিপার্টমেন্ট। করিডরে পিন পড়ারও শব্দ নেই, দেওয়ালে রংচঙে তথ্য ও গ্রাফ। হাওয়ায় ভাসত, ওঁর কাছে সেকেন্ড ক্লাস পাওয়া মানেও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ যথেষ্ট পাণ্ডিত্যের প্রমাণ। বাম রাজনীতির মানুষ হলেও, কোনও দিন ভেদাভেদ, সঙ্কীর্ণতাকে প্রশ্রয় দিতে দেখিনি। যাদবপুরের প্রথম উপাচার্য ত্রিগুণা সেন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষায় যে ধারার প্রবর্তন করেছিলেন, ড. সেন সেই ধারারই সার্থক উত্তরসূরি বললে অত্যুক্তি হয় না।

মৃণাল মুখোপাধ্যায়

কসবা, কলকাতা

ঋণের হিসেব

‘নয়া বছরে রাজ্যে ডিএ ১৮%’ শীর্ষক সংবাদে (২০-৬) লেখা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘‘কঠিন আর্থিক অবস্থার মধ্যে দিয়ে আমরা চলেছি। ২ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকা দেনা শোধ করেছি। এ বছর থেকে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ শোধ করতে হবে।’’

রাজ্য সরকার ও রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের নথি অনুযায়ী, ২০১০-১১ অর্থবর্ষের শেষে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল ১,৮৫,৬৬০ কোটি টাকা। ২০১১-র মে মাসে তৃণমূল সরকারের অভিষেকের সময় এই ঋণের অঙ্ক বেড়ে হয় প্রায় ১ লক্ষ ৯০ হাজার কোটি টাকা। তা হলে বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী সরকারের ২ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকা দেনা শোধ করে কী ভাবে? তার মানে বর্তমান সরকারও নিশ্চয় ঋণ করেছে। কিন্তু সেই পরিমাণ কত? গত ৭ বছরে তৃণমূল সরকার প্রতি বছর ন্যূনতম ১৮ হাজার থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকা করে লোন করেছে। ফলে, রাজ্য সরকারের ঋণের পরিমাণ বেড়ে ২০১৪-১৫ সালে ছিল ২,৭৪,৮০০ কোটি, ২০১৫-১৬ সালে ৩,০৪,৯৪০ কোটি এবং ২০১৬-১৭ সালে ৩,৩৪,৬০৮ কোটি টাকা।২০১৭-১৮ সালে হয়েছে প্রায় ৩,৬৬,০০০ কোটি টাকা।  ২০১৮-১৯’এ রাজ্য বাজেট অনুযায়ী তা ৪ লক্ষ কোটিতে পৌঁছতে পারে। অর্থাৎ স্বাধীনতা প্রাপ্তির সময় থেকে তৃণমূল  সরকার ক্ষমতায় আসার সময় পর্যন্ত রাজ্য সরকারের দেনার পরিমাণ ১,৯০,০০০ কোটি হলেও, গত ৭-৮ বছরে এই অঙ্ক ২,১০,০০০ কোটি বেড়ে প্রায় ৪ লক্ষ কোটি হতে চলেছে।

সজলকান্তি ঘোষ

শ্রীনিকেতন, বারুইপুর

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট,
কলকাতা-৭০০০০১।

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।