Mid-Day Meals

সম্পাদক সমীপেষু: ডিমের তৃপ্তি

দরিদ্র-ধনী নির্বিশেষে ডিম পছন্দের খাবারের তালিকায় থাকতে বাধ্য। মনে পড়ে, সুতো দিয়ে কাটা আধখানা ডিম পাতে পেয়ে এক অদ্ভুত অনুভূতির কথা। তখন, আমরা ছোটরা মায়েদের নিজস্ব ডাক্তারিতে অর্ধেকটা পেতাম।

শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ০৬:১২
Share:

সম্পাদকীয় ‘হেতু সন্ধান’ (২৭-৬) প্রসঙ্গে এই চিঠি। ডিমের ‘প্রোটিনত্ব’ সম্পর্কে কোনও দ্বিমত থাকার কথা নয়। যাঁরা মিড-ডে মিল-এ নিরামিষ দিয়ে খাবারের থালি সাজাতে চাইছেন, সে কথা তাঁরাও জানেন। প্রোটিন সয়াবিন, রাজমাতেও আছে, কিন্তু স্থানীয় খাদ্যাভ্যাসই সবচেয়ে বড় কথা।

দরিদ্র-ধনী নির্বিশেষে ডিম পছন্দের খাবারের তালিকায় থাকতে বাধ্য। মনে পড়ে, সুতো দিয়ে কাটা আধখানা ডিম পাতে পেয়ে এক অদ্ভুত অনুভূতির কথা। তখন, আমরা ছোটরা মায়েদের নিজস্ব ডাক্তারিতে অর্ধেকটা পেতাম। চাকরির কারণে ‘সর্বশিক্ষা মিশন’-এর কর্তাব্যক্তি দু’-এক জনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। তাঁদের এক জনকে কথায় কথায় জিজ্ঞাসা করেছিলাম, শিশুরা তো মাছ পেলে আরও খুশি হত।

তিনি বলেছিলেন, কোনও এক দিন স্কুলে ‘মিড-ডে মিল’ দেওয়ার সময় গিয়ে দেখবেন, ছোটরা ডাল, পাঁচমিশালি তরকারি তাড়াতাড়ি খেয়ে ডিমটা হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে, তার পর সেটাতে এক কামড় দিয়ে তাদের মুখে যে তৃপ্তি ভেসে ওঠে, তার কোনও জবাব নেই।

ব্যাঙ্কের ফান্ডের জন্য তাঁর কাছে যাতায়াত ছিল, তাই তাঁর কথা মন দিয়ে শুনেছিলাম। কিন্তু তাঁর অনুভব যে কতখানি সত্যি, তা ব্যাঙ্কের চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর ভাইয়ের অডিট কোম্পানির হয়ে স্কুলে অডিট করতে গিয়ে বুঝতে পেরেছিলাম। ছাত্রছাত্রীরা ঠিকমতো খাবার পাচ্ছে কি না, সেটাও অডিটরদের ক’লাইন রিপোর্ট লিখতে হত। আর তখনই ডিম হাতে শিশুদের স্বর্গীয় হাসি দেখে ‘সর্বশিক্ষা মিশন’-এর সেই আধিকারিকের কথা তো বটেই, মায়ের সেদ্ধ ডিম আধাআধি করার কথাটিও মনে পড়ে যেত।

এ বার আরও একটি প্রয়োজনীয় কথা। যে সমস্ত কর্মী এখন খাবার রাঁধেন, শুনছি তাঁদের কাজ থাকবে না। অন্য কোনও নামী সংস্থা এই দায়িত্ব নেবে। যদি সত্যি হয়, তা হলে এই দরিদ্র মানুষদের ভবিষ্যৎ কী?

শেষ কথা, বাঙালি সন্তানদের দুপুরের খাবারে যেখানে মাছ-মাংস দেওয়ার ক্ষমতা নেই, সেখানে ডিম বাদ দেওয়া যাবে না। কখনওই নয়।

বিকাশ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা-৫০

গা-জোয়ারি

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেটের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য, আর সেই তাগিদেই সম্প্রতি বাড়িতে একটি নামী বেসরকারি সংস্থার ওয়াই-ফাই ও টিভি সংযোগ নিই। সমস্যা হল, সংযোগ নেওয়ার মাত্র দু’দিনের মাথায় আচমকাই আমাদের টিভি ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়।

সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাস্টমার কেয়ার ও টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর জানা যায় যে, আমাদের স্থানীয় কেবল অপারেটর গায়ের জোরে ওই ওয়াই-ফাই লাইনের সমস্ত তার কেটে দিয়েছে। সংস্থার কর্মীরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এলেও স্থানীয় কেবল অপারেটরের বাধাদানের কারণে তাঁরা তার জুড়তে বা কোনও কাজ করতে পারছেন না।

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এক জন সাধারণ নাগরিকের নিজের পছন্দমতো পরিষেবা বেছে নেওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে। টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়া (ট্রাই)-র নিয়ম অনুযায়ী, কোনও নির্দিষ্ট অপারেটর গ্রাহককে জোর করতে পারে না। কিন্তু সেলিমপুর এলাকায় কিছু অসাধু স্থানীয় অপারেটরের এই একচেটিয়া দাদাগিরির কারণে সাধারণ গ্রাহকরা চরম হয়রান হচ্ছেন। এই গুরুতর বিষয়টি প্রশাসনের স্থানীয় পুর কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে চাই। আশা করি, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও উপভোক্তা স্বার্থ রক্ষার্থে প্রশাসন অবিলম্বে এই সমস্ত বেআইনি কেবল অপারেটরের বিরুদ্ধে কঠোর আইনসম্মত পদক্ষেপ করবে।

উত্তমকুমার মণ্ডল, কলকাতা-৩১

কেন পিছিয়ে

শুভাশিস ঘোষের ‘হাতছাড়া’ (সম্পাদক সমীপেষু, ২১-৬) শীর্ষক চিঠির বক্তব্য সঠিক ও যথাযথ বলেই মনে হল। ১৯৫০ সালে ব্রাজ়িলে বিশ্বকাপ ফুটবলে ভারতীয় ফুটবল দল খেলার যোগ্যতা অর্জন করেও না যাওয়ার কারণ হিসাবে পত্রলেখক তুলে ধরেছেন তখন ভারতীয় ফুটবলারদের বুট পরে খেলার অভ্যাস না থাকা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার খরচকে।

তার পর ভারত সম্ভবত সরকারি নির্দেশে ১৯৫৪ সাল থেকে দেশে ও বিদেশে খালি পায়ের পরিবর্তে বুট পরে খেলা শুরু করে ও ১৯৭০ সালের ব্যাঙ্কক এশিয়ান গেমসে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে। ১৯৪৮ থেকে ১৯৭০ সালকে বলা হয় ভারতীয় ফুটবলের ‘স্বর্ণযুগ’। এই উল্লেখযোগ্য খেলাগুলির কোনও ভিডিয়ো ক্লিপিং কি নেই, যা দেখিয়ে উঠতি প্রতিভাবান ফুটবলারদের এখন অনুপ্রাণিত করা যায়? তা ছাড়া, ১৯৭০-এর পর এমন কী ঘটল যার ফলে ভারতীয় ফুটবলের আজ এই করুণ দশা?

যে কোনও বড় দুর্ঘটনার কারণ খুঁজতে যেমন সরকারি তদন্ত কমিটি গঠন করা যায়, তেমনই সত্তরের দশকের পর থেকে ভারতীয় ফুটবলের এই দৈন্যদশার কারণ খুঁজতে কি তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত নয়? কেন বছরের পর বছর বিশ্বকাপে ভারতকে না দেখতে পেয়ে এ দেশের ফুটবল-পাগল জনসাধারণকে ব্রাজ়িল বা আর্জেন্টিনাকেই সমর্থন করে যেতে হবে? ক্রিকেট, হকি, ব্যাডমিন্টন, কুস্তি, এমনকি বক্সিংয়ের মতো একাধিক খেলায় আমাদের দেশের খেলোয়াড়েরা বিশ্বস্তরে খেলতে পারলেও কেন শুধু ফুটবলেই আমরা এতখানি পিছিয়ে থাকব?

তাপস সাহা, শেওড়াফুলি, হুগলি

বাড়তি ওজন

গত এপ্রিলে প্রথম বন্দে ভারত ট্রেনে চড়ার অভিজ্ঞতা হল। হাওড়া থেকে নিউ জলপাইগুড়ি যাতায়াত করি। প্রথম অভিজ্ঞতা বেশ ভালই ছিল। হয়তো সিটগুলিতে কিছুটা ঠাসাঠাসি করে বসতে হয়, কিন্তু টিফিন, দুপুর ও রাতের খাবারের মান ভালই। শৌচাগারের ব্যবস্থাও ভাল। ত্রুটি নজরে এল আমাদের, অর্থাৎ যাত্রীদের তরফ থেকেই। লাগেজ রাখার জায়গা যা আছে, মোটামুটি হালকা লাগেজ নিয়ে ভ্রমণ করার মতো করেই রাখা। কিন্তু হাওড়াতে পৌঁছেই দেখলাম স্টেশনে ট্রেন এসে গিয়েছে, আর যাঁরা আগে পৌঁছে গিয়েছেন তাঁরা তাঁদের মালপত্র নিজেদের সিটের উপরের তাকে তো রেখেছেনই, এমনকি উল্টো দিকেও কেউ কেউ ব্যাগ-সুটকেস গুঁজে দিয়েছেন। অগত্যা আমাদের একটা ব্যাগ উপরে আর একটা প্যাসেজের উপরেই রাখতে হয়। প্যাসেজটি যে-হেতু সরু ছিল, তাই যাত্রী থেকে কেটারিংয়ের লোকজন, সকলেরই যাতায়াতে অসুবিধা হচ্ছিল। কিষাণগঞ্জ আসতে দেখলাম চার জনের একটি পরিবার অন্তত দশটি বড় সুটকেস নিয়ে নেমে গেলেন।

তাই রেল দফতরের কাছে অনুরোধ, বিমানযাত্রার ক্ষেত্রে যেমন মালপত্র নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম আছে, ব্যাগের অতিরিক্ত সংখ্যা ও ওজনের জন্য টাকা দিতে হয়, তেমনই বন্দে ভারতের মতো ট্রেনেও চালু করা হোক।

সুকুমার মুখোপাধ্যায়, কলকাতা-১৪৯

ট্রেনে দেরি

সম্প্রতি খড়্গপুর থেকে ছ’টা পনেরোর মেদিনীপুর-হাওড়া লোকাল ধরে আসছিলাম। ট্রেনটি রাত ন’টায় সাঁতরাগাছিতে পৌঁছয়। হাওড়া পৌঁছতে সময় নেয় দু’ঘণ্টা পঁয়তাল্লিশ মিনিট। বিভিন্ন জায়গায় ট্রেনটিকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। পাশ দিয়ে দূরপাল্লার ট্রেনগুলিকে হাওড়ার দিকে যেতে দেখেছিলাম। যাওয়ার কথা ছিল শিয়ালদহ। কিন্তু হাওড়ায় যে সময় গিয়ে পৌঁছই তখন শিয়ালদহ গিয়ে শেষ ট্রেন ধরার সুযোগ ছিল না। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের যাত্রীদের এত হয়রান হতে হয় কেন? শুনেছি এখন বহু লোকাল ট্রেনই অসম্ভব দেরি করে। রেল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নজর দিন।

অভিজিৎ ঘোষ, ডোমকল, মুর্শিদাবাদ

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন