জমিতে জল দিয়ে পচানো হচ্ছে পাট। কালনার পিণ্ডিরা গ্রামে। নিজস্ব চিত্র ।
পাটের বাজারদর এ বছর লাভজনক হলেও বৃষ্টির অভাবে সমস্যায় পড়েছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার পাট চাষিরা। তাঁদের দাবি, জেলার বহু নদী ও জলাশয়ে পাট পচানোর মতো জল নেই। ফলে জমি থেকে পাট কেটে জাগ দেওয়ার কাজে সমস্যায় পড়ছেন চাষিরা।
কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়। তার মধ্যে প্রায় ৮,৫০০ হেক্টর জমি কালনা মহকুমাতেই আছে। পাট চাষে সাধারণত ১১০ থেকে ১১৫ দিন সময় লাগে। কৃষি দফতরের দাবি, এ বছর পাট চাষের জন্য আবহাওয়া অনুকূল ছিল। রোগ-পোকার আক্রমণও তেমন হয়নি। ফলে পাটের বৃদ্ধি ভাল হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কুইন্টাল পাটের দাম প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার টাকার কাছাকাছি, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি বলে জানান চাষিরা। ইতিমধ্যেই অনেক চাষি জমি থেকে পাট কেটে ওই জমিতে আমন ধান চাষের প্রস্তুতিও শুরু করেছেন।
তবে কালনার পিণ্ডিরা পঞ্চায়েতের চাষি সুদীপ মণ্ডল বলেন, “প্রতি দিন মেঘ করলেও বৃষ্টি হচ্ছে না। নদীতে জল নেই, অন্য জলাশয়েও পর্যাপ্ত জল নেই। ফলে পাট পচাতে সমস্যা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে মাঠে গর্ত খুঁড়ে পাট পচাতে হচ্ছে।” পূর্বস্থলীর চাষি বাবর মণ্ডলের কথায়, “পাটের দর হু হু করে বাড়ছে। কিন্তু জলের অভাবে পাট পচাতে পাড়ছি না। তাই ভাল দামের পুরো সুবিধাও পাওয়া যাচ্ছে না।” তাঁদের বক্তব্য, ভাল মানের পাট পেতে এমন জলাধার প্রয়োজন যেখানে জল চলাচল করে। এ বছর অল্প জলে পাট পচানোর কারণে অনেক সময় পাটের গুণগত মানও ভাল থাকছে না।
রাজ্যের এক কৃষি বিশেষজ্ঞের মতে, স্বল্প জলে পাট পচাতে গিয়ে অনেক চাষি পাটের গাঁটের উপরে কাদা ও কলাগাছ চাপা দিয়ে রাখেন। এতে পাটের রং খারাপ হয়ে যায়। তাঁর পরামর্শ, স্বল্প জলে পাট পচানোর ক্ষেত্রে ‘ট্রাইজাকসোনা’ নামে একটি ছত্রাক ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি, গ্রামীণ এলাকার বহু ছোট জলাশয় সংস্কারের অভাবে জলধারণ ক্ষমতা হারিয়েছে। পঞ্চায়েতের উদ্যোগে সেগুলির সংস্কার করা হলে ভবিষ্যতে এই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হতে পারে, মত তাঁর।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে