Kolkata Municpal Corporation

যখন-তখন ছুটি বাতিল, তবু বেতন বাড়ে না অস্থায়ী পুর সাফাইকর্মীদের

বর্ষার মরসুমে কলকাতায় জল জমার সমস্যা নতুন কিছু নয়। জমা জল সরাতে শহরের বিভিন্ন এলাকার ম্যানহোল খুলে আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে ভিতরের পলি তোলা হয়, সাফাই করা হয় আবর্জনা। নিকাশি দফতরের চুক্তিভিত্তিক সাফাইকর্মীরাই সে কাজ করে থাকেন।

মেহবুব কাদের চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ০৭:১৪
Share:

কলকাতা পুরসভা। — ফাইল চিত্র।

নোংরা জল, আবর্জনা, দুর্গন্ধ, সংক্রমণের ঝুঁকি— সব রকম পরিস্থিতির মধ্যেই কাজ করতে হয় ওঁদের। বিশেষ করে, বর্ষায় তাঁরা নর্দমা ও বর্জ্য পরিষ্কার না করলে জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়ে। শহরের জল-যন্ত্রণা কমাতে ওঁদের জরুরি ভিত্তিতে দিন-রাত কাজ করে যেতে হয়। ছুটি বাতিল হলেও তার জন্য মেলে না অতিরিক্ত টাকা। অসুস্থ হয়ে কাজে যেতে না পারলে কেটে নেওয়া হয় বেতন। কলকাতা পুরসভার নিকাশি দফতরের অধীনে কর্মরত প্রায় দু’হাজার চুক্তিভিত্তিক সাফাইকর্মীর এমনই করুণ দশা।

বর্ষার মরসুমে কলকাতায় জল জমার সমস্যা নতুন কিছু নয়। জমা জল সরাতে শহরের বিভিন্ন এলাকার ম্যানহোল খুলে আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে ভিতরের পলি তোলা হয়, সাফাই করা হয় আবর্জনা। নিকাশি দফতরের চুক্তিভিত্তিক সাফাইকর্মীরাই সে কাজ করে থাকেন। পুরসভার নিকাশি দফতরের একাধিক আধুনিক গাড়ি রয়েছে। সেগুলির মধ্যে বসানো রয়েছে নিকাশি নালা পরিষ্কার করার যন্ত্র। যেমন, জেট-কাম-সাকশন মেশিন, গালিপিট মেশিন, ব্লো-ব্যাক মেশিন। শহরের কোথাও নিকাশি নালা অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে এই সমস্ত যন্ত্র পাঠিয়ে জরুরি ভিত্তিতে সাফাইয়ের কাজ করা হয়। যন্ত্র থাকলেও সাফাইকর্মীদের হামেশাই নিকাশি নালা থেকে হাত দিয়ে আবর্জনা তুলতে হয়।

পুরসভা সূত্রের খবর, কলকাতা শহরকে তিনটি জ়োনে (উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ) ভাগ করে এই সাফাইকাজ হয়। উত্তর কলকাতার কাজ পরিচালনা করা হয় টালা থেকে। মধ্য কলকাতার কাজ চিংড়িঘাটা এবং দক্ষিণ কলকাতার কাজ তারাতলা থেকে পরিচালিত হয়। উত্তর কলকাতার কোনও এলাকার নিকাশি নালা অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে টালা থেকে আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে কর্মীরা সেখানে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উত্তর কলকাতার এক অস্থায়ী সাফাইকর্মীর খেদ, ‘‘আমরা দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করি। এই অস্থায়ী চাকরির ২৪ বছর হয়ে গেল। অথচ, আমার বেতন মাত্র দশ হাজার টাকা। এই টাকায় কি জীবন চলে?’’

পুরসভা সূত্রের খবর, নিকাশি দফতরের অস্থায়ী কর্মীদের বেতন ১০ থেকে ১৪ হাজার টাকা। আর এক কর্মীর অভিযোগ, ‘‘শরীর খারাপের কারণে কাজে না গেলেও বেতনের টাকা কেটে নেওয়া হয়। ভারী বৃষ্টি হলেই আমাদের ছুটি বাতিল করা হয়। বৃষ্টিতে কাজ করার জন্য বর্ষাতি, বিশেষ পোশাক বা জুতো, কিছুই দেওয়া হয় না।’’ মধ্য কলকাতার এক অস্থায়ী কর্মীর কথায়, ‘‘পুরসভার বিশেষ ধরনের সাফাই যন্ত্র একমাত্র আমরাই চালাতে পারি। শহরের কোথাও জল জমে থাকলে আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে তা তুলে অন্য জায়গায় ফেলা হয়। কোনও এলাকার নিকাশি নালা থেকে জল বেরোতে না পারলে আমরা সেখানে গিয়ে রাস্তার ম্যানহোল খুলে পরীক্ষা করি। এই কাজ আমরা ছাড়া অন্য কেউ পারবে না। অথচ, আমাদের জন্য সরকার, পুরসভা কেউ ভাবে না।’’ দক্ষিণ কলকাতার এক অস্থায়ী কর্মীর আবেদন, ‘‘মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের বিনীত আবেদন, ন্যায্য ও সম্মানজনক বেতন, ঝুঁকি ভাতা, স্বাস্থ্য ও দুর্ঘটনা বিমা, সামাজিক সুরক্ষা এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।’’

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে কলকাতায় বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রেড রোডে আসবেন বলে ছুটি বাতিল হওয়ায় সাফাইকর্মীদের ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে হয়েছিল। কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়ায় যাতে জল না জমে, তার জন্য অতীতে বৃষ্টির মধ্যেই জরুরি ভিত্তিতে দিনের পর দিন কাজ করতে হয়েছে তাঁদের। কিন্তু তা সত্ত্বেও ওঁদের বেতন বা সুযোগ-সুবিধা, কিছুই বাড়েনি। এই প্রসঙ্গে নিকাশি দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘নিকাশি দফতরের অস্থায়ী কর্মীদের বেতন যাতে বাড়ে, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন