লন্ডন ডায়েরি

সঙ্গী ছিলেন প্রখ্যাত তবলাশিল্পী উস্তাদ জাকির হুসেন, পশ্চিমে যাঁর বিপুল সংখ্যক অনুরাগী। টিকিট সব বিক্রি হয়ে গেল সহজেই, লন্ডনের স্লোন স্কোয়ারের কাডোগান হল দু’দিনই ছিল কানায় কানায় ভরা।

Advertisement

শ্রাবণী বসু

শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০১৯ ০০:০০
Share:

ভারতীয় অর্কেস্ট্রার সুরে মাতোয়ারা লন্ডন

Advertisement

উত্তর ভারতীয়ই হোক কি দক্ষিণী, ভারতীয় মার্গসঙ্গীত পশ্চিমে খুব জনপ্রিয়। কিন্তু বিরল যা, তা হল ভারত থেকে আসা ওয়েস্টার্ন ক্লাসিকাল মিউজ়িক কনসার্ট। গত সপ্তাহে তাই খুব হইহই হল ভারতের প্রথম ও একমাত্র পেশাদার ওয়েস্টার্ন ক্লাসিকাল অর্কেস্ট্রা, মুম্বইয়ের ‘সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা অব ইন্ডিয়া’র প্রথম আন্তর্জাতিক টুর নিয়ে। সঙ্গী ছিলেন প্রখ্যাত তবলাশিল্পী উস্তাদ জাকির হুসেন, পশ্চিমে যাঁর বিপুল সংখ্যক অনুরাগী। টিকিট সব বিক্রি হয়ে গেল সহজেই, লন্ডনের স্লোন স্কোয়ারের কাডোগান হল দু’দিনই ছিল কানায় কানায় ভরা। অর্কেস্ট্রার কন্ডাক্টর ছিলেন জ়েন দালাল, আর সন্ধের মূল আকর্ষণ ছিল উস্তাদ জাকির হুসেনের কম্পোজ়িশন— তবলা কনচের্তো ‘পেশকার’। শুরুতে উস্তাদজি বললেন, তিনি অর্কেস্ট্রার সঙ্গে একটু খুনসুটি করবেন, যদিও পুরোটাই হিন্দুস্থানি ধ্রুপদী ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে। রাগাশ্রয়ী সুরগুলি ছিল সুখশ্রাব্য, সঙ্গে তাল-লয়ের কারিকুরি। বাকি ‘ওয়েস্টার্ন’ পরিবেশনাগুলির মধ্যে ছিল রিমস্কি-কোরাসাকভ’এর ‘শেহেরজ়াদে’, আর বার্লিওজ়-এর একটি সূচনাসুর। অর্কেস্ট্রা এর পরে ঘুরবে বার্মিংহাম, কার্ডিফ ও এডিনবরা। ২০০৬-এ প্রতিষ্ঠিত ‘সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা অব ইন্ডিয়া’র শেকড় মুম্বইয়ের ন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস-এ। কন্ডাক্টর জ়েন দালাল এক জন ব্রিটিশ এশীয়। জানালেন, তাঁদের অর্কেস্ট্রায় ৮৯ সদস্যের মধ্যে এখন মাত্র ১৫ জন ভারতীয়, কারণ মুম্বইয়ে তাঁদের স্কুলটা খুব ছোট। ভবিষ্যতে ভারতীয় সদস্য আরও বাড়বে, আশা তাঁর।

সুরসন্ধ্যা: লন্ডনে ‘সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা অব ইন্ডিয়া’-র অনুষ্ঠান। ডান দিকে, জ়েন দালাল

Advertisement

নাট্যসম্পদ

এ বার ধ্রুপদী বাংলা নাটক-সহ আরও অনেক ভুলে যাওয়া সাহিত্যসম্পদ অনলাইন পড়া যাবে। ব্রিটিশ লাইব্রেরি ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় মিলে উনিশ ও বিশ শতকের বাংলা নাটক ডিজিটাইজ় করছে। আছে বঙ্কিমচন্দ্রের ‘দেবীচৌধুরাণী’, ‘কপালকুণ্ডলা’, ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’, শরৎচন্দ্রের ‘বিন্দুর ছেলে’ বা রমেশচন্দ্র দত্তের ‘রাজপুত জীবনসন্ধ্যা’-র, এমনকি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধকাব্য’-এর নাট্যরূপ। আছে সামাজিক নাটকও— ‘পাপের প্রতিলিপি’ (১৮৭৫), ‘বন্দিনী’ (১৯৪০), ‘বিধির লিখন’ (১৯০৬), ‘আগামী কাল’ (১৯৪০), বিধায়ক ভট্টাচার্যের লেখা নাটক ‘বিশ বছর আগে’ (১৯৪০), ঐতিহাসিক নাটক ‘তারাবাই’। উনিশ শতকের শেষ দিকে লেখা হাসির নাটক ‘ভূতের বিয়ে’-সহ অন্যান্য প্রহসন ও কমেডিও আছে। বিরল বইগুলি দেবজিত্‌ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংগ্রহ, যাতে আছে বহু আধুনিক নাটক, যাত্রার টেক্সট, নাটকের গানের বই। অনেকগুলোই কালজীর্ণ। এখন সবগুলোই কপি করার মতো অবস্থায়, তবে সতর্কতা কাঙ্ক্ষিত।

নুর স্মরণে

নায়ক: গর্ডন স্কোয়ারে নুর-স্মারক

২০২০-র মধ্যে ব্লুমসবেরির টাভিটন স্ট্রিটে তাঁর বাড়ির সামনে নীল ফলক বসিয়ে সম্মান জানানো হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নায়ক নুর ইনায়েত খানকে। ‘ইংলিশ হেরিটেজ’ আবেদন মঞ্জুর করেছে। নুর ইনায়েত খান (১৯১৪-১৯৪৪) প্রথম রেডিয়ো অপারেটর যাঁকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্রান্সে অনুপ্রবেশ করানো হয়েছিল। ‘স্পেশাল অপারেশনস এগজ়িকিউটিভ’ নামের এক গুপ্ত সংস্থার হয়ে কাজ করতেন তিনি। প্যারিসে ছদ্মবেশে কাজ করেছিলেন, কিন্তু বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়ে ধরা পড়েন, নির্যাতিত হন। ১৯৪৪-এর সেপ্টেম্বরে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে মৃত্যু হয় তাঁর। পেয়েছেন মরণোত্তর জর্জ ক্রস, ব্রিটেনের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান। এ বছরটা তাঁর মৃত্যুর ৭৫ বছর। লন্ডনে নীল ফলক আছে রাজা রামমোহন রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ ও মহাত্মা গাঁধীর মতো ভারতীয়দের স্মরণেও। নুরই প্রথম ভারতীয় মহিলা যাঁর স্মরণে নীল ফলক বসছে। গর্ডন স্কোয়ারে তাঁর স্মারকস্তম্ভ আছে, ২০১৪-তে রয়্যাল মেল ছেপেছে ডাকটিকিট।

ঠান্ডা-গরম

গত সপ্তাহটা ছিল ব্রিটেনে উষ্ণতম ফেব্রুয়ারি, তাপমাত্রা ছুঁয়েছিল ২০ ডিগ্রি। শীতেও পারদ ২০ ডিগ্রিতে, এ ঘটনা ব্রিটেনে প্রথম। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল পশ্চিম ওয়েলস-এর কেরডিজিয়ন-এ, ২০.৩ ডিগ্রি! মানুষ সমুদ্রতটে ভিড় করেছেন, আইসক্রিম খেয়েছেন, পার্কে গা এলিয়েছেন রোদে। জলদি ফোটা শুরু করেছে রোডোডেনড্রন, ম্যাগনোলিয়ারাও। যেই না সবাই সমস্ত শীতপোশাক তুলে রাখবেন ভাবছিলেন, তক্ষুনি আবহাওয়া অফিসের বার্তা: আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা নামবে আবারও!

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন