West Bengal Budget 2026

যৌথ খামার

পরিকাঠামো উন্নয়নের খাতে কয়েকটি ইতিবাচক ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। যেমন, নানা ধরনের ফসলের সংরক্ষণের জন্য হিমঘর, কোল্ড চেন প্রভৃতির নির্মাণে সরকারি ভর্তুকির জন্য ১০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন।

শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ০৫:৩৮
Share:

বরাদ্দ কমলে উদ্বেগ, বাড়লে খুশি, বাজেট পর্যালোচনার এমনই দস্তুর। এ বছর পশ্চিমবঙ্গের কৃষি বাজেট তার ব্যতিক্রম— কোনও কোনও খাতে বরাদ্দ টাকা কমছে দেখে স্বস্তি পেতে পারেন রাজ্যবাসী। কারণ, রাজ্যের ব্যয়ভার ভাগ করে নিচ্ছে কেন্দ্র। এর মধ্যে প্রধান অবশ্যই শস্যবিমা। গত অর্থবর্ষেও বাংলা শস্যবিমার জন্য রাজ্য খরচ ধার্য করেছিল ১৩১৩ কোটি টাকা। এ বার রাজ্যের ভাগ ৯০০ কোটি টাকা, কারণ রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রের প্রকল্প (পিএমএফবিওয়াই) যুক্ত হওয়ায় অর্ধেক ব্যয় বহন করবে কেন্দ্র। তেমনই আশা জাগায় ‘প্রধানমন্ত্রী অন্নদাতা আয়সংরক্ষণ অভিযান’-এর অধীনে পশ্চিমবঙ্গে একশো কোটি টাকার তহবিল গঠন। পচনশীল ফসল (আলু, টমেটো, পেঁয়াজ প্রভৃতি) উদ্বৃত্ত হলে দামে পতন রুখতে চাষিদের থেকে ওই প্রকল্পের টাকায় কিনে নিতে পারবে রাজ্য। রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনার অধীনে কৃষি বিপণনের নানা প্রকল্পে বরাদ্দেও কেন্দ্রের ভাগ যথেষ্ট। চাষিদের প্রশিক্ষণ, বীজ উন্নয়ন ও বিতরণের মতো খাতে মোট বরাদ্দ বেড়েছে, কিন্তু কমেছে রাজ্যের অংশ— কারণ, কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ প্রকল্পের খাতে আনা হয়েছে এই ক্ষেত্রগুলিকে। ফলে এ বার কৃষিতে রাজ্যের বরাদ্দে চমকপ্রদ বৃদ্ধি না দেখা গেলেও (গত অর্থবর্ষের সংশোধিত বাজেট ছিল ৯ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি, এ বছর বরাদ্দ ১০,৪৬৩ কোটি টাকা) কেন্দ্রীয় বরাদ্দের টাকা হিসাবে ধরলে বাংলার চাষিদের আশাবাদী হওয়ার কারণ আছে।

পরিকাঠামো উন্নয়নের খাতে কয়েকটি ইতিবাচক ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। যেমন, নানা ধরনের ফসলের সংরক্ষণের জন্য হিমঘর, কোল্ড চেন প্রভৃতির নির্মাণে সরকারি ভর্তুকির জন্য ১০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন। পশ্চিমবঙ্গের আম বিদেশে পাঠানোর জন্য ‘ইন্টিগ্রেটেড প্যাক হাউস’ নির্মাণের জন্য ৫০ কোটি টাকার তহবিল গঠন। এ ধরনের উদ্যোগ আগেও করা হয়েছে, কিন্তু উদ্দেশ্যপূরণ হয়নি। বরাদ্দ টাকা যদি সত্যিই নির্দিষ্ট লক্ষ্যে খরচ হয়, তা হলে বাজারের সঙ্গে চাষির সংযোগ নিবিড় হবে, লাভও বাড়তে পারে। কিছু জরুরি ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার নিজস্ব ব্যয় বাড়িয়েছে। যেমন, আলু বীজ তৈরির জন্য গত অর্থবর্ষে ১ কোটি ১২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। এ বছর সেখানে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। টাকার অঙ্কে হয়তো তা খুব বড় নয়, কিন্তু সফল হলে পশ্চিমবঙ্গের আলু চাষিরা বীজের কালোবাজারি থেকে রক্ষা পাবেন, রাজ্যের আলু উৎপাদন প্রার্থিত মান ও পরিমাণে পৌঁছতে পারবে। বেড়েছে অনুদানও— ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের উপরে রাজ্য কুইন্টাল-প্রতি আরও দু’শো টাকা দেবে। পিএম-কিসান প্রকল্পের বার্ষিক অনুদানের উপরে বাড়তি তিন হাজার টাকা দেবে রাজ্য। অর্থনীতির নিরিখে এর উপযোগিতা নিয়ে বিতর্ক উঠতে পারে, রাজনীতির অঙ্ক আলাদা। ভরসা এই যে, কৃষি ঋণ মকুব করার মতো হঠকারিতা করেনি বিজেপি, যেমন অতীতে করেছে উত্তরপ্রদেশ (২০১৭) বা রাজস্থান (২০১৮) বিধানসভা নির্বাচন জেতার তাগিদে।

অন্তত একটা বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার অনুসরণ করছে তাদের পূর্বসূরি শাসনকে। পনেরো বছর আগে, ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ-সংযোগ বাড়াতে বিদ্যুতের ইউনিট-প্রতি ভর্তুকি ঘোষণা করেছিল, পাম্পের দামেও ভর্তুকি দিয়েছিল। ভূগর্ভের জলের দ্রুত ক্ষয়, বিদ্যুৎ বিলের বোঝা বাড়ায় বছর তিনেক পরে ভর্তুকিতে রাশ টানতে বাধ্য হয়েছিল তৃণমূল সরকার। এ বার বিজেপি সরকার ঘোষণা করল, বিদ্যুতের ইউনিট-প্রতি ২ টাকা ভর্তুকি, তার জন্য ৮০০ কোটি টাকার তহবিল। কৃষিকে একই সঙ্গে লাভজনক এবং পরিবেশ-বান্ধব করার কাজটি একেবারেই সোজা নয়। নীতিতে ভারসাম্য রাখতে না পারলে বাজেটে তার প্রতিফলন দেখা যেতে বাধ্য।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন