Education System

না আঁচালে

রাজ্যে সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলগুলি পরিকাঠামোগত ত্রুটি এবং সরকারি উদাসীনতায় ধুঁকছে। এই সুযোগে মূলত শহর এবং শহরতলিতে বাড়ছে বেসরকারি ইংরাজি মাধ্যম স্কুলগুলিতে ভর্তির হার। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও নতুন গজিয়ে ওঠা স্কুলগুলির সার্বিক মান প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকছে না।

শেষ আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৬:৫৭
Share:

বদলাচ্ছে পাঠ্যক্রম, প্রশ্নের ধরন, পাঠদানের পদ্ধতিও। যুগের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি শুধুমাত্র পাঠ্যবই থেকে পাঠদানেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখতে পারছে না। শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক উন্নয়নের গুরুদায়িত্বটিও এখন তাদেরই। পরিবর্তিত বিশ্বে একটি শিশুর সামগ্রিক বিকাশ এবং ক্রমবর্ধমান পারিপার্শ্বিক কুপ্রভাবগুলি থেকে তাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কিছু অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের চৌহদ্দির মধ্যেই নবীন প্রজন্মের সেই প্রয়োজন অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব, যদি বিদ্যালয়ের সেই পরিকাঠামো থাকে, এবং যদি শিক্ষকরা প্রশিক্ষিত ও সংবেদনশীল হন। এই প্রয়োজনকে মাথায় রেখেই সম্প্রতি সিআইএসসিই বোর্ড শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। ইতিপূর্বেই নতুন পাঠ্যক্রম অনুযায়ী পড়ানোর জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের কথা জানিয়েছিল তারা। যাঁরা প্রশিক্ষণ নিতে ইচ্ছুক তাঁদের আবেদনপত্র পাঠাতে হবে, এবং প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর তাঁদের মধ্যে যে শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ দেওয়ার উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবেন, তাঁরা সেই কাজের জন্য নির্বাচিত হবেন। অনলাইন, অফলাইন উভয় মাধ্যমেই প্রশিক্ষণের কাজ চালানো হবে।

এই উদ্যোগ প্রশংসার্হ। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে। এই রাজ্যে সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলগুলি পরিকাঠামোগত ত্রুটি এবং সরকারি উদাসীনতায় ধুঁকছে। এই সুযোগে মূলত শহর এবং শহরতলিতে বাড়ছে বেসরকারি ইংরাজি মাধ্যম স্কুলগুলিতে ভর্তির হার। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও নতুন গজিয়ে ওঠা স্কুলগুলির সার্বিক মান প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকছে না। প্রশ্ন থাকছে যাঁরা পড়াচ্ছেন, তাঁদের যোগ্যতা, পড়ানোর পদ্ধতি বিষয়েও। ফলে, শিক্ষার্থীদের এক বড় অংশের নির্ভরতা তৈরি হচ্ছে গৃহশিক্ষকতার উপর। এই পরিস্থিতি সু-ইঙ্গিতবাহী নয়। স্কুলশিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রমের পরিবর্তন বিষয়ে তাঁদের সচেতন করা অতি জরুরি। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত থেকে যায়। সমস্যা হল, উদ্যোগ এবং প্রয়োগের মধ্যবর্তী ক্ষেত্রটি অস্বচ্ছতায় ভরা। এর আগেও শিক্ষার উন্নতিকল্পে বিবিধ সরকারি পদক্ষেপ করা হয়েছে। কিন্তু তার কতগুলির বাস্তব রূপায়ণ সম্ভব হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি ক’টি তা মেনেছে, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। এই উদ্যোগটিরও যাতে সেই অবস্থা না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

শুধু বেসরকারি বিদ্যালয়গুলিই নয়, এমন বাস্তবসম্মত উদ্যোগ প্রয়োজন রাজ্যের সরকারি এবং সরকারপোষিত স্কুলগুলির ক্ষেত্রেও। সম্প্রতি রাজ্য শিক্ষা দফতর উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদকে দায়িত্ব দিয়েছিল স্কুলগুলির উৎকর্ষ বাড়ানোর পদ্ধতি পর্যালোচনা করার। তার জন্য কী কী বিষয়ে জোর দিতে হবে, তা নিয়ে একটি রিপোর্ট দিয়েছে স্টেট কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং। জোর দেওয়া হয়েছে, স্কুলগুলির নিজস্ব মূল্যায়নের উপর। কিন্তু যেখানে স্কুলের খরচ চালানোর জন্য কম্পোজ়িট গ্রান্টের টাকাও সম্পূর্ণ মেলে না, শিক্ষকের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পড়ানো বন্ধ রাখতে হয়, সরকারি প্রকল্পে ব্যস্ত শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ দিতে পারেন না, সেখানে আগে এই খামতিগুলি দূর করাই কি প্রাথমিক কর্তব্য নয়? গোড়া কেটে আগায় জল ঢাললেই শিক্ষার বিকাশ সম্পূর্ণ হয় না, মনে রাখতে হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন