Pax Silica

ঝুঁকির জোট

এই পদক্ষেপ ভারতের অভ্যন্তরীণ শিল্প প্রসারের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকার প্রায় এক লক্ষ ষাট হাজার কোটি টাকার মূল্যের সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প অনুমোদন করেছে, যার সমর্থনে প্রায় ৭৬,০০০ কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ ০৬:৪৫
Share:

সম্প্রতি আমেরিকার নেতৃত্বাধীন ‘প্যাক্স সিলিকা’ জোটে স্বাক্ষরকারী সদস্য হিসেবে যোগদানের কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিল ভারত। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চালু হওয়া প্রযুক্তি ও সরবরাহ শৃঙ্খল জোটে অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ব্রিটেন এবং ইজ়রায়েল-সহ ১১ জন সদস্য রয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের উপর গুরুত্ব আরোপ করে, প্যাক্স সিলিকা-র লক্ষ্য হল সদস্য দেশগুলির মধ্যে খনিজ নিষ্কাশন এবং প্রক্রিয়াকরণ, চিপ তৈরি এবং উন্নত কম্পিউটিংয়ে বিনিয়োগ এবং ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এ ক্ষেত্রে ভারতের জোটে যোগদানের কারণ স্পষ্ট। বিশ্বব্যাপী বিরল-মৃত্তিকার পৃথকীকরণ, পরিশোধন এবং প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতার ৯০%-এরও বেশি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে চিনের হাতে। আর, ভারত তার ৮০-৯০ শতাংশ বিরল-খনিজ চুম্বক এবং সংশ্লিষ্ট উপকরণ চিনের সরবরাহকারীদের কাছ থেকেই আমদানি করে থাকে। কিন্তু, চিনের মতো একক উৎসের উপর এত বড় নির্ভরতা বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ। গত বছর আমেরিকার সঙ্গে শুল্ক বিবাদের সময়ে পরিশোধিত খনিজ পদার্থের উপর রফতানি নিয়ন্ত্রণ প্রসারিত করে, চিন দেখিয়ে দিয়েছে কী ভাবে তারা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের উপর নিজেদের আধিপত্যকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে কাজে লাগাতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্যাক্স সিলিকাতে যোগ দিয়ে কার্যকর অংশীদারি গড়তে এবং তার শিল্প পরিকাঠামোকে বিশ্বমঞ্চে উন্নীত করতে সক্ষম হবে ভারত।

এই পদক্ষেপ ভারতের অভ্যন্তরীণ শিল্প প্রসারের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকার প্রায় এক লক্ষ ষাট হাজার কোটি টাকার মূল্যের সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প অনুমোদন করেছে, যার সমর্থনে প্রায় ৭৬,০০০ কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এ বারের কেন্দ্রীয় বাজেটে, সরকার ওড়িশা, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ুতে ‘বিরল পৃথিবী করিডর’ ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে রয়েছে ৭,২৮০ কোটি টাকার ‘বিরল মৃত্তিকা স্থায়ী চুম্বক’ প্রকল্পও, যার লক্ষ্য বার্ষিক ৬,০০০ টন সমন্বিত চুম্বক ক্ষমতা তৈরি করা। ভারত যেমন অন্যান্য সদস্য, বিশেষত আমেরিকার সঙ্গে তার সংযোগ থেকে লাভবান হতে চায়, তেমনই ভারতের বৃহৎ বাজার, দক্ষ কর্মী এবং ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান তার সম্পদ।

তবে এই গোষ্ঠীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বিবিধ। যেমন, প্যাক্স সিলিকা-র জেরে বিরল খনিজে আধিপত্য ক্ষুণ্ণ হওয়ার কারণে এর প্রভাব ভারত-চিন বাণিজ্যের উপরেও পড়তে পারে। গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্য, বিশেষ করে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের শর্তাবলি, জোটের বাইরের দেশগুলির সঙ্গে ভারতের যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। শুধু তা-ই নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলির জন্য তার নিয়মগুলিকে গোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গি এবং নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে বাধ্য হতে পারে ভারত, যা আখেরে দেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনেরই ক্ষতি করবে। লক্ষণীয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ওইসিডি, কানাডা এবং তাইওয়ানের মতো প্রধান গোষ্ঠী এবং দেশগুলি এ ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষক এবং স্বাক্ষরকারী নয় এমন সদস্য হিসেবে রয়েছে। এই সদস্যরা প্রযুক্তিগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে সক্ষম। কূটনৈতিক নমনীয়তা বজায় রেখে নিজের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাঝে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অক্ষুণ্ণ রাখাই এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত ভারতের।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন