Barbie Doll

অন্তর্ভুক্তি

একুশ শতকে বার্বির পরিসর বিস্তৃত। অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন জাতির শরীরী গড়ন ও চুলের ধরন। বার্বি নানা পেশা এবং প্রতিবন্ধকতারও প্রতিনিধি। ফলে, এখন ভিন্নতা ও বৈচিত্র অনুযায়ী বার্বি এতই রকমারি যে, অনায়াসে পরিচালক তাকে নিয়ে বার্বিল্যান্ড নামের দুনিয়া সৃষ্টি করেন। এই বিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৪১
Share:

ডাউন সিনড্রোমে ভোগা এবং দৃষ্টিহীন ‘বার্বি’, শ্বেতী রোগাক্রান্ত ‘কেন’-এর স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বাজারে এল অটিজ়ম-এর লক্ষণযু্ক্ত বার্বি। শিশুর মনে ‘স্বাভাবিকত্ব’-এর সীমানা আরও অনেকখানি প্রসারিত করতেই এই উদ্যোগ। সাত দশক ধরে এই পুতুল শিশুর খেলাঘরের সঙ্গে নানা বিতর্কেরও মধ্যমণি। বার্বিই শুরুতে সৌন্দর্যের অবাস্তব মাপকাঠি দেখিয়েছিল— চির-উনিশ, মোমত্বক, ক্ষীণকটি, হিল পরার উপযুক্ত বাঁকানো পায়ের পাতা। পিতৃতান্ত্রিক সমাজ মেয়েদের কী ভাবে দেখতে চায়, সেই ধারণাকেই বাজারের পণ্য করেছিল। সেই অসম্ভব দেহবল্লরীর আকাঙক্ষা পূরণে অসুস্থ হচ্ছিলেন রক্তমাংসের মেয়েরা। আফ্রিকার শিশুরা আত্মপ্রতিকৃতি এঁকে চুলে সোনালি, চোখে নীল রং ভরে বেদনাহত করেছিল। তবে, সময়ের সঙ্গে বার্বি অনেক বদলেছে, সমাজ কী ভাবে পুরনো ধারণার অন্ধকার মুছে নিজেকে সংশোধন ও বিবর্তনের মাধ্যমে অগ্রসর হতে পারে, তার প্রতীক হয়েছে।

পরিবর্তনের মূলে অবশ্যই বিরুদ্ধ সমালোচনা। তীব্র রোষাঘাত এসেছিল সত্তরের দশকের কাছাকাছি। সে সময় নারীবাদের দ্বিতীয় তরঙ্গ প্রবল, বার্বি কী ভাবে নারীত্বের সঙ্কীর্ণ, পুরুষদৃষ্টিনির্ভর ধারণাকে পুষ্ট করে যোগ্যতা-বুদ্ধির চেয়ে চেহারায় গুরুত্ব আরোপিত করে, তা নিয়ে ঝড় উঠেছিল। সত্যিই তা ছিল শৈশব থেকেই মেয়েদের ঘরবন্দি করার ফন্দি। প্রতিরোধ যুক্তিযুক্ত। সেই চাপের মুখে বার্বি ডাক্তার, পাইলট, মহাকাশচারী হলেও, তার তন্বী শরীর ও ব্যাকরণসম্মত মুখাবয়ব গোড়ার অবাস্তব আদর্শই আঁকড়ে ছিল। উকিল বার্বির বাক্সে ছোট্ট পোশাক দেওয়া হত কেন-এর মন জোগাতে। নারীবাদ আবারও এই বৈপরীত্যকে চ্যালেঞ্জ ছোড়ে, ফলে নির্মাতা সংস্থা বিবেকবোধের মুখোমুখি হতে বাধ্য হয়, কারণ অভিভাবকদেরও বিরক্তি বাড়ছিল। তবুও, পরিবর্তন আসতে আসতে সহস্রাব্দ গড়ায়, যখন খেলনাসাম্রাজ্যে ‘শিরো’ বা বীরাঙ্গনা পুতুলদের উত্থানে বার্বির বাজারে মন্দা নামল।

অবশেষে, একুশ শতকে বার্বির পরিসর বিস্তৃত। অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন জাতির শরীরী গড়ন ও চুলের ধরন। বার্বি নানা পেশা এবং প্রতিবন্ধকতারও প্রতিনিধি। ফলে, এখন ভিন্নতা ও বৈচিত্র অনুযায়ী বার্বি এতই রকমারি যে, অনায়াসে পরিচালক তাকে নিয়ে বার্বিল্যান্ড নামের দুনিয়া সৃষ্টি করেন। এই বিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। খেলাচ্ছলে শিশুরা কিন্তু সমাজেরই অনুশীলন করে। দোকানের তাকে ভিন্ন ত্বকের রং, দেহগঠন ও শারীরিক অবস্থার বার্বি দেখলে শিশুরা নিজেদের, বন্ধুদের স্বকীয়তাকে সুস্থ মনে স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করতে শেখে। কোনও সংস্থা যদি নৈতিকতাকে মূল্য দেয়, শেষ পর্যন্ত ক্রেতারাও তাদের প্রতি আকৃষ্ট হন। তবে, অন্তর্ভুক্তির এই প্রয়াস হয়তো পুরোপুরি লাভজনক নয়, সব বার্বি হয়তো একই রকম বিক্রি হয় না। তবুও সংস্থার সব ধরনের পুতুলকে পাশাপাশি রাখার এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত শক্তিশালী এক বার্তা। কেবল মুনাফাই কোনও সংস্থার একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না বরং সকলকে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেওয়া একটি সামাজিক দায়িত্ব। তাই বার্বির এই অভিযাত্রা অন্তর্ভুক্তির প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার পথে সমাজের নিজ সংগ্রামেরই প্রতিচ্ছবি। অসম্পূর্ণতা, ভিন্নতা ও বাস্তবকে খোলা মনে গ্রহণ করে এই প্রজন্মের বার্বিরা স্বাস্থ্যকর কল্পনাশক্তিকে উস্কে দেয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন