Strategic Autonomy

অতলান্ত-পারে

নেটোর দিক থেকে ট্রান্স-আটলান্টিক জোট বজায় রাখার আগ্রহ রয়েছেই, কেননা এই জোটের মূল স্তম্ভই আমেরিকার পারমাণবিক ক্ষমতা। প্রশ্ন হল, যে জোট তার সদস্যদের স্বাধীনতা বিসর্জন দিয়ে কেবল একটি দেশের উপর নির্ভরতাকে আঁকড়ে বাঁচতে চায়, তার অস্তিত্বের যাথার্থ্য কতখানি?

শেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫১
Share:

ইউরোপে সম্প্রতি ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’ বা ‘কৌশলগত স্বশাসন’ নিয়ে যে বিতর্কের ঝড় উঠেছে, তাতে জল ঢাললেন নেটো মহাসচিব মার্ক রুট। তাঁর দাবি, ইউরোপ যদি মনে করে যে তারা আমেরিকাকে ছাড়া নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম, তবে তারা ‘স্বপ্ন দেখছে’। নেটো মহাসচিব মন্তব্যটি করেছেন এমন এক সময়ে, যখন গ্রিনল্যান্ডের মতো বিষয় নিয়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনের জেরে ইউরোপের অভ্যন্তরে আমেরিকার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের দাবি জোরদার হচ্ছে। এক দিকে ইউরোপীয় দেশগুলি ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের চাপ সম্পর্কে ক্রমশ সচেতন হচ্ছে; অন্য দিকে, নেটোর শীর্ষ কর্মকর্তা আমেরিকা ছাড়া ইউরোপের কাজ করার অক্ষমতার উপরে জোর দিচ্ছেন। স্পষ্টতই ইউরোপের ‘কৌশলগত স্বশাসন’-এর আকাঙ্ক্ষা উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধের সম্মুখীন। নেটোর দিক থেকে ট্রান্স-আটলান্টিক জোট বজায় রাখার আগ্রহ রয়েছেই, কেননা এই জোটের মূল স্তম্ভই আমেরিকার পারমাণবিক ক্ষমতা। প্রশ্ন হল, যে জোট তার সদস্যদের স্বাধীনতা বিসর্জন দিয়ে কেবল একটি দেশের উপর নির্ভরতাকে আঁকড়ে বাঁচতে চায়, তার অস্তিত্বের যাথার্থ্য কতখানি?

এ দিকে, দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরাম-এ ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসোম প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি কয়েক জন ইউরোপীয় নেতার ‘কঠোর না হওয়ার’ বিষয়ে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, এই নেতাদের ‘কিছুটা মেরুদণ্ড থাকা উচিত’। কেউ বলতে পারেন যে, ইউরোপের সমস্যাটি কেবল সক্ষমতার অভাব নয়, এটি উদ্ভূত আমেরিকার উপরে অতিনির্ভরশীলতার মানসিকতা থেকে। সেই কারণে এ-যাবৎ ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করার সময়, অন্তর্বর্তী দ্বন্দ্ব এবং আশঙ্কার পুনরুত্থান বার বার থমকে দিয়েছে ইউরোপের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের প্রচেষ্টাকে। এমন এক সন্ধিক্ষণে, যেখানে ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভাঙন মেরামত করা কঠিন হয়ে উঠছে, জাগরণের এক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে ইউরোপ। মুষ্টিমেয় ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়ন একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যা সাম্প্রতিক কালে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দূরত্ব বৃদ্ধির মাধ্যমে যথেষ্ট স্পষ্ট। ইউরোপকে সামরিক ও অর্থনৈতিক, উভয় দিক থেকেই আরও স্বাধীন ভাবে কাজ করতে সক্ষম হতে হবে— ডাচ প্রধানমন্ত্রী ডিক স্কুফের এ-হেন বক্তব্য তারই ইঙ্গিতবাহী।

বাস্তবিকই, ইউরোপ এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি— ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝে আগামী দিনেও সে আমেরিকার শরণাপন্ন থাকবে, না কি এক স্বাধীন পথ অনুসরণ করবে। মহাদেশের রাষ্ট্রনেতারা বিলক্ষণ জানেন, ইউরোপের কৌশলগত স্বশাসন অসাধ্য নয়, তবে এর জন্য অভ্যন্তরীণ ঐকমত্য এবং সম্মিলিত পদক্ষেপ চাই। তবে, সর্বাগ্রে, ইউরোপকে আমেরিকার উপরে তার মনস্তাত্ত্বিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক নির্ভরতা কমাতে হবে। তার পরে নিজের নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠনের পথ খুঁজতে হবে। অন্যথায় ‘কৌশলগত স্বশাসন’ একটি অলীক স্বপ্ন হিসাবেই থেকে যাবে। আর নেটো পরিণত হবে একটি পথ-আটকানো কাঠামোয়, এমন এক কাঠামো যা অতিক্রম করা ক্রমশই কঠিন হয়ে উঠবে ইউরোপের পক্ষে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন