Delhi Diary

দিল্লি ডায়েরি: যেন মেয়ের বিয়ে, পেনসিল হাতে শতাব্দী

শতাব্দী গিয়েছেন কংগ্রেসের কে সি বেণুগোপালের সই নিতে, কিন্তু কলম নেই। পাশের সাংসদ উৎসাহী হয়ে কালির রং যাচাই করে একটি দিলেন। সই হল। সেটি নিয়েই শতাব্দী এগোলেন কংগ্রেসের লোকসভা সাংসদ কুমারী শৈলজার কাছে।

অগ্নি রায়, অনমিত্র সেনগুপ্ত, প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৬ ০৬:০৯
Share:

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের জন্য আনা প্রস্তাবের খসড়ায় বিরোধী দলের সাংসদদের সই করানোর দায়িত্বে ছিলেন তৃণমূলের লোকসভার উপনেতা শতাব্দী রায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব বিরোধী দলের প্রতিনিধি-সহ ন্যূনতম একশো জন সাংসদের কাছে গিয়ে বুঝিয়ে সই নেওয়া নিয়ে তাঁর রসিকতা, যেন মেয়ের বিয়ে! শতাব্দী গিয়েছেন কংগ্রেসের কে সি বেণুগোপালের সই নিতে, কিন্তু কলম নেই। পাশের সাংসদ উৎসাহী হয়ে কালির রং যাচাই করে একটি দিলেন। সই হল। সেটি নিয়েই শতাব্দী এগোলেন কংগ্রেসের লোকসভা সাংসদ কুমারী শৈলজার কাছে। শৈলজা বললেন, আরে এ তো পেনসিল! ভুল শোধরানো হল, সাদা কালি দিয়ে নিজের সই মুছে আবার হস্তাক্ষর করলেন বেণুগোপাল। হাঁপ ছাড়লেন নেত্রী ও অভিনেত্রী।

দায়িত্ব: সংসদে বাজেট অধিবেশনে শতাব্দী রায়। ফেব্রুয়ারি ২০২৬। ছবি: পিটিআই।

‘পারেনও বটে’

ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ভারতে প্রভাব নিয়ে বিরোধীদের আলোচনার দাবিতে বাজেটে অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব প্রথম দিনই মুলতুবি হয়ে যায়। মকর দ্বারের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। দেখা কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা জয়রাম রমেশের সঙ্গে। রিজিজু জানান, রাজ্যসভার ৩৭ জন সাংসদের মেয়াদ ৯ এপ্রিল শেষ হচ্ছে। তাঁদের সংবর্ধনা নিয়ে জয়রামের সঙ্গে কথা বলতে চান। জয়রাম বলেন, সমস্যা নেই। তবে একটি পরামর্শ। মুচকি হেসে বললেন, “রাজ্যসভার সদ্য প্রাক্তন চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড় হঠাৎ ইস্তফা দেওয়ায় বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া যায়নি। সাংসদদের সঙ্গে যদি তাঁকেও সংবর্ধনা দেওয়া যেত...।” ধনখড়কে আচমকা সরানো নিয়ে এখনও অস্বস্তিতে রয়েছে শাসক শিবির। তাই জয়রাম মজা করছেন বুঝে হেসে ফেলেন রিজিজু। বলেন, “আপনি পারেনও বটে।”

কোন পথে যে চলি

নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন হয়েছে প্রায় বছর তিনেক। ব্রিটিশ জমানায় তৈরি পুরনো সংসদ ছেড়ে গুজরাতের স্থপতি বিমল পটেলের নকশা করা নতুন সংসদ ভবনে অধিবেশন বসছে। কিন্তু এই নতুন ভবনের ভিতরে একের পর এক সমান্তরাল করিডর এখনও অনেকের কাছে ভুলভুলাইয়া। মাঝে মাঝেই সাংসদ, কর্মীরা পথ ভুলে পাক খেতে থাকেন। বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে পথ হারালেন। তিনি রাজীব শুক্ল ও পি চিদম্বরমের সঙ্গে সংসদ ভবনে ঢুকে রাজ্যসভায় নিজের দফতরের দিকে যাচ্ছিলেন। কিন্তু চলে গেলেন লোকসভার কক্ষের দিকে। শেষবেলায় ভুল বুঝতে পেরে বললেন, “আরে এ কোথায় এলাম!” আবার ঠিক পথ ধরতে হল।

উপাদেয়: বাঙালির প্রিয় বেগুনি।

ঠান্ডা বেগুনি

অশ্বিনী বৈষ্ণব মোদী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হওয়ার পর নতুন প্রথা হয়েছে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতি সপ্তাহের সাংবাদিক সম্মেলনের পর যে রাজ্যের জন্য প্রকল্প ঘোষণা হয়েছে, সে দিন ওই রাজ্যের কোনও জলখাবার চায়ের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। মন্ত্রী, আমলা, সাংবাদিকরা চা খেতে খেতে সেই খাবার নিয়েই কথা বলেন। যে রাজ্যের খাবার, অবধারিত ভাবে সে রাজ্যের সাংবাদিকদের মন ওঠে না। বিধানসভা ভোট ঘোষণার আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার চলতি সপ্তাহের বৈঠকে বাংলার জন্য প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার দু’টি রেল প্রকল্প মঞ্জুর হল। এ নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনের শেষে দেখা গেল, কলকাতার যে সুপরিচিত কেটারার বঙ্গভবনের খাবার পরিবেশনের দায়িত্বে, তাদের প্যাকেট। ভিতরে ভেজিটেবল চপ, বেগুনি, রসগোল্লা, মিষ্টি দই। সবাই উপভোগ করলেও বাঙালি সাংবাদিকরা বেগুনি ঠান্ডা হয়ে গেলে জমে না বলে অনুযোগ জানিয়ে গেলেন।

যা আড়াই, তা-ই দেড়

রাজনীতিবিদরা কে কত দিন সাংসদ, মন্ত্রী থেকেছেন, সেই হিসাব সাধারণত তাঁদের গোলায় না। উত্তরপ্রদেশের দলিত নেতা চন্দ্রশেখর আজ়াদ ‘রাবণ’ ২০২৪-এ নাগিনা থেকে জিতে প্রথম বার সাংসদ হয়েছেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় বার বার বললেন, তাঁর আড়াই বছরের সাংসদ জীবনে কী কী অভিযোগ রয়েছে! শেষে লোকসভার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জগদম্বিকা পাল বললেন, “বর্তমান লোকসভা মাত্র দেড় বছর আগে তৈরি হয়েছে। আপনার আড়াই বছরের অভিযোগ কী ভাবে জমে গেল!”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন