রাষ্ট্রপুঞ্জের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩-এর অক্টোবর থেকে ২০২৫-এর অক্টোবরে গাজ়ায় অন্তত ২০,১৭৯ জন শিশুর প্রাণ গিয়েছে, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৩০ শতাংশ। কমিশনের অভিযোগ, ইজ়রায়েল সাধারণ নাগরিকদেরও হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করত, শিশুমৃত্যু বাড়লেও ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় তারা উচ্চ ধ্বংসক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র ও বোমা ছুড়েছে— যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরেও। অর্থাৎ, ইচ্ছাকৃত ভাবে শিশুদের লক্ষ্য করা হয়েছে। উপর্যুপরি হামলা, মাথার ছাদ হারানো, খাদ্য, ওষুধ, ত্রাণ আটকে রাখায় সৃষ্ট অনাহারেরও বলি শিশুরা। অভিযোগ, প্যালেস্টাইনিদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নষ্ট করতেই এই পরিকল্পিত হামলা। স্বাস্থ্যব্যবস্থা, প্রসূতি-পরিষেবার উপরও আক্রমণ হয়েছে, মাতৃগর্ভে এবং জন্মেই ঝরে গিয়েছে বহু প্রাণ। ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের হাত থেকেও রেহাই পায়নি প্যালেস্টাইনের শিশু-কিশোররা। গণহত্যার মতো ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ভরা রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিবেদনটিকে পক্ষপাতদুষ্ট ও মানহানিকর বলে পাল্টা আপত্তি জানিয়েছে ইজ়রায়েল। হামাসের ক্রিয়াকলাপ, ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক বরাবর লাগাতার সন্ত্রাসের হুমকি এবং ইজ়রায়েলের তরফে টিকাকরণ, অস্থায়ী হাসপাতাল চালানোর মতো কাজকে আড়াল করার পাল্টা অভিযোগও করেছে। যুদ্ধের ময়দানে সত্য নির্ধারণ কঠিন নিশ্চয়ই, কিন্তু শিশুদেহের এই প্রকাণ্ড স্তূপ গোটা মানবসভ্যতার চরম লজ্জা ও পরাজয়ের চিহ্ন ছাড়া আর কী!
অঙ্গীকার: গাজ়ার এক হাসপাতালে আহত শিশুকে আগলে রাখা। ছবি: রয়টার্স।
কী গরম!
তীব্র গরম, পুড়ছে ইউরোপ। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে বহু জায়গায় গরমে রেললাইন বেঁকে যাচ্ছে, বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ছে, ঘরবাড়ি এমন তেতে উঠছে যে আর থাকতে পারছেন না মানুষ। তীব্র দাবদাহের বলি অনেক প্রাণ। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, তাপপ্রবাহ আরও বাড়বে। বস্তুত, এখন ইউরোপ বিশ্বের দ্রুততম উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ— যেখানে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় তাপমাত্রা প্রায় দুই থেকে তিন গুণ দ্রুত বাড়ছে। এর মূলে অবশ্যই জলবায়ু পরিবর্তন, যা ঘটছে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো-সহ মানুষের নানাবিধ কার্যকলাপের জেরে। তবে সমস্যা অন্যত্র— বিশ্বের অন্যান্য অনেক অঞ্চলের মতোই ইউরোপও এ কথায় কান দেয়নি, জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে দ্রুত। ইউরোপবাসী এখন ভুক্তভোগী, অসহায়।
ভাষায় প্রকাশ
১৯৪৫-এর ৬ অগস্ট যখন হিরোশিমায় বোমা পড়ে, তখন ভাগ্যক্রমে সেখানে ছিলেন না যাজক কিয়োশি তানিমোতো। ছিলেন অন্য শহরে। ফিরে যে ভয়াবহ দৃশ্যের সাক্ষী হন, তার পরে ভেবেছিলেন, এই সর্বনাশা স্মৃতি আক্ষরিক অর্থেই অবর্ণনীয়। পরে অবশ্য মত বদলান এই ভেবে, হিরোশিমার স্মৃতিকথা লেখা হলে হয়তো ভবিষ্যতে আর কাউকে এমন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে না। এত দিন সেই লেখা রাখা ছিল আমেরিকার এক আর্কাইভে, এ বছর ৬ অগস্ট বই হয়ে বেরোবে। কিয়োশি অবশ্য দেখতে পেলেন না, ১৯৮৬ সালেই প্রয়াত হয়েছেন তিনি।
নতুন তর্ক
বাংলায় ‘তেতাল্লিশের মন্বন্তর’-এ উইনস্টন চার্চিলের ভূমিকা কী ছিল, তা নিয়ে তর্ক সুবিদিত। আশি বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে সেই ভয়াল দুর্ভিক্ষের, কিন্তু বিতর্ক পিছু ছাড়েনি, বোঝা গেল সম্প্রতি। লন্ডনের ন্যাশনাল পোর্ট্রেট গ্যালারিতে শিল্পী হেলেন ক্যামক-এর একটি ভিডিয়ো ইনস্টলেশন চলার কথা ছিল অগস্ট অবধি, কিন্তু ঢের আগেই তা তুলে নিতে হল। আয়ারল্যান্ডে সামরিক অভিযানে অলিভার ক্রমওয়েল কী ভাবে প্রচুর মানুষকে অনাহারে মেরেছিলেন, তা বলতে গিয়ে হেলেন তুলনা টেনেছিলেন চার্চিল ও বঙ্গ-মন্বন্তরের। চার্চিলের জীবনীকার, বংশধর-সহ প্রায় ৫০ জন গ্যালারিকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন, শিল্পীর ওই তুলনা ও তথ্য ভুল। শিল্পী বলছেন, চাপের মুখে নতিস্বীকার করতে বাধ্য করা হল; শিল্প ও শিল্পীর প্রশ্ন করার স্বাধীনতা থাকবে না?
খবরে: উইনস্টন চার্চিল। ছবি: গেটি ইমেজেস।
সবুজের অধিকার
গাছের প্রাণ আছে, জানা। কিন্তু মানুষ বা অন্য জীবের মতোই বাঁচার বা বেড়ে ওঠার অধিকার আছে? কানাডার শহর টেরাস-ভড্রিউয়ের পুরসভা সম্প্রতি গাছেদের জীবন ও প্রাকৃতিক বাড়বৃদ্ধির অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে, গাছকে ঘোষণা করেছে মানুষের ‘সবচেয়ে বড় সঙ্গী’ হিসেবে। মেয়র বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত হয়েছে সর্বসম্মতিক্রমে, কোনও কাউন্সিলরই অমত করেননি, এমনকি উন্নয়নের প্রশ্নেও এতে কোনও সমস্যা হবে বলে তাঁরা মনে করেন না। এ বার আইনকানুন খতিয়ে দেখা হবে, যাতে শহরের সব গাছের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। ‘ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অব দ্য রাইটস অব দ্য ট্রি’ নামে পরিবেশ সংস্থাগুলির যে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ, কানাডার কোনও পুরসভা এই প্রথম তাতে নাম লেখাল।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে