teacher being attacked

‘নির্বাচনী কাজের প্রশিক্ষণেই প্রহৃত শিক্ষক, ভোটের দিন কী হবে?’ প্রশ্ন শিক্ষকদের একাংশের

প্রশিক্ষণ শিবিরে রাজ্য সরকারি প্রকল্পের ভিডিয়ো দেখানো নিয়ে বচসা। অভিযোগ মারধর করা হয় ভোটকর্মী হিসাবে নিযুক্ত এক প্রাথমিক শিক্ষককে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ ১৬:৩৪
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

নির্বাচনী কাজের প্রশিক্ষণে গিয়েই রক্তাক্ত হয়েছেন এক শিক্ষক-ভোটকর্মী। শুক্রবার নদিয়ার রানাঘাটে শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ ওঠে।

Advertisement

এ ঘটনার প্রতিবাদে আগামী ৩০ মার্চ গোটা রাজ্যে প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভের ডাক দিল সিপিএমের শিক্ষক সংগঠন। অভিযোগ জানানো হয়েছে মু্খ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরেও। নির্বাচনী কাজের প্রশিক্ষণে গিয়েই মার খেতে হলে, ভোটের দিন কাজ করবেন কী করে? প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষকদের একাংশ।

শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ জানান, নদিয়ার রানাঘাটের দেবনাথ ইনস্টিটিউশন ফর বয়েজ় স্কুলে প্রশিক্ষণ চলছিল। সেখানেই যোগ দিয়েছিলেন প্রাথমিক শিক্ষক সৈকত চট্টোপাধ্যায়। অভিযোগ, প্রশিক্ষণ শুরুর আগে জায়ান্ট স্ক্রিনে দিঘার জগন্নাথ ধাম সংক্রান্ত কিছু ভিডিয়ো দেখানো হচ্ছিল। নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি জারি থাকা অবস্থায় এ ভাবে সরকারি প্রকল্পের ভিডিয়ো দেখানোর প্রতিবাদ করেন সৈকত। অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন প্রশিক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী-আধিকারিকেরা। সৈকত ওই কর্মীদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুললেই তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

Advertisement

ভাস্করের দাবি, এই ঘটনার প্রতিবাদে মু্খ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে অভিযোগ করা হয়েছে। আগামী শনিবার স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “রাজ্য প্রশাসনের প্রত্যেকটি স্তরেই একটি নির্দিষ্ট কর্পোরেট সংস্থার লোকজন রয়েছে, যাঁরা শাসকদলের হয়ে কাজ করছে। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের আরও কঠোর পদক্ষেপ করা উচিত।”তাঁরা দাবি তোলেন, নির্বাচন পরিচালনার কোন‌ও স্তরে অস্থায়ী কর্মী রাখা যাবে না।

অন্য দিকে, ভোটকর্মী ও বিএলও ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল অভিযোগ করেন, ‘‘নির্বাচনের প্রশিক্ষণেই গিয়েই যদি এই পরিস্থিতি হয় তা হলে নির্বাচনের সময়ে নিরাপত্তার কী হবে? যেখানে নির্বাচনী আচরণ বিধি চালু হয়েছে সেখানে কেন মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দেখানো হবে?’’ নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধ্রুবশেখর মণ্ডল বলেন, ‘‘শিক্ষকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। এবিটিএ এবং এবিপিটিএ যৌথ ভাবে ৩০ মার্চ গোটা রাজ্যে বিক্ষোভ মিছিল করবে।’’ দোষীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির দাবিও তুলেছেন শিক্ষকেরা।

পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য সভাপতি প্রীতমকুমার হালদার বলেন, ‘‘শিক্ষকের প্রহৃত হওয়ার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। কিন্তু গোটা বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। ঠিক কী কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হল, তা জানা যাচ্ছে না। ওই সময়ের কোনও ফুটেজ নেই। তবে বর্তমানে সবই নির্বাচন কমিশনের অধীনে। তাই প্রতিবাদ হওয়া উচিত কমিশনের বিরুদ্ধেই।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement