— প্রতীকী চিত্র।
পর পর দু’দিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশের অভিযোগ। ফের উস্কে উঠল বিতর্ক।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, গত বুধবার বিকেলে ক্যাম্পাসের ভিতরে এক ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ ওঠে এক বহিরাগত যুবকের বিরুদ্ধে। তাঁকে ধরে ফেলেন অন্য ছাত্র-ছাত্রীরা। এর পর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলে ওই যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
ঠিক তার পর দিন, বৃহস্পতিবারই ক্যাম্পাসের ভিতরে রামনবমীর পুজোকে কেন্দ্র করেও ফের বহিরাগতের প্রবেশের অভিযোগ উঠল। ছাত্র সংগঠন আরএসএফ-এর তরফে ইন্দ্রানুজ রায় অভিযোগ করেন, এভিবিপি-র পুজোউদ্যাক্তাদের মধ্যে বহিরাগতরাও রয়েছেন।
পড়ুয়ারা প্রশ্ন তুলছেন, বহিরাগত ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে ব্যবস্থা নিয়েছেন তা কি আদৌ যথাযথ?
গত ২০ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাসের ভিতরেই দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেই গোলমাল ঠেকাতে গিয়ে প্রহৃত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক। অভিযোগ ওই দুই সংগঠনের মধ্যেও ছিলেন কয়েকজন বহিরাগত। এমনকি যাঁদের বিরুদ্ধে শিক্ষক মারধরের অভিযোগ ওঠে তাঁদের একজনও বহিরাগত বলে জানা যায়।
অথচ বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, গত বছর অগস্টে ক্যাম্পাসে সিসি ক্যামেরার নজরদারির বৃদ্ধির জন্য নবান্ন প্রায় ৬৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে। যাদবপুর এবং বিধাননগর— দুই ক্যাম্পাসেই সিসি ক্যামেরা লাগানোর কাজ এখনও চলছে। এছাড়াও ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার স্বার্থে সৈনিক বোর্ড থেকে ৩০ জন নিরাপত্তারক্ষী নিযুক্ত করা হয়। ক্যাম্পাসে প্রবেশের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিধিনিষেধ জারি করেন কর্তৃপক্ষ। গাড়ি নিয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে পরিচয়পত্র যাচাই করিয়েই যাতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেন পড়ুয়া থেকে শিক্ষক ও কর্মীরা, তেমনই নির্দেশ রয়েছে কর্তৃপক্ষের তরফে। অথচ, আখেরে কোনও লাভই হয়নি, মনে করছেন পড়ুয়ারা।
এ দিন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, “পড়ুয়ারা সব সময় পরিচয়পত্র গলায় ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়াবেন, সেটা কাম্য নয়। ফলে বহিরাগত ঠেকানো একটু সমস্যার। তবে বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে ঢোকা রুখতে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পদক্ষেপ করা হয়েছে। আরও কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এগুলির দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।”