Vacancy in school Education

কোন স্কুলে কত শূন্যপদ! তালিকার তথ্যে গরমিলের অভিযোগ, দাবি কেন্দ্রীয় পোর্টালের

সম্প্রতি স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রকাশিত একাদশ ও দ্বাদশ স্তরের স্কুল ও শূন্যপদের সংখ্যার মধ্যে সামঞ্জস্য নেই বলেই অভিযোগ উঠেছে। দাবি, রাজ্যের সব জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিসে থেকে শূন্যপদের তালিকা পোর্টালে আপলোড করা হয়, যা ব্যবহার করতে পারে শুধুমাত্র বিকাশ ভবনে স্কুলশিক্ষা কমিশনারের অফিস।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ১৫:৫৩
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

স্কুল শিক্ষা দফতরের অধীনে বিভিন্ন সংস্থাগুলির জন্য রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন পোর্টাল। কিন্তু কেন্দ্রীয় ভাবে কোনও পোর্টাল না থাকায় তথ্যের হেরফের হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষকেরাই। বিশেষ করে শিক্ষকের শূন্যপদ সংক্রান্ত তথ্য স্কুল স্তর থেকে স্কুল সার্ভিস কমিশন পর্যন্ত কোনও স্তরেই পরিষ্কার ভাবে জানা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। তার ফলে তৈরি হচ্ছে বিভ্রান্তিও।

Advertisement

সম্প্রতি স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রকাশিত একাদশ ও দ্বাদশ স্তরের স্কুল ও শূন্যপদের সংখ্যার মধ্যে সামঞ্জস্য নেই বলেই অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে স্কুলশিক্ষা কমিশনার, স্কুলসার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কাছে চিঠি দিয়েছেন ‘অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’-এর রাজ্য সম্পাদক চন্দন গড়াই। একই ভাবে স্বচ্ছতার দাবি তুলেছে প্রধানশিক্ষকদের সংগঠন ‘অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেস।’

তাঁদের দাবি, রাজ্যের সব জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিসে থেকে শূন্যপদের তালিকা পোর্টালে আপলোড করা হয়, যা ব্যবহার করতে পারে শুধুমাত্র বিকাশ ভবনে স্কুলশিক্ষা কমিশনারের অফিস। তারপর সেই তথ্য দেওয়া হয় মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও স্কুলসার্ভিস কমিশনে। কিন্তু এই পোর্টালটি কমিশন ব্যবহার করতে পারে না। কমিশনারের অফিস থেকে দেওয়া তথ্যের উপরেই ভরসা করতে হয় পর্ষদ ও কমিশনকে। তাঁদের দাবি, গোটা প্রক্রিয়াটি স্কুল বুঝতে পারে না। একেবারে শেষ পর্যায়ে কমিশন শূন্যপদের তালিকা প্রকাশ করলে তখন তা জানতে পারেন সকলে।

Advertisement

সম্প্রতি যে তালিকা প্রকাশ হয়েছে সেখানে শূন্যপদের সঙ্গে স্কুলের তথ্যের ফারাক রয়েছে বলে অভিযোগ। কেন্দ্রীয় ভাবে কোনও পোর্টালের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত হলে আগেই এই ভ্রান্তি দূর করে ফেলা যেত বলে দাবি তাঁদের। চন্দন বলেন, “কোনও স্কুলে শূন্যপদ নেই, অথচ ওই তালিকায় শিক্ষক নিয়োগের জন্য স্কুলের নাম রয়েছে। আবার কোথাও একাদশ দ্বাদশ স্তরের জন্য পঞ্চম থেকে দশম স্তরের শিক্ষক নিয়োগকে ‘নর্মাল সেকশন ২’-এর শূন্যপদে দেখানো হয়েছে। শূন্যপদ গুলিতে আদৌ নিয়োগের জন্য কোনও প্রক্রিয়া হচ্ছে কি না সেটা আমরা প্রথমে বুঝতেই পারি না।”

তাঁর দাবি, যত ক্ষণ না কমিশন তালিকাপ্রকাশ করছে, তত ক্ষণ তা বোঝার কোনও উপায় নেই। কিন্তু ওই তালিকা প্রকাশ হতে হতেই যা ভুল হওয়ার তা হয়ে যাচ্ছে। কোনও কেন্দ্রীয় পোর্টাল থাকলে বা স্কুল আগে থেকে পোর্টালের এই তালিকা অন্তত দেখতে পারলে এই ভুল হত না বলেই দাবি শিক্ষকদের একাংশের।

প্রধান শিক্ষকদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক চন্দন মাইতি বলেন, “আমরা শুধু স্কুলের শূন্যপদ দেখতে পাই। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কী হচ্ছে কিছুই বোঝার উপায় থাকে না। এই প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে হলে শূন্যপদের তালিকা সকলের দেখা উচিত। কোথাও কোনও সমস্যা হলে যেন সকলের চোখে পড়ে।” এ ভাবে কি কোনও কেন্দ্রীয় পোর্টাল আদৌ চালু করা সম্ভব?

যদিও এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনও মত পাওয়া যায়নি। পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় বা কমিশনের চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদারকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে স্কুলশিক্ষা কমিশনারেটের এক কর্তা বলেন, “বিষয়টি পুরোপুরি সরকার ও দফতরের বিবেচনাধীন।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement