ছবি: এক্স থেকে নেওয়া।
বিয়ের পর মেয়ে যদি স্বামীর সঙ্গে ঘর করতে না পারে বা সব কিছু ঠিক ঠিক না চলে, তা হলে কি সে আবার ঘরে ফিরতে পারে? বাবা-মায়ের সঙ্গে বাকি জীবন কাটাতে পারে? বাবাকে প্রশ্ন করেছিলেন তরুণী। উভয়ের কথোপকথনের সেই ভিডিয়ো দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে নেটপাড়ার। ত্বিশা শর্মার মৃত্যুকে ঘিরে দেশ জুড়ে যে আলোড়ন তৈরি হয়েছে, তার পালে হাওয়া লাগিয়েছে ভিডিয়োটি। ভিডিয়োটি অনেক ভারতীয় কন্যাদের উপর যে কোনও মূল্যে বিয়ে টিকিয়ে রাখার জন্য ‘মানিয়ে নেওয়ার’ যে চাপ থাকে, তা নিয়েও আবেগঘন এবং অত্যন্ত বেদনাদায়ক আলোচনাকে আবার উস্কে দিয়েছে। ভাইরালও হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। ঘটনাটি কবে এবং কোথায় ক্যামেরাবন্দি করা হয়েছে, তা ওই ভিডিয়ো থেকে স্পষ্ট নয়।
ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, বাবা-মায়ের সঙ্গে বসে রয়েছেন এক তরুণী। একসঙ্গে খাবার খেতে বসেছেন তাঁরা। এমন সময় তরুণী কন্যা, বাবা-মাকে তাঁদের বিয়ে সম্পর্কে সাধারণ কিছু প্রশ্ন করে। কিন্তু আলোচনাটি শীঘ্রই আবেগঘন হয়ে ওঠে যখন তিনি মা এবং বাবাকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করেন যে বিয়ের পর কখনও অসুখী, নিরাপত্তাহীন বা মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত বোধ করলে তিনি বাড়ি ফিরে আসতে পারবেন কি না। তরুণী প্রশ্ন করেন, “যদি আমার বিয়েটা ঠিক না চলে… আমি কি তোমাদের কাছে ফিরে আসতে পারি?” বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে তাঁর বাবা-মা তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন, “কেন তুমি ফিরে আসতে পারবে না? কে আটকাচ্ছে তোমায়? এই বাড়ির দরজা তোমার জন্য সব সময় খোলা। এই বাড়িটা তোমারই।” তরুণীর বাবা তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে আরও বলেন, ‘‘তুমিই আমার পৃথিবী। তুমি যে কোনও সমস্যার মোকাবিলা করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।’’ কথোপকথন চলতে থাকে এবং বাবা-মা ওই তরুণীকে বার বার মনে করিয়ে দেন যে, কন্যার নিরাপত্তা এবং সুখের চেয়ে কোনও বিয়ে, সামাজিক প্রত্যাশা বা জনমত বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। বাবা-মায়ের থেকে এই সমর্থন পেয়ে চমকে যান তরুণী। আনন্দিতও হন। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। বাবা-মায়ের সঙ্গে মেয়ের আবেগঘন কথোপকথনটি সমাজমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ভাইরাল ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘কপিল বিশ্নোই’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। সমাজমাধ্যমে আলোচনারও জন্ম দিয়েছে ভিডিয়োটি। সামাজিক চাপ এবং পারিবারিক সম্মানের চেয়ে মেয়ের মানসিক সুরক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কারণে অনেক নেটাগরিক তরুণীর বাবা-মায়ের প্রশংসা করেছেন। এক নেটাগরিক ভিডিয়োটি দেখার পর লিখেছেন, ‘‘প্রত্যেক মেয়েরই এমন বাবা-মা প্রাপ্য, যাঁরা এক মুহূর্তও না ভেবে বলেন ‘বাড়ি ফিরে এসো।’” অন্য এক জন লিখেছেন, ‘‘মহিলারা এখন আর শুধু বিয়েকে ভয় পায় না, তারা ভয় পায় ফেরার কোনও জায়গা না থাকাকে।”