ছবি: এক্স থেকে নেওয়া।
দিল্লির যমুনা নদীর তীরে ভিড় জমালেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির সদস্যেরা। দল বেঁধে নদীর পারও পরিষ্কার করলেন। আর পুরোটাই তাঁরা করলেন আরশোলার বেশে। কেউ পরেছিলেন আরশোলার শুঁড়। আবার কেউ গলায় ঝুলিয়েছিলেন, ‘আমি একটি আরশোলা’ লেখা পোস্টার। সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
কিছু দিন আগে শুরু হওয়া ভাইরাল ‘পলিটিক্যাল স্যাটায়ার মুভমেন্ট’ বা রাজনৈতিক ব্যঙ্গ আন্দোলন থেকে তৈরি হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। সিজেপিকে নিয়ে দেশ জুড়ে হইচই পড়েছে। দেশের অনেক নামীদামি ব্যক্তিত্ব, এমনকি রাজনৈতিক নেতারাও ইনস্টাগ্রামে ফলো করতে শুরু করেছেন তাঁদের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলটিকে। বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে তাদের ফলোয়ারের সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-সহ ভারতের বেশির ভাগ মূলধারার রাজনৈতিক দলের চেয়েও ইনস্টাগ্রামে অনুসারীর সংখ্যা বেশি তাদের।
এর সূত্রপাত বেকার তরুণ-তরুণীদের একাংশ ‘আরশোলা’র মতো আচরণ করেন বলে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করার পর। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির মতে, ওই তরুণ-তরুণীরা কোনও পেশায় স্থান না পেয়ে সাংবাদিক, সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী বা তথ্যের অধিকার কর্মী হিসাবে কাজ শুরু করেন ও সকলকে আক্রমণ করেন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ওই মন্তব্যের পর অনলাইনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে বেকার তরুণ-তরুণীদের একাংশ সংগঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। জন্ম হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির। তারা একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে নেটমাধ্যমে। শুরু হয় নেটমাধ্যমে দলের সদস্য সংগ্রহের কাজও।
সেই সিজেপির সমর্থকদেরই এ বার আরশোলার বেশে যমুনা নদীর পার পরিষ্কার করতে দেখা গিয়েছে। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, বেশ কিছু তরুণ-তরুণী আরশোলার বেশে কালিন্দী কুঞ্জ ঘাটে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাচ্ছেন। তাদেঁর হাতে হাতে ঝাড়ু, ময়লার ব্যাগ এবং পোস্টার। কয়েকটি পোস্টারে লেখা, “আমি একটি আরশোলা।” ভিডিয়োয় ওই তরুণ-তরুণীদের যমুনা নদীর তীর থেকে প্লাস্টিক ও আবর্জনা কুড়োতেও দেখা গিয়েছে। তাঁদের দেখে ওই জায়গায় স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
ভাইরাল ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘মহেশ আন্ধালে অফিসিয়াল’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই আবার মজার মজার মন্তব্য করেছেন অনেকে। আরশোলার বেশে থাকা ওই তরুণ-তরুণীদের প্রশংসাতেও পঞ্চমুখ হয়েছেন নেটাগরিকদের একাংশ। অনেকে আবার বিষয়টিকে সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা বলেও মন্তব্য করেছেন।