Morning School in West Bengal

চড়ছে তাপমাত্রার পারদ, গ্রীষ্মের ছুটির পর নয়া নির্দেশিকা জারি করল স্কুলশিক্ষা দফতর

এই বছর প্রথমে ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গত ১১ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত গরমের ছুটি ছিল। পরে তা বৃদ্ধি করে ৩১ মে করা হয়। ১ জুন থেকে চালু হয় স্কুল। কিন্তু সারা রাজ্যে, বিশেষত পশ্চিমের জেলাগুলিতে গরমের দাপট অব্যাহত।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ ১৫:২৬
Share:

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

গ্রীষ্মের ছুটি শেষ হয়ে গিয়েছে সরকারি এবং সরকার পোষিত স্কুলগুলিতে। এ দিকে গরমের দাপট বাড়তে শুরু করেছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, চলতি বছর বর্ষার ঘাটতি থাকবে। প্রায় গোটা জুন মাস জুড়েই চলবে গরমের দাপট।

Advertisement

এই পরিস্থিতিতে কি ফের স্কুল বন্ধের নির্দেশ দেবে সরকার? এ প্রশ্নের মধ্যেই বিজ্ঞপ্তি জারি হল স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে। গরমের ছুটির পরে স্কুল খোলার প্রথম দিনেই বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে দফতর। সোমবার ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিভিন্ন জেলায় গরমের দাপট বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে স্কুলগুলি নিজেদের মত করে সময় নির্ধারণ করতে পারে। জেলা স্কুল পরিদর্শকের দফতরকে দেওয়া নির্দেশে বলা হয়েছে, প্রয়োজন হলে স্কুলগুলি সকালে ক্লাস করাতে পারে।

এই বছর প্রথমে ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গত ১১ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত গরমের ছুটি ছিল। পরে তা বৃদ্ধি করে ৩১ মে করা হয়। ১ জুন থেকে চালু হয় স্কুল। কিন্তু সারা রাজ্যে, বিশেষত পশ্চিমের জেলাগুলিতে গরমের দাপট অব্যাহত। এই পরিস্থিতিতে স্কুল বন্ধ না রেখে জেলাভিত্তিক স্কুলগুলিকেই সকালে করার অনুমতি দিল দফতর।

Advertisement

এক জেলা স্কুল পরিদর্শক জানান, সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে দফতর। আগামী দু’সপ্তাহে পরিস্থিতি অনুযায়ী স্কুলের সময়ের পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে অনুমতি দেওয়া হল। কোনও বিশেষ জেলার নাম উল্লেখ না থাকলেও প্রধানত বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলাগুলিতে সমস্যা অনেক বেশি বলে মনে করছে দফতর। তবে পাহাড়ি এলাকাগুলি ছাড়া রাজ্যের সর্বত্রই এই নির্দেশ কার্যকরী হবে বলে জানা গিয়েছে।

মঙ্গলবার থেকেই বিভিন্ন ডিআই-র স্কুলগুলোকে এই নির্দেশ পাঠানো শুরুও হয়েছে। দফতরের এক কর্তা জানান, এমনিতেই গরমের ছুটিতে কিছুটা বৃদ্ধি করা হয়েছ। ফলে আবার সেই ছুটি দিলে পঠনপাঠনের উপর প্রভাব পড়তে পারে। তাই আপাতত সকালে স্কুলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই গোটা প্রক্রিয়ার উপরে নজর রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট এসআই-দের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে সমস্যা হবে ইন্টিগ্রেটেড স্কুলগুলির ক্ষেত্রে। সেই সব স্কুলে সকালে প্রাথমিক এবং দিবা বিভাগে উচ্চ প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়ানো হয়। সে ক্ষেত্রে সব পড়ুয়াদের একই সময়ে অর্থাৎ সকালে ক্লাস হলে সমস্যা হতে পারে। ওই স্কুলগুলি কী করবে, তার উল্লেখ নেই বিজ্ঞপ্তিতে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা স্কুল পরিদর্শকদের সঙ্গে কথা বলেই পরিকল্পনা করতে হবে বলেই জানা যাচ্ছে।

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “গরম বাড়ছে, সমস্যাও বাড়তে পারে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে শহর ও শহরতলির স্কুলগুলোতে তো দু’বেলাই ক্লাস হয়। সে সব স্কুলে এই নির্দেশ কার্যকরী করা কঠিন হবে। তাই এক রকম বাধ্য হয়েই নিয়ম মাফিক ক্লাস করাতে হবে। কষ্ট হবে পড়ুয়াদের।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement