ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
রাজ্যে পালাবদলের পরেই নানা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তার মধ্যে অন্যতম শিক্ষাক্ষেত্রে ‘পিএমশ্রী’ (প্রধানমন্ত্রী স্কুলস ফর রাইজ়িং ইন্ডিয়া) মডেল স্কুল প্রকল্প। রাজ্য জুড়ে, প্রতিটি ব্লকে অন্তত দু’টি করে মডেল স্কুল তৈরি হবে। সম্প্রতি সেই প্রক্রিয়া শুরু হল। গত ১৫ মে দিল্লিতে কেন্দ্রের স্কুল শিক্ষামন্ত্রকের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের স্কুলশিক্ষা দফতরের এক মউ স্বাক্ষরিত হয়। স্কুলশিক্ষা দফতরের এক কর্তা জানান, সেখানে জাতীয় শিক্ষানীতি মেনে পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্প চালু করার ক্ষেত্রে দু’পক্ষই সহমত হয়েছে।
স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, ২০২২-২৩ সাল থেকে কেন্দ্রের তরফে চালু করা হয় ‘পিএমশ্রী’। ২০২৭ সালের মধ্যে গোটা রাজ্যে সমগ্র শিক্ষা অভিযানের মাধ্যমে ১৪ হাজারের বেশি স্কুলকে এই পিএমশ্রী প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়। রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে অন্তত একটি স্কুলকে বেছে নিয়ে প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করানো হবে, এমনই লক্ষ্য ছিল। সেই স্কুলের সার্বিক বিকাশ করা হবে। পরিকাঠামো থেকে শিক্ষার পদ্ধতি, সর্বত্রই মডেল হিসাবে পরিচিত হবে স্কুলগুলি। আশপাশের স্কুল পড়ুয়াদেরও সার্বিক বিকাশে সাহায্য করবে ওই সব স্কুল। উন্নয়নের খাতে ২৭ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করে কেন্দ্রীয় সরকার। কথা ছিল, স্কুলগুলিকে মডেল হিসাবে তৈরি করার জন্য মোট টাকার ৬০ শতাংশ দেবে কেন্দ্রীয় সরকার এবং ৪০ শতাংশ দেবে রাজ্য সরকার। কিন্তু শর্ত, ওই মডেল স্কুলের নামের আগে যুক্ত করতে হবে পিএমশ্রী। আর এখানেই আপত্তি তোলে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্য সরকার।
দফতর সূত্রের খবর, সে সময় রাজ্য সরকারের যুক্তি ছিল যে, এই প্রকল্পে রাজ্যও অংশীদার। শিক্ষা সংবিধানের যৌথ তালিকাভুক্ত। তাই স্কুলের নামের আগে ‘পিএম’ যুক্ত হওয়াটা বাঞ্ছনীয় নয়। তাই এই প্রকল্পের সঙ্গে সহমত হয়নি তৎকালীন রাজ্য সরকার। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পরই বোঝা যাচ্ছিল, এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তি শুধু সময়ের অপেক্ষা ছিল। গত ১৫ মে দিল্লিতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের শিক্ষা দফতরের আধিকারিকেরা। সেখানেই এই প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গের নাম যুক্ত হয়। এ বারে সেই কাজ শুরু হল।
কী ভাবে হচ্ছে সেই কাজ ?
একটি স্কুলের প্রধানশিক্ষক বলেন, ‘‘প্রতিটি জেলা থেকে ব্লকভিত্তিক বেশ কিছু স্কুলকে বেছে তাদের পোর্টালের লিঙ্ক পাঠাচ্ছে জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিস।’’ এক কর্তা বলেন, ‘‘যে সব স্কুলের পড়ুয়ার সংখ্যা বেশি, আপাতত সে সব স্কুলকেই তালিকার প্রথমে রাখা হচ্ছে। কারণ, এই সব স্কুলের সুবিধায় যেন বেশি সংখ্যক পড়ুয়াদের উপকার হয় তাই এই পদক্ষেপ।’’ এরপরে সেই নির্দিষ্ট পোর্টালে তথ্য ‘আপলোড’ করছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। চাওয়া হচ্ছে বেশ কিছু তথ্য যেমন খেলার মাঠ, গবেষণাগার, শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা, পড়ুয়ার সংখ্যা। এ ছাড়া জানতে চাওয়া হয়েছে সর্বভারতীয় কোনও পরীক্ষা বা খেলায় স্কুল থেকে আদৌ কেউ যোগ দিয়েছে কি না। এ ছাড়া সেই স্কুল আশেপাশের কোনও স্কুলকে সাহায্য করে কি না, তা-ও জানতে চাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কী কী সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তারও তথ্য জানতে চাওয়া হচ্ছে। তার উপরেই নির্ভর করে প্রতিটি স্কুলের পৃথক নম্বর হবে।
এ বারে প্রাপ্ত সেই নম্বরের ভিত্তিতে স্কুলগুলিকে পর্যায়ক্রমিক ভাবে সাজিয়ে নেবে জেলা স্কুলশিক্ষা দফতর। এর পরে সেই স্কুলগুলিতে পরিদর্শন করবেন সমগ্র শিক্ষা অভিযানের অফিসারেরা। তার পরে ওই স্কুলগুলির মধ্যে থেকে প্রতিটি ব্লকের অন্তত পাঁচ থেকে ছ’টি স্কুলের তালিকা প্রস্তুত হবে। ওই তালিকা পাঠানো হবে বিকাশ ভবনের স্কুলশিক্ষা দফতরে। সেখানে ফের যাচাই করে প্রতিটি ব্লকভিত্তিক অন্তত তিনটি নাম পাঠানো হবে দিল্লিতে। তার পরে দিল্লির কেন্দ্রীয় স্কুলশিক্ষা মন্ত্রক থেকে প্রতিটি ব্লকের দু’টি স্কুলকে পিএমশ্রী মডেল স্কুলের জন্য বেছে নেওয়া হবে। সবশেষে সেই সব স্কুলকে সার্বিক ভাবে সাজিয়ে তোলার কাজ শুরু হবে এবং স্কুলের নামের আগে যুক্ত হবে ‘পিএমশ্রী’। জেলার এক স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, আপাতত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুলগুলিকেই বেছে নেওয়া হবে। কত দ্রুত সেই কাজ শুরু হয়, তারই অপেক্ষায় স্কুলগুলি।