AC Blast Risk Factors during Summer

দিল্লিতে প্রাক্তন আইএএস কর্তার মৃত্যু এসি বিস্ফোরণে! গরমে কী কী কারণে এমন ঘটতেই পারে?

দিল্লিতে নিজের বাড়িতে এসি ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন তিনি। আচমকাই মাঝরাতে এসি বিস্ফোরণ থেকে ঘরে আগুন লেগে যায়, আর সেই মারাত্মক আগুন থেকে বাঁচানো যায়নি তাঁকে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ২০:৪৫
Share:

ছবি: সংগৃহীত।

তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে এসির ওপরেই ভরসা করেন মানুষ। কিন্তু সামান্য অসাবধানতা বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এসি বিস্ফোরণের মতো বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যেমনটা হল দিল্লিতে। প্রাক্তন আইএএস অফিসার তথা দেশের প্রথম কম্পিটিশন কমিশনের চেয়ারম্যান ধ্যানেন্দ্র কুমারের মৃত্যু হল এসি বিস্ফোরণের ঘটনায়। দিল্লিতে নিজের বাড়িতে এসি ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন তিনি। আচমকাই মাঝরাতে এসি বিস্ফোরণ থেকে ঘরে আগুন লেগে যায়, আর সেই মারাত্মক আগুন থেকে বাঁচানো যায়নি তাঁকে। গরমে এসি বিস্ফোরণ এমনই বিপজ্জনক জায়গায় যেতে পারে। কেন এমনটা ঘটতে পারে, তার কিছু কারণ জেনে রাখুন। যাতে সময় থাকতে সতর্ক হতে পারেন।

Advertisement

১. কম্প্রেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ

টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা এসি চালালে এর মূল চালিকাশক্তি অর্থাৎ কম্প্রেসর অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে বাইরের তাপমাত্রা যখন অনেক বেশি থাকে, তখন ঘর ঠান্ডা রাখতে কম্প্রেসরকে দ্বিগুণ কাজ করতে হয়। দীর্ঘ ক্ষণ একটানা চলার ফলে কম্প্রেসরটি নির্দিষ্ট সীমার চেয়ে বেশি গরম হয়ে একটি পর্যায়ের পর ফেটে যেতে পারে।

Advertisement

২. রেফ্রিজারেন্ট বা গ্যাস লিক

এসির ভেতরে থাকা রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস (যা ঘর ঠান্ডা করতে সাহায্য করে) কোনও কারণে পাইপ ফেটে গিয়ে বা পাইপ নষ্ট হয়ে চুঁইয়ে বেরোতে পারে। এই গ্যাস যদি এসির ভেতরের কোনও বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ বা শর্ট সার্কিটের সংস্পর্শে আসে, তবে মূহূর্তের মধ্যে তা দাহ্য পদার্থের মতো কাজ করবে।

৩. নিয়মিত সার্ভিসিং না করা

এসির ফিল্টার, কনডেন্সার এবং ইভাপোরেটর কয়েলে ধুলাবালি ও ময়লা জমে বাতাস চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। ময়লার কারণে এসি ঠিকমতো তাপ বার করতে পারে না। এতে এসির ভেতরে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং কয়েল বা কম্প্রেসর ফেটে দুর্ঘটনা ঘটে।

৪. বৈদ্যুতিক গোলযোগ ও শর্ট সার্কিট

নিম্নমানের তার, দুর্বল সার্কিট ব্রেকার কিংবা ভোল্টেজের অতিরিক্ত ওঠানামার কারণে এসিতে শর্ট সার্কিট হতে পারে। হাই ভোল্টেজের কারণে এসির ভেতরে থাকা ক্যাপাসিটর বা ওয়্যারিং পুড়ে আগুন ধরে যায় এবং সেই আগুন কম্প্রেসরে পৌঁছালে বড় বিস্ফোরণ ঘটে।

৫. নিম্নমানের পার্টস ও ভুল গ্যাস ব্যবহার

অনেক সময় খরচ বাঁচাতে এসি মেরামত বা গ্যাস রিফিল করার সময় দক্ষ টেকনিশিয়ান না ডাকায় মেরামতকারী সস্তা বা নকল পার্টস ব্যবহার করতে পারেন। নির্দিষ্ট মডেলের এসির জন্য নির্ধারিত গ্যাস ব্যবহার না করে অন্য কোনও নিম্নমানের গ্যাস রিফিল করলে তা এসির ভেতরের তাপমাত্রা ও চাপ সহ্য করতে পারে না, যা বিস্ফোরণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

যা মনে রাখবেন

  • দুর্ঘটনা এড়াতে প্রতি বছর গরমের শুরুতে সার্টিফাইড টেকনিশিয়ান দিয়ে এসি চেক করান।
  • দীর্ঘ সময় একটানা এসি না চালিয়ে মাঝে মাঝে কম্প্রেসরকে বিশ্রাম দিন।
  • ঘরে অবশ্যই ভাল মানের সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করুন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement