পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।
রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) দেওয়া শুরু করল রাজ্য সরকার। নবান্নের অর্থ দফতর সূত্রে খবর, শুক্রবার থেকেই বকেয়া ডিএ-র টাকা দেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। ২০০৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বাবদ যে টাকা বকেয়া রয়েছে, আপাতত তা দেওয়া হচ্ছে। তবে রাজ্য সরকারে বর্তমানে যাঁরা কর্মরত, তাঁরা শুক্রবার থেকে ডিএ-র বকেয়া টাকা পাচ্ছেন না। আপাতত টাকা দেওয়া হচ্ছে কেবল অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদেরই। বাকিরা কবে পাবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আগামী ১ জুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সরকারি কর্মীদের সংগঠনগুলির বৈঠক রয়েছে। আপাতত সেই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে কর্মচারীরা। বর্তমান কর্মীরা কবে থেকে বকেয়া ডিএ পাবেন, ওই বৈঠকে তা স্থির করা হতে পারে। ডিএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে। বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া কত দূর এগিয়েছে, গত বুধবারের শুনানিতে তা জানতে চেয়েছিল আদালত। রাজ্য সরকারের তরফে কিছুটা সময় চেয়ে নেওয়া হয়। বাকি সংগঠনগুলিও জানায়, মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকের তারিখ নিশ্চিত করেছেন। তাই এই মামলায় আরও সময় প্রয়োজন। সব পক্ষের বক্তব্যকে মান্যতা দিয়ে শীর্ষ আদালত শুনানি পিছিয়ে দেয়। জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ফের এই মামলার শুনানি হবে। তার আগে রাজ্যকে ডিএ মামলার স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে আদালত।
শুভেন্দুর বৈঠকের আগেই ডিএ-র বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করাকে ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন সরকারি কর্মীরা। তাঁরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। সিপিএম সমর্থিত কর্মচারী সংগঠনের কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিত গুপ্ত চৌধুরী বলেন, “রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে সময় চেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সরকারি কর্মচারী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তার মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তবে অবসরপ্রাপ্তদের সঙ্গে বর্তমানে কর্মরতদেরও প্রাপ্য ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।” যাঁরা এখনও কোনও টাকা পাননি, তাঁরা অবশ্য হতাশ। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলের কথায়, ‘‘আগের সরকারের আমলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আগামী ১ তারিখ বৈঠক। তার আগে এখন শুনছি, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া টাকা অবসরপ্রাপ্তদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছে। কিন্তু আমরা শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও অন্য গ্রান্ট-ইন এইডের কর্মীরা এখনও এক টাকাও পাইনি। আমাদের প্রতি এই অবিচার কেন?’’
তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীনই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, সরকারি কর্মচারীদের পুরনো বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে অবিলম্বে। ডিএ-র বাকি অংশ ধাপে ধাপে মেটানোর কথা বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। তার জন্য একটি কমিটিও গঠন করে দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা সেই ২৫ শতাংশ পাচ্ছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ডিএ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ ছিল। কেন্দ্রীয় হারে ডিএ-র দাবিতে এবং মহার্ঘ ভাতার বকেয়া মেটানোর দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সরকারি কর্মচারীরা। কলকাতা হাই কোর্ট হয়ে সেই মামলা গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। দীর্ঘ দিন ধরে ডিএ মামলা বিচারাধীন। অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও বকেয়া ডিএ দেওয়া হয়নি। রাজ্যের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ তুলে গত ফেব্রুয়ারিতে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চে সেই মামলা বিচারাধীন।