ছবি: এআই।
জলবায়ু বদল নিয়ে গোটা বিশ্বেই আলোচনা চলছে। বদলাচ্ছে পরজীবীদের ধরনও। এই পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য রক্ষা বিষয়টির গুরুত্বও বাড়ছে। বিশেষ করে অতিমারি পরবর্তী সময়ে শহর থেকে গ্রাম— সর্বত্রই এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের চাহিদা রয়েছে। তাই জনস্বাস্থ্য নিয়ে পড়তে আগ্রহীদের কী কী জানা দরকার, কী ধরনের কোর্স করতে হয়, তার সুলুক সন্ধান রইল।
জনস্বাস্থ্য আসলে কী?
রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস তৈরি করা, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, মানসিক স্বাস্থ্যরক্ষা, অতিমারি পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তৈরি জনস্বাস্থ্যের পাঠ্যক্রম। মূলত সমাজের সর্বস্তরের মানুষের স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য যা যা করণীয়, এই বিষয়ের মাধ্যমে তারই নিয়মকানুন শেখানো হয়।
কারা পড়তে পারেন?
চিকিৎসা বিজ্ঞান, আয়ুর্বেদ, নার্সিং, ফার্মাসি, ফিজ়িয়োথেরাপি কিংবা ডেন্টাল সার্জারিতে ডিগ্রি অর্জনের পর জনস্বাস্থ্য নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া যায়। এ ছাড়াও যাঁরা জীববিদ্যা, সমাজবিজ্ঞান, মনোবিদ্যা, পরিবেশ বিজ্ঞান, মাইক্রোবায়োলজি, বায়োটেকনোলজি, হেলথ টেকনোলজি, হসপিটাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর মতো বিষয়ে স্নাতক হয়েছেন— তাঁরাও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হতে পারেন।
তবে, এ ক্ষেত্রে বলে রাখা দরকার, ওই বিষয়ে বেশির ভাগ মেডিক্যাল কলেজ ও প্রতিষ্ঠানে স্নাতকোত্তর স্তরের কোর্স করানো হয়ে থাকে। স্নাতক স্তরে এই বিষয়টি নিয়ে এ দেশে পড়াশোনার তেমন সুযোগ নেই। তবে, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ-এর (আইসিএমআর) অনুমোদিত বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমাও করানো হয়ে থাকে।
কাজের সুযোগ কোথায়, কেমন?
অতিমারি পরবর্তী সময়ে এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের চাহিদা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থার পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে পাবলিক হেলথ অফিসার, হেলথ পলিসি অ্যানালিস্ট, এপিডেমিয়োলজিস্ট, এনভায়রনমেন্টাল হেলথ স্পেশ্যালিস্ট পদে কর্মী নিয়োগ করা হয়ে থাকে।
এ ছাড়াও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাতেও হেলথ ডেটা অ্যানালিস্ট, কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার, এনজিও প্রোগ্রাম ম্যানেজার পদে জনস্বাস্থ্য আধিকারিকদের প্রয়োজন হয়।