সামনেই দশম এবং দ্বাদশের পরীক্ষা। তার আগে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই) একাধিক বিষয়ে পড়ুয়াদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। প্রশ্নপত্র থেকে মূল্যায়ন— কী ভাবে হবে, সেই সমস্ত তথ্য রইল বিশদে।
বছরে দু’বার পরীক্ষা:
দশম শ্রেণিতে বছরে দু’বার বোর্ড পরীক্ষা নেওয়া হবে। ২০২৬ থেকে সিবিএসই এই নিয়ম চালু করতে চলেছে। ১৫ মে থেকে দশমের দ্বিতীয় পর্বের পরীক্ষা দিতে পারবেন পড়ুয়ারা। তবে, সেই সুযোগ সকলে পাবে না।
কারা পরীক্ষা দিতে পারবে?
প্রথম পর্বের পরীক্ষাটি সকলকে দিতেই হবে। তবে, দ্বিতীয় পর্বটি ‘ইম্প্রুভমেন্ট এগ্জ়াম’ হিসাবে দেওয়ার সুযোগ থাকছে। অর্থাৎ এই পরীক্ষা দিয়ে পড়ুয়ারা আরও ভাল ফল করতে পারবে। তবে, প্রথম পর্বে উত্তীর্ণেরা যে কোনও তিনটি বিষয়ে ওই পরীক্ষা দিতে পারবে। কিন্তু যাঁরা প্রথম পর্বে তিনটি বা তার বেশি সংখ্যক বিষয়ে পরীক্ষা দেবেন না, তাঁরা দ্বিতীয় পর্বে বসার অনুমতি পাবে না।
প্রশ্নপত্রে রদবদল:
দশম শ্রেণির বিজ্ঞান এবং সমাজবিজ্ঞানের প্রশ্ন একাধিক বিভাগের অধীনে সাজানো থাকবে। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রথম বিভাগে জীববিজ্ঞান, দ্বিতীয় বিভাগে রসায়ন এবং তৃতীয় ও শেষ বিভাগে পদার্থবিদ্যা বিষয়ের প্রশ্ন থাকবে। সমাজবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রে মোট চারটি বিভাগ থাকছে। প্রথম বিভাগে ইতিহাস, দ্বিতীয় বিভাগে ভূগোল, তৃতীয় বিভাগে রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং চতুর্থ ও শেষ বিভাগে অর্থনীতির প্রশ্ন থাকবে।
— প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
যে ভাবে প্রশ্ন সাজানো থাকবে, সেই মতোই পড়ুয়াদের উত্তর লিখতে হবে। পড়ুয়াদের প্রশ্নের ক্রমানুযায়ী উত্তর লিখতে হবে। শেষের বিভাগের প্রশ্নের উত্তর আগে লেখা যাবে না।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে মূল্যায়ন:
২০২৬ থেকে উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য ‘অন স্ক্রিন মার্কিং’-এর ব্যবস্থা থাকবে। কাগজের অপচয় রুখতে অনলাইনে পোর্টাল মারফত খাতা দেখা, নম্বর মিলিয়ে নেওয়ার কাজ করতে পারবেন শিক্ষকেরা। খাতা নিয়ে অন্যত্র যাওয়া, সেখানে বসে নম্বর মেলানোর কাজে সময় এবং অর্থ ব্যয় রুখতেই এই ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।
শিক্ষকেরা স্কুলের কম্পিউটার থেকেই খাতা দেখে নিতে পারবেন। এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেবে সিবিএসই। তবে, ডিজ়িটাল পোর্টাল মারফত দ্বাদশের পড়ুয়াদের খাতা দেখা হবে। দশমের পরীক্ষার খাতা পুরোনো পদ্ধতিতেই মূল্যায়ন করতে হবে শিক্ষকদের।
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মূল্যায়ন:
বোর্ডের তরফে খাতা দেখা এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার পর ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সমস্ত নম্বর নির্দিষ্ট পোর্টাল মারফত পাঠিয়ে দিতে হবে।
২০২৬-এর পরীক্ষা ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে। দশমের পরীক্ষা ১১ মার্চ পর্যন্ত এবং দ্বাদশের পরীক্ষা ১০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। এ বছর প্রায় ৪৫ লক্ষ পরীক্ষার্থী ২০৪টি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে চলেছে।