ছবি: সংগৃহীত।
একে ফল খারাপ, তার উপর টাকা খরচ করে নিজের পরীক্ষার খাতা হাতে পেয়েও নম্বর মেলাতে পারছেন না পরীক্ষার্থীরা। কারণ খাতার স্ক্যানড কপি ‘ব্লারড’ বা ঝাপসা। কেউ কেউ আবার তিন বার খাতার জন্য টাকা দিয়েও খাতা হাতে পাননি। কারণ পোর্টাল দেখাচ্ছে টাকা ঢোকেনি। সম্পূর্ণ হয়নি আবেদন প্রক্রিয়া। অতএব, সিবিএসই দ্বাদশের পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ার পরে পরীক্ষার্থীদের কাছে যে স্বচ্ছতার দাবি করেছিল সিবিএসই বোর্ড, তার গোড়ায় দেখা গিয়েছে গণ্ডগোল। পোর্টাল খুলে, খাতা দেখানোর টাকা কমিয়ে, পরীক্ষার্থীদের খাতা দেখে নম্বর মিলিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিলেও, তাতে লাভ কিছু হয়নি। আর এই নিয়েই দেশজুড়ে সিবিএসই বোর্ডের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। অবশেষে সেই ক্ষোভের মুখে খানিকটা নিজের ভুল স্বীকারই করল সিবিএসই। আরও বাড়িয়ে দিল পরীক্ষা খাতা দেখার সময়সীমা।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী সোমবার অর্থাৎ ২৫ মে রাত ১২টা পর্যন্ত পরীক্ষার খাতা দেখার জন্য আবেদন করা যাবে বলে জানিয়েছে সিবিএসই। যদিও তাতেও শেষ পর্যন্ত সুরাহা হবে কি না, তা নিয়ে দোলাচলে শিক্ষার্থীরা।
সিবিএসই দ্বাদশের পাসের হার এ বছর কমে দাঁড়িয়েছে ৮৫ শতাংশে। আর তার পর থেকেই দেশ জুড়ে সিবিএসই বোর্ডের অধীনে দ্বাদশের পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীরা নম্বর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। দাবি উঠেছে পরীক্ষার খাতার স্ক্যানড কপি দেখানোর। সেই দাবির জবাবেই কেন্দ্রীয় স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে অনলাইন পোর্টাল খোলা হয়। কিন্তু তাতেও সমস্যা। শেষ পর্যন্ত কাজ ঠিকমতো হয়নি। পরীক্ষার্থীরা অনলাইন পোর্টালেও তাঁদের প্রয়োজনীয় সাহায্য পাননি। উল্টে হয়েছে হয়রানি।
গত শনিবার থেকেই ছাত্রছাত্রীরা এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছিল সমাজ মাধ্যমে। তার পরেই রবিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান আইআইটি মাদ্রাজ় এবং আইআইটি কানপুরের প্রযুক্তিবিদদের বলেন সিবিএসই পোর্টালের সমস্যা দূর করতে। এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের কাছেও পোর্টালে পরীক্ষার্থীদের অর্থ জমা দেওয়া সংক্রান্ত বিষয়ে সাহায্য চান তিনি। সেই সঙ্গে আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়ে দেওয়া হয় সিবিএসইর খাতা দেখার আবেদন জমা দেওয়ার সময়। এই নিয়ে তৃতীয় বার সিবিএসই পরীক্ষার্থীদের খাতা দেখার আবেদনের মেয়াদ বৃদ্ধি করল সিবিএসই।