CBSE Revaluation 2026

অনলাইনে খাতা দেখার টেন্ডার কী ইচ্ছাকৃত ভাবে দেওয়া হয় কোএম্পট এডুটেক-কে? একাধিক অভিযোগ সাংসদ রাহুল গান্ধীর

‘টিসিএস’-এর মতো সংস্থাকে বাদ দিয়ে কেন কোএম্পট এডুটেক-এর মতো বিতর্কিত সংস্থাকে খাতা দেখার দায়িত্ব দেওয়া হল এবং তার জন্য কেন সুরক্ষাবিধি শিথিল করা হল—এই নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ১৯:৫১
Share:

ছবি: সংগৃহীত।

শিক্ষা ব্যবস্থা কি এখন রাজনীতির শিরোনামে?— এই প্রশ্নটি বর্তমানে দেশের লক্ষাধিক ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকের মনে দোলা দিচ্ছে, এমনটা বললে ভুল হবে না। এক দিকে যখন সিবিএসই-র নতুন অনলাইন খাতা দেখা (ওএসএম) এবং ত্রুটিপূর্ণ ফলাফলের কারণে প্রায় চার লক্ষ শিক্ষার্থী রি-ইভ্যালুয়েশনের দরজায় কড়া নাড়ছে, ঠিক তখনই এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা রূপ নিয়েছে এক তীব্র রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্রে। ‘টিসিএস’-এর মতো সংস্থাকে বাদ দিয়ে কেন কোএম্পট এডুটেক-এর মতো বিতর্কিত সংস্থাকে খাতা দেখার দায়িত্ব দেওয়া হল এবং তার জন্য কেন সুরক্ষাবিধি শিথিল করা হল—এই নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। কেন্দ্রের নীরবতা এবং শিক্ষা মন্ত্রকের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই উঠছে একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্ন।

Advertisement

রাহুলের প্রথম অভিযোগ: সিবিএসই-র ওএসএম পদ্ধতিতে খাতা দেখার জন্য তিন বার টেন্ডার ডাকা হয়েছিল। প্রথম বার কেউ আবেদন করেনি, দ্বিতীয় বার কোনও যোগ্য সংস্থা পাওয়া যায়নি। তৃতীয় বার ভারতের অন্যতম শীর্ষ আইটি সংস্থা টিসিএস-এর নাম এসেছিল। একই সঙ্গে টেন্ডারটি পাওয়ার আবেদন করেছিল কোএম্পট এডুটেক-ও। এই সংস্থার নামে অতীতে একাধিক ব্যর্থতার অভিযোগ থাকার পরেও কেন টিসিএস-কে বাদ দিয়ে কোএম্পট এডুটেক-এর হাতে সঁপে দেওয়া হলো লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ?

দ্বিতীয় অভিযোগ: টিসিএস এবং কোএম্পট এডুটেক সংস্থার মধ্যে যাতে কোএম্পট এডুটেক সংস্থাকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়, তার জন্য সিবিএসই টেন্ডার পাশের যোগ্যতার মানও কমিয়ে দিয়েছিল বলে অভিযোগ। সিবিএসই ধাপে ধাপে খাতা দেখার সমস্ত প্রযুক্তিগত নিয়ম ও মানদণ্ড কমিয়ে দিয়েছিল। কী কী অভিযোগ তা নীচে উল্লেখ করা হল।

Advertisement

১) স্ক্যানিং কোয়ালিটি কমানো: খাতার স্পষ্টতা বজায় রাখার জন্য যেখানে ৩০০ ডিপিআই (ডটস পার ইঞ্চি) রেজ়োলিউশনে স্ক্যান করার কথা ছিল, তা কমিয়ে ২০০ ডিপিআই করা হয়। (এর ফলে খাতা ঝাপসা এসেছে)।

২) রোবটিক স্ক্যানার বাদ দেওয়া: খাতার নিখুঁত স্ক্যান করার জন্য রোবটিক স্ক্যানারের নিয়ম ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়।

৩) সংস্থার যোগ্যতা কমানো: আইটি ক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য ‘সিএমএমআই লেভেল ৫’ (এটি হল আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত একটি শংসাপত্র, যা দিয়ে বোঝা যায়, কোনও আইটি বা সফ্‌টঅয়্যার সংস্থা কতটা নির্ভরযোগ্য, সুরক্ষিত এবং নিখুঁত ভাবে কাজ করতে পারে) সার্টিফিকেশন থাকা জরুরি। কোএম্পট এডুটেক সংস্থার লেভেল ৫-এর সার্টিফিকেশন নেই, তাই এই সংস্থা যাতে টেন্ডারটি পায় সে জন্যই সার্টিফিকেশনের মাপকাঠি কমিয়ে লেভেল ৩ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

৪) ভুল করলে শাস্তির নিয়ম তুলে দেওয়া: সংস্থার খাতা স্ক্যানিংয়ে বা টেকনিক্যাল কোনও ভুল হলে, সেই সংস্থাকে জরিমানা দিতে হবে, আগে এই নিয়ম ঘোষিত হয়েছিল। পরে তা তুলে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন রাহুল। আর এর ফলে সংস্থার উপর কোনও চাপ ছিল না বলেই দাবি করেন তিনি।

রাহুলের তৃতীয় অভিযোগ: শিক্ষকেরা সিবিএসই-কে আগেই সতর্ক করেছিলেন যে দেশ জুড়ে এই অনলাইন ব্যবস্থা (ওএসএম) চালু করার আগে অন্তত এক থেকে দু’বছর ভাল করে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। কিন্তু বোর্ড কারও কথা না শুনে তাড়াহুড়ো করে এটি চালু করে দেয়।

রাহুলের চতুর্থ অভিযোগ: নিয়ম ভেঙে একটি অযোগ্য সংস্থাকে কাজ দেওয়ার ফলে প্রায় ১৮.৫ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকারে। রাহুল গান্ধীর প্রশ্ন, ‘‘সংস্থাকে টেন্ডার পাইয়ে দিতে পর্দার আড়ালে থেকে কে নিয়মের এই রদবদলগুলি করেছিলেন?’’

পঞ্চম অভিযোগ: সিবিএসই-র খাতা অনলাইনে দেখার গাফিলতি নিয়ে রাহুল সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘এত বড় একটি বিপর্যয় এবং লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়া সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর এই নীরবতা প্রমাণ করে যে, তিনি দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত নন, তিনি শুধু তাঁর সরকার টিকিয়ে রাখতে ব্যস্ত।’’

রাহুলের অভিযোগ অনুযায়ী এই কেলেঙ্কারি এবং কোএম্পট এডুটেক সংস্থাকে দেওয়া সমস্ত সরকারি চুক্তির ওপর একটি স্বাধীন বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সাংসদ নিজেই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement