Twisha Sharma Death Case

শরীরে আঘাতের চিহ্ন, প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা, হোয়াট্‌সঅ্যাপ চ্যাট: কোন ২০ প্রশ্নের মুখোমুখি ত্বিশার শাশুড়ি?

গ্রেফতারির আগে তিন দিন মিলিয়ে মোট ১০ ঘণ্টা জেরা করা হয় অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালাকে। জেরায় ২০টি প্রশ্নের উপর জোর দিয়েছিলেন তদন্তকারীরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ২০:০৩
Share:

(বাঁ দিকে) ত্বিশা শর্মা এবং তাঁর শাশুড়ি গিরিবালা সিংহ (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট আগাম জামিন খারিজ করতেই ত্বিশা শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর শাশুড়ি গিরিবালা সিংহকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। তবে গ্রেফতারির আগে তিন দিন মিলিয়ে মোট ১০ ঘণ্টা জেরা করা হয় অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালাকে। জেরায় ২০টি প্রশ্নের উপর জোর দিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। এনডিটিভি তদন্তকারী সূত্রের কথা উল্লেখ করে ওই ২০ প্রশ্ন জানিয়েছে।

Advertisement

ত্বিশার মৃত্যুতদন্ত প্রথমে শুরু করেছিল মধ্যপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। সিবিআইয়ের প্রশ্ন ছিল, সিট নোটিস পাঠিয়ে তলব করলেও কেন তদন্তকারীদের মুখোমুখি হননি গিরিবালা? ইচ্ছাকৃত ভাবেই কি সিটের নোটিস উপেক্ষা করেছিলেন তিনি? এমনকি, সিবিআইয়ের তলবও এড়িয়েছিলেন গিরিবালা?

গিরিবালার কাছে সিবিআই জানতে চায়, এই মামলা সংক্রান্ত কোনও নথি, তথ্য, প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হয়েছে কি না? এখনও পর্যন্ত সংগৃহীত ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ এবং গিরিবালার বয়ানে অসঙ্গতির কারণ কী? হাই কোর্ট তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, এফআইআর দায়ের দিনেই আগাম জামিন মঞ্জুর হয়েছিল। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে গিরিবালার মতামত জানতে চান তদন্তকারীরা। এফআইআরে গিরিবালার বিরুদ্ধে যে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে, সে সম্পর্কে তাঁর কী মত, তা-ও জানতে চায় সিবিআই।

Advertisement

গিরিবালাকে সিবিআইয়ের প্রশ্ন, ত্বিশার পরিবারের অভিযোগের পরেও কেন তদন্তকারীরা বিশ্বাস করবেন, যে এই মামলায় আপনার কোনও ভূমিকা ছিল না? তদন্তকারীদের রেকর্ড করা জবানবন্দি সম্পর্কে গিরিবালার মতামতও জানতে চায় সিবিআই। পাশাপাশি, প্রামাণ্য নথি হিসাবে তদন্তকারীরা যে হোয়াট্‌সঅ্যাপ চ্যাটের উল্লেখ করেছে, সে সম্পর্কে অভিযুক্ত কী জানেন, সেটাও ছিল সিবিআইয়ের প্রশ্নপত্রে।

পুত্রবধূর সঙ্গে গিরিবালার সম্পর্ক কেমন ছিল? ত্বিশার উপর কোনও শারীরিক বা মানসিক অত্যাচারের সঙ্গে তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন বা সমর্থন করতে কি না জানতে চায় সিবিআই। ত্বিশার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয় নিয়ে পারিবারিক কোনও বিরোধ ছিল কি? কোনও আলোচনা হয়েছে কি না— তা-ও সিবিআই গিরিবালার থেকে জানতে চেয়েছিল।

গিরিবালাকে সিবিআইয়ের আরও প্রশ্ন ছিল, ত্বিশা কি কখনও মানসিক চাপের কথা জানিয়েছিলেন? তাঁর শরীরে যে আঘাতের চিহ্ন ছিল, সে সম্পর্কে কী জানতেন? কী ভাবে আঘাত লেগেছিল ত্বিশার? তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও ডিজিটাল প্রমাণ বিকৃত করা বা সরিয়ে ফেলার চেষ্টার সঙ্গে গিরিবালা যুক্ত ছিলেন কি না, তা-ও জানতে চেয়েছিল সিবিআই।

গত ১২ মে ভোপালে শ্বশুরবাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থা উদ্ধার হয়েছিল ত্বিশার দেহ। তাঁর বাপের বাড়ির অভিযোগ, ত্বিশার স্বামী সমর্থ এবং শাশুড়ি গিরিবালাই তাদের মেয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী। পণের দাবিতে অত্যাচার করা হত ত্বিশাকে। আরও অভিযোগ ছিল, গিরিবালা অবসরপ্রাপ্ত বিচারক হওয়ায় তদন্তে প্রভাব খাটানো চেষ্টা করেছেন। প্রথম বার ময়নাতদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতেই ত্বিশার দেহ দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয় মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন সমর্থ। তবে পরে আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। আর আদালত গিরিবালার জামিনের আবেদন খারিজের পর সিবিআই তাঁকে গ্রেফতার করেছিল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement