ত্বিশা শর্মা। — ফাইল চিত্র।
ভোপালের বধূ ত্বিশা শর্মার মৃত্যু হল কী ভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই) মূলত তিনটি বিষয়ের উপর বিশেষ ভাবে জোর দিচ্ছে। ২০ লক্ষ টাকা নিয়ে বিরোধ, মৃত্যুর আগের মুহূর্তের পুনর্গঠন এবং নথিপত্রে অসঙ্গতি!
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিবিআই খতিয়ে দেখছে ২০ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি শেয়ার। পরিবারের অভিযোগ, ওই শেয়ার ত্বিশার নামে ছিল, তা নিজেদের নামে স্থানান্তরিত করার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন তাঁর শাশুড়ি গিরিবালা এবং স্বামী সমর্থ সিংহ। ভোপাল পুলিশের কাছ থেকে তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর সিবিআই পুনরায় এফআইআর নথিভুক্ত করেছে। সেই এফআইআর অনুযায়ী, বিয়ের পর ত্বিশার বিদায় অনুষ্ঠানের সময় দু’লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন গিরিবালা, এমনই অভিযোগ পরিবারের। সিবিআইয়ের উদ্ধার করা ডিজিটাল প্রমাণ থেকে জানা গিয়েছে, ত্বিশার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর পিতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন শ্বশুরবাড়ির লোকেরা! শুধু তা-ই নয়, পরিকল্পিত ভাবে তাঁকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। যদিও গিরিবালার দাবি ছিল, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় খুশি ছিলেন না ত্বিশা। চেয়েছিলেন গর্ভপাত করাতে।
ত্বিশার মৃত্যুর আগে কী কী ঘটেছিল, তা ‘টানেল ভিউ’-এর মাধ্যমে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে সিবিআই। তদন্তকারীরা আশা করছেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনেক কিছুই পরিষ্কার হবে এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। শুধু তা-ই নয়, সূত্রের খবর, ত্বিশার সঙ্গে কোনও জোরজবরদস্তি হয়েছিল কি না বা এই ঘটনার নেপথ্যে কোনও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল কি না ডিজিটালি ঘটনার পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে তদন্তকারীদের কাছে তা স্পষ্ট হবে।
ডিজিটালি পুনর্নির্মাণের এই পদ্ধতি হল ‘টানেল ভিউ’। এই প্রক্রিয়ায় সিসিটিভি ফুটেজ, ওয়াইফাই লগ, মোবাইল টাওয়ার অবস্থান, স্মার্ট ডিভাইসের ডেটা, কল রেকর্ড খতিয়ে দেখা হয়। তার থেকে প্রাপ্ত তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পর্যালোচন করে ১২ মে-র একটি সময়সরণি (টাইমলাইন) তৈরি করতে চাইছেন তদন্তকারীরা। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল তাঁর বাবা এবং পরিবারকে ত্বিশার শেষ ফোন! তাঁর বাবা জানিয়েছিলেন, ফোনে ত্বিশা জানিয়েছেন, তিনি ফেঁসে গিয়েছেন। ফোনের ওপারে সমর্থের কণ্ঠস্বরও শুনতে পান ত্বিশার বাবা। তার পরেই লাইনটি কেটে যায়।
স্থানীয় পুলিশের প্রাথমিক নথিপত্রে থাকা কিছু অনিয়ম সিবিআই গভীর ভাবে খতিয়ে দেখছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি নথিতে ত্বিশার প্রকৃত উচ্চতা উল্লেখের ক্ষেত্রে স্পষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এ ধরনের ঘটনা ‘ক্যারিকেল এরর’ বা লেখার ত্রুটি, না কি প্রভাব খাটিয়ে তা করানো হয়েছে।
প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসাবে সিলিং থেকে ঝোলার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ত্বিশার শরীরে একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। ভোঁতা কোনও অস্ত্র দিয়ে আঘাত হয়েছে বলে অনুমান। সেই বিষয়টিও সিবিআইয়ের আতশকাচের নীচে রয়েছে।