CBSE Class 12 revaluation 2026

পোর্টাল খুলল, তিন ঘণ্টায় আবেদন তিন লক্ষের বেশি, খাতার প্রতিলিপি নিয়ে কী জানাল সিবিএসই?

পোর্টাল ঠিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে ১,২৭,১৪৬টি আবেদন জমা পড়েছে এবং ৩,৮৭,৩৯৯টি পরীক্ষার খাতার প্রতিলিপির দেখতে চাওয়া হয়েছে। এখনও চলছে আবেদন প্রক্রিয়া।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ মে ২০২৬ ১৫:১৪
Share:

প্রতীকী ছবি।

পোর্টাল ঠিক হওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যেই ৩ লক্ষ ৮০ হাজারের বেশি পরীক্ষার খাতার প্রতিলিপি পাওয়ার জন্য আবেদন জমা পড়েছে। সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই) তাদের এক্স হ্যান্ডেলে এমনটাই জানিয়েছে।

Advertisement

সিবিএসই দ্বাদশের খারাপ ফল এবং কম পাশের হার নিয়ে একাধিক পড়ুয়া এবং অভিভাবকেরা অভিযোগ করেছেন। তার পরই সিবিএসই-এর তরফে জানানো হয় পড়ুয়ারা নিজের পরীক্ষার খাতার প্রতিলিপি দেখতে পারবেন। সেই মতো আবেদনের পোর্টালও খোলা হয়। এতে কিছুটা আশ্বস্ত হলেও পরে দেখা যায়, বোর্ডের তরফে দেওয়া আবেদনের ওয়েবসাইটই খুলছে না। অভিযোগ ওঠে, প্রচুর আবেদনের ভিড়ে সেই ওয়েবসাইটে নানা রকমের প্রযুক্তিগত গোলযোগের মুখোমুখি হচ্ছেন আবেদনকারীরা। কারও রেজিস্ট্রেশন করাতেও অসুবিধা হয়েছে, কেউ লগ ইন-ই করতে পারেননি, আবার কারও ‘ভেরিফিকেশন অ্যান্ড স্ক্যানড কপি অ্যাপ্লিকেশন’ উইন্ডোটি খোলেনি। ফলে অনেকেই খাতা দেখার আবেদন করতে চেয়েও তা সম্পূর্ণ করতে পারেননি। একের পর এক অভিযোগ উঠতে থাকলে বোর্ডের তরফে যান্ত্রিক ত্রুটি হয়েছে বলে দাবি করা হয়। যা ২০ মে-র মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

আর সিবিএসই বোর্ড সূত্র, সেই পোর্টাল ঠিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে ১,২৭,১৪৬টি আবেদন জমা পড়েছে এবং ৩,৮৭,৩৯৯টি পরীক্ষার খাতার প্রতিলিপির দেখতে চাওয়া হয়েছে। এখনও চলছে আবেদন প্রক্রিয়া। সম্প্রতি খাতার স্ক্যানড কপি হাতে পাওয়ার জন্য আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমাও বৃদ্ধি করা হয়েছিল বোর্ডের তরফে। ২৩ মে পর্যন্ত খাতা দেখার আবেদন করা যাবে। পাশাপাশি বোর্ড আরও জানিয়েছে, যাঁরা নম্বর যাচাই ও পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করতে চান, তাঁরা ২৬ মে থেকে ২৯ মে ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।

Advertisement

চলতি বছর সিবিএসই-র দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় নাম নথিভুক্ত করেছিল মোট ১৭,৮০,৩৬৫ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ১৭,৬৮,৯৬৮ জন পরীক্ষা দিয়েছিল এবং ১৫,০৭,১০৯ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ১৮ লক্ষ পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই ১ লক্ষের বেশি পরীক্ষার্থী খাতা দেখতে চেয়েছেন। মূলত চলতি বছর থেকে অন স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) পদ্ধতিতে খাতা দেখার জন্যই পড়ুয়াদের নম্বর কম এসেছে বলে অভিযোগ।

যদিও বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, ওএসএম পদ্ধতিতে উত্তরপত্র স্ক্যানিং প্রক্রিয়া নিয়ে যে অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। বোর্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু রিপোর্টে বলা হয়েছিল যে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও সময়ের অভাবে স্ক্যানিং প্রক্রিয়ায় সমস্যা হয়েছে। তবে সিবিএসই এই দাবি খারিজ করে জানিয়েছে যে পুরো প্রক্রিয়াই নির্ধারিত নিয়ম মেনে এবং কঠোর তদারকির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বোর্ড আরও জানায়, ওএসএম পদ্ধতি প্রথম চালু করা হয়েছিল ২০১৪ সালে। কিন্তু তখন পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত অবকাঠামো না থাকায় এটি স্থগিত করা হয়েছিল। আগের সময়ে উত্তরপত্র স্ক্যান করতে গিয়ে পৃষ্ঠা কেটে নেওয়ার মতো প্রক্রিয়া থাকায় কিছু ঝুঁকি তৈরি হতো, তাই উন্নত প্রযুক্তি না আসা পর্যন্ত এই ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করা যায়নি। বোর্ডের মতে, এই ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থা স্বচ্ছতা বাড়ায়, ভুল কমাতে সাহায্য করে। তাই শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের প্রতি বোর্ডের অনুরোধ, তাঁরা যেন শুধুমাত্র বোর্ডের অফিসিয়াল তথ্যসূত্র থেকেই পরীক্ষা ও মূল্যায়ন সংক্রান্ত তথ্য গ্রহণ করেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement