প্রতীকী চিত্র।
বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণে সব শিশুরই সমানাধিকার। শিক্ষার অধিকার আইনে তেমনই বলা আছে। পরবর্তীকালে ১০৩ তম সাংবিধানিক সংশোধনী আইনেও এ কথা স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় প্রান্তিক পড়ুয়াদের জন্য সংরক্ষণ নীতি চালু হওয়ার পরেও বেশ কিছু সমস্যা থেকে যাচ্ছে, এ বার তা খতিয়ে দেখতে উদ্যোগী সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)।
গত ডিসেম্বরে আয়োজিত পরিচালন সমিতির বৈঠকের কার্যবিবরণী সম্প্রতি প্রকাশ করেছে সিবিএসই। সেখানেই উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি অনুদানহীন ও সংখ্যালঘু নয়, এমন স্কুলে প্রাথমিকে পড়ুয়া ভর্তির ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করতে হবে। প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সংরক্ষিত আসনে ভর্তি নেওয়া হবে অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়া (ইডব্লিউএস) এবং সামাজিক বা শিক্ষাগত ভাবে পিছিয়ে পড়া বা বিশেষ ভাবে সক্ষম পড়ুয়াদের (ডিসঅ্যাডভান্টেজড গ্রুপ)।
কার্যবিবরণীতে এ-ও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৯-এর শিক্ষা অধিকার আইনের ১২ (১) (সি) অনুচ্ছেদ মেনে ২৫ শতাংশ আসন সমস্ত স্কুলে প্রাথমিক শ্রেণিতে সংরক্ষণ আগেই চালু হওয়ার কথা। কিন্তু নীতি কার্যকর হওয়ার পরেও আর্থসামাজিক বিভাজন রয়েই যাচ্ছে। বিভিন্ন শ্রেণি, জাতি, ধর্ম, আর্থিক কাঠামোর পড়ুয়ারা একই শ্রেণিকক্ষে পঠনপাঠন করা সত্ত্বেও তাদের সামাজিক বা মানসিক বিকাশ এক রকম হচ্ছে না। আর্থসামাজিক বৈচিত্র্যের পরিবেশে প্রাথমিক স্তর থেকে পরিচিতি না ঘটায় পড়ুয়াদের মধ্যে ভাষাগত বিভাজন, মানসিক দৃঢ়তা, আত্মপরিচয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। নিজেদের বাকি পড়ুয়াদের সঙ্গে ক্রমাগত তুলনা করার অভ্যেসও বাড়ছে। তাই এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। সে জন্য বোর্ডের ১০ লক্ষ টাকা খরচ করবে ভেবে অর্থ বরাদ্দ করেছে।
উল্লেখ্য, ‘ইনক্লুসিভ এডুকেশন’ চালুর লক্ষ্যে এবং প্রাথমিকে সমস্ত পড়ুয়ার বিনামূল্যে শিক্ষার অধিকার সুনিশ্চিত করতে আগেও সুপ্রিম কোর্ট শিক্ষার অধিকার আইন প্রয়োগের উপর জোর দিয়েছে। পিছিয়ে পড়াদের জন্য ২৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণ নিয়েও গত জানুয়ারিতে শীর্ষ আদালত নির্দেশ জারি করেছে।