ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
ব্যবসা শুরু হওয়ার পর তা কোন পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, তা ঠিক করে দেন ব্যবসায়িক বিশ্লেষক বা বিজ়নেস অ্যানালিস্ট। এই পেশায় আসার জন্য ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনায় ডিগ্রি অর্জনই যথেষ্ট নয়। জানতে হবে কৃত্রিম মেধার মতো প্রযুক্তির ব্যবহার, থাকা চাই কাজের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করার মতো দক্ষতা।
একজন বিজ়নেস অ্যানালিস্টকে ব্যবসার আর্থিক উন্নয়ন নিয়েই কাজ করতে হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসার প্রসারের জন্য বিজ্ঞাপনের কৌশলও জানতে হয়। তাই ব্যবসায়িক বিশ্লেষণ অর্থাৎ বিজ়নেস অ্যানালিস্ট পেশার জন্য বিশেষ পড়াশোনা প্রয়োজন।
দ্বাদশের পরে কোন কোর্স?
উচ্চ মাধ্যমিক কিংবা সমতুল পরীক্ষায় পাশ করার পর বিজ়নেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা বিজ্ঞান শাখার অধীনে বাছাই করা বিষয় নিয়ে পড়ুয়াদের পড়তে হবে। নীচে সেই তালিকা দেওয়া হল—
ব্যাচেলর অফ বিজ়নেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ)-এর অধীনে বিজ়নেস অ্যানালিস্ট কিংবা ফিনান্স বিষয়টি নিয়ে স্নাতকে পড়া যেতে পারে। এই বিষয়ের সাহায্যে ব্যবসার ব্যবস্থাপনা, ব্যবসায় অর্থনীতির প্রভাব, কর্পোরেট দুনিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির সুযোগ মিলবে।
রাশিবিজ্ঞান, অর্থনীতি, ডেটা সায়েন্স নিয়ে ব্যাচেলর অফ সায়েন্স (বিএসসি) করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আর্থিক হিসাব নিকাশ, জটিল সূত্রের গাণিতিক সমাধান এবং তথ্য নির্ভর বিশ্লেষণী দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ পাওয়া যাবে।
ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার অধীনে আইটি বিজ়নেস অ্যানালিস্ট হিসাবে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া যায়। এই বিষয়ে নিয়ে পড়াশোনা করতে পারলে প্রযুক্তির সাহায্যে ব্যবসায়িক বিশ্লেষণের কৌশল শিখে নেওয়া যাবে।
পড়াশোনার সঙ্গে জরুরি দক্ষতা অর্জন
তবে এই পেশায় আসতে গেলে তাত্ত্বিক জ্ঞানে থেমে থাকলে চলবে না, বুঝতে হবে লাভ-ক্ষতির অঙ্ক। কোন কোন উপাদানের জন্য ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সাফল্য আসতে পারে, তা চিহ্নিত করার দক্ষতা থাকা চাই। বিভিন্ন ধরনের তথ্য থেকে মূল বিষয়টি বুঝে নিয়ে সঠিক সমাধান করার কৌশলও রপ্ত করতে হবে।
এ জন্য আলাদা করে বিশেষ প্রশিক্ষণও পাওয়া যেতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বিজ়নেস অ্যানালিসিস-এর মতো সংস্থার তরফে পেশাদার হয়ে ওঠার প্রশিক্ষণ এবং পেশাদার হিসাবে কাজের শংসাপত্রও পাওয়া যায়। ওই শংসাপত্র অর্জন করতে পারলে কাজের জগতে প্রবেশের পথ সুগম হয়।
শুরু করবেন কী ভাবে?
স্নাতকের পড়াশোনার পর ডেটা অ্যানালিস্ট কিংবা সমতুল পদে ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেয় বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থা। সেখানে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর এন্ট্রি লেভেল কোনও পদে নিযুক্ত হওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে যাঁরা স্নাতকোত্তরের পর এ বিষয়ে কাজ শুরু করতে চান, তাঁদের ইন্টার্নশিপের অভিজ্ঞতা থাকা আবশ্যক। না হলে স্টার্ট-আপ সংস্থায় কাজ মিলতে পারে।
সাধারণত তিন বছরের কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের পর মিড লেভেল অর্থাৎ অ্যানালিস্ট কিংবা প্রোডাক্ট ম্যানেজার হিসাবে পদোন্নতির সম্ভাবনা থাকে।
নতুন প্রযুক্তির সংযোজন
প্রযুক্তির হাতযশে বিশ্বের জ্ঞান ভান্ডারের সব তথ্য একটা ক্লিকেই হাতের মুঠোয় মিলছে। এরই পাশাপাশি কৃত্রিম মেধার সংযোজন হয়েছে ব্যবসার জগতেও। পাঠ্যবইয়ের তত্ত্বের সঙ্গে প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগের প্রয়োজন। ‘বিজ়নেস অ্যানালিটিক্স অ্যান্ড এআই’ বিষয়টি নিয়েও জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে স্নাতকের পর। এ বিষয়ের মাধ্যমে ব্যবসা, বাণিজ্যের বাস্তব পরিস্থিতির ছবি স্পষ্ট করে তোলে পড়ুয়াদের কাছে। তবে, যাঁরা ম্যানেজার বা অন্ত্রেপ্রেনিয়রশিপের স্বপ্ন দেখেন, তাঁদের ভাবনা এবং সৃজনশীলতাকে পথ দেখাতে পারে এই বিষয়টি। তাই যাঁরা ইতিমধ্যেই চাকরির জগতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, কোর্সটি তাঁদের জন্য।
কাজের বাজারে চাহিদা কেমন?
ন্যাসকম এবং অন্যান্য সংস্থার সমীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫-এর শেষে ডেটা অ্যানালিস্ট ইন্ডাস্ট্রি থেকে দেশের আর্থিক লাভের পরিমাণ ১৬ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বার যাঁরা বিজ়নেস অ্যানালিসিস বা সমতুল বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, তাঁদের জন্য কেরিয়ার গড়ার জন্য এই সময়টি আদর্শ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।
বেতনকাঠামো
বিজ়নেস অ্যানালিস্ট পদে এক থেকে তিন বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্নেরা মাসে ৪০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পেতে পারেন। এর থেকে বেশি সময় কাজের পূর্ব-অভিজ্ঞতা থাকলে মাসে বেতন হিসাবে ৭০ হাজার টাকা থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বেতন পাওয়া যেতে পারে। আর পাঁচ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা থাকলে বেতন মাসে ১ লক্ষের বেশি হতে পারে।