US Iran Peace Deal

‘উনি ভীষণ জটিল মানুষ’, ট্রাম্প ক্ষুব্ধ ‘বন্ধু’ নেতানিয়াহুর উপরে! ইরান চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরে প্রশংসা জিনপিং এবং পুতিনের

গত মাসেই চিন সফরে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই সময় চিনা প্রেসিডেন্ট জিনপিঙের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি। এ বার সেই জিনপিংকে ‘নিপাট ভদ্রলোক’ বলে সম্মোধন করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ ১০:২৭
Share:

(বাঁ দিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ‘ভীষণ জটিল প্রকৃতির’ মানুষ। এ বার এমনটাই দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরং, ইরানের সঙ্গে শান্তিসমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রশংসা করলেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভূমিকার।

Advertisement

নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক বরাবরই ভাল। তবে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার শেষ পর্বে ঘন ঘন দু’জনের মধ্যে মতানৈক্য প্রকাশ্যে এসেছে। ‘বন্ধু’ বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম)-র সঙ্গে কখনও ফোনকলে কথা বলার সময়ে মেজাজ হারিয়েছেন ট্রাম্প। কখনও আবার প্রকাশ্যেই সমালোচনা করেছেন। সতর্ক করেছেন। এমনকি রবিবার লেবাননে ইজ়রায়েলি হানা নিয়ে মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইজ়রায়লকে সংযত থাকতে বলেছেন তিনি। এ বার ইরানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হতেই ফের নেতানিয়াহুকে একহাত নিলেন ট্রাম্প।

ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “উনি খুব জটিল প্রকৃতির মানুষ। সত্যি বলতে ওর আমাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কারণ, ইরানের কাছে যদি পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, তা হলে ইজ়রায়েল দু’ঘণ্টাও টিকতে পারত না।” বরং, আমেরিকার দুই ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ রাষ্ট্রের প্রধান জিনপিং এবং পুতিনের প্রশংসা করেন তিনি। ট্রাম্পের মতে, জিনপিং এবং পুতিন উভয়েই পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত মেটাতে সাহায্য করেছেন। অন্তত হরমুজ় প্রণালীর অবরোধে এই দুই দেশ কোনও হস্তক্ষেপ করেনি বলে জানান তিনি। এর জন্য রাশিয়া এবং চিনকে সাধুবাদ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

Advertisement

উল্লেখ্য, গত মাসেই চিন সফরে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই সময় চিনা প্রেসিডেন্ট জিনপিঙের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি। এ বার সেই জিনপিংকে ‘নিপাট ভদ্রলোক’ বলে সম্বোধন করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরানকে চাপে রাখতে আমেরিকা জলপথে অবরোধ শুরু করেছিল। ট্রাম্প জানান, ওই সময়ে চিন কোনও ট্যাঙ্কারকে পাহারা দিতে ‘ডেস্ট্রয়ার’ রণতরী পাঠায়নি। এর জন্য চিনের প্রশংসা করেন তিনি।

সোমবার ভোরে (ভারতীয় সময়) ইরানের সঙ্গে আমেরিকার শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কথা সমাজমাধ্যমে ঘোষণা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। পরে ট্রাম্প এ নিয়ে বিবৃতি দেন। যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে চুক্তিস্বাক্ষর এখনও হয়নি। তা হবে আগামী শুক্রবার। তবে এই শান্তিচুক্তির পরবর্তী পরিস্থিতি কী হবে, তা নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্নও উঁকি মারতে শুরু করেছে। শুরুর দিকে ইজ়রায়েলি হামলার বিরুদ্ধে সে ভাবে সরব না হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বার বার তেল আভিভের সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। রবিবারও ভর্ৎসনা করেছেন ইজ়রায়েলকে। এ বার কি তা হলে পিছু হটবে তেল আভিভ? আমেরিকা-ইরানের পরবর্তী আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পথ খুলে দেবে কি ইজ়রায়েল? পশ্চিম এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইরানের সশস্ত্র বন্ধু গোষ্ঠীগুলির ভূমিকাই বা কী থাকবে? এই বিষয়গুলি এখনও অস্পষ্ট।

হরমুজ় খুলে দেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। এই জলপথ দিয়ে অবাধ জাহাজ চলাচল শুরু হলে জ্বালানি এবং অন্য পণ্য পরিবহণের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার কথা। সে ক্ষেত্রে বিশ্ব অর্থনীতিতে কোনও পরিবর্তন আসে কি না, তা নিয়ে কৌতূহল দানা বেঁধেছে। পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা যে পাল্টা অবরোধ ঘোষণা করেছিল, তা-ও তুলে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। এমনটা হলে ইরানের উপর থেকে আর্থিক চাপ কমবে। সে ক্ষেত্রে আমেরিকা-ইরান পরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনায় আরও গতি আসে কি না, সে দিকেও নজর থাকবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement