Tet deputation

টেট জটিলতা থেকে মুক্তি দিতে আইন সংশোধনের দাবি, এ বার আন্দোলনে নামবে দক্ষিণপন্থী শিক্ষক সংগঠনও!

টেট জট থেকে শিক্ষকদের মুক্তি দিতে আগামী বাদল অধিবেশনেই আইন সংশোধনের দাবি তুলে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের ভাবধারায় গঠিত শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ (বিদ্যালয় শাখা), পশ্চিমবঙ্গ (এবিআরএসএম)।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ১৮:৪০
Share:

কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত।

সারা দেশ জুড়ে লক্ষ লক্ষ স্কুলশিক্ষকের পেশাজীবন অনিশ্চিত। ২০২৫-এ সুপ্রিম কোর্টের টেট রায়ের ফলে সিঁদুরে মেঘ ঘনাচ্ছে শিক্ষামহলে। দীর্ঘ দিন ধরেই এ রাজ্যের শিক্ষক সংগঠনগুলি রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের কাছে উপযুক্ত পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছে। ইতিমধ্যে রাজ্যে ঘটে গিয়েছে পালাবদল। এ বার একই সুরে আন্দোলনের কথা জানালেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের ভাবধারায় গঠিত শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ (বিদ্যালয় শাখা), পশ্চিমবঙ্গের সদস্যেরা।

Advertisement

টেট জট থেকে শিক্ষকদের মুক্তি দিতে আগামী বাদল অধিবেশনেই আইন সংশোধনের দাবি তুলে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিল অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ (বিদ্যালয় শাখা), পশ্চিমবঙ্গ (এবিআরএসএম)। শুক্রবার সংগঠনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি প্রামাণিক সাংবাদিকদের বলেন, “আগামী ১৮ জুন গোটা দেশ জুড়ে সব জেলাশাসক দফতরের সামনে বিক্ষোভ, ধর্না ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হবে। জেলাশাসকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।” তাঁর দাবি, সংসদের আগামী বাদল অধিবেশনে অধ্যাদেশ জারি করে টেট সংক্রান্ত এনসিটিই-র নিয়ম পরিবর্তন করতে হবে।

২০২৫-এ একটি মামলার রায় দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, দেশের প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষকদের ক্ষেত্রে টেট উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। যাঁরা ‘টিচার্স এলিজিবিলিট টেস্ট’ (টেট) উত্তীর্ণ নন, তাঁদের ২০২৮-এর ৩১ অগস্টের মধ্যে তা উত্তীর্ণ হতে হবে। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে যাঁদের চাকরির সময়সীমা শেষ হচ্ছে, তাঁদের এই নির্দেশের আওতার বাইরে রাখা হয়।

Advertisement

এ দিকে শিক্ষকদের একাংশের দাবি, শিক্ষার অধিকার আইন ২০০৯ কার্যকর হয় ২০১০-এ। সেই আইন অনুযায়ী বিধি তৈরি করে ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার্স ট্রেনিং বা এনসিটিই। পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালের জুলাইয়ে শিক্ষকদের যোগ্যতা সংক্রান্ত নিয়ম চালু হয়। সেখানে টেট বাধ্যতামূলক করা হয়।

এই তথ্যের উল্লেখ করেই সম্প্রতি নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। তারা আবেদন করেছিল, এই আইন কার্যকর হওয়ার আগে থেকে যে সকল শিক্ষক কর্মরত, তাঁদের এই নির্দেশের বাইরে রাখা হোক। কারণ, ২০১১-র আগে কাজে যোগ দেওয়া শিক্ষকদের ক্ষেত্রে টেট বাধ্যতামূলক ছিল না। তাই, এই মুহূর্তে সারা দেশে ২০ লক্ষ শিক্ষক রয়েছেন যাঁরা টেট উত্তীর্ণ নন। এ রাজ্যে সেই সংখ্যা ৯০ হাজারের বেশি।

শিক্ষার অধিকার আইন, আরটিই ২০০৯ এবং এনসিটিই ২০১০-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতার জন্য টেট পাশ করা ন্যূনতম এবং বাধ্যতামূলক যোগ্যতা। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, টেট আবশ্যিক যোগ্যতা। কিন্তু সমস্যা হয়েছে ২০১১ পর্যন্ত শিক্ষকতায় নিযুক্তদের নিয়ে।

সম্প্রতি কলকাতায় বিভিন্ন বাম শিক্ষক সংগঠনের তরফে মিছিল ও অবস্থান বিক্ষোভ করা হয়। সেখানেও কেন্দ্রের ভূমিকার বিরোধিতা করা হয়। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেছিলেন, ‘‘কর্মরত শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক টেট নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী কলকাতায় এসে কথা দিয়েছিলেন, তাঁরা রাজ্যে সরকারে এলে বিষয়টা দেখবেন। সরকারে আসা হল কিন্তু বিষয়টা দেখা হল না! এমনকি, রিভিউ মামলায় কেন্দ্র কোনও আইনজীবীও দেয়নি। এ তো বড় প্রতারণা!”

শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয় এবিআরএসএম-কে। বাপি প্রামাণিক বলেন, “আসল ভুল হয়েছিল ২০১০-এ, যখন ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার্স ট্রেনিং বা এনসিটিই বিধি তৈরি করেছিল তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার। তখন কারা ক্ষমতায় ছিল, তা তো সকলেই জানেন।” সংগঠনের দাবি, ২০২৫-এ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেই বিষয়টি প্রকাশ হয়। তার পর তাঁরা কেন্দ্রের কাছে আবেদন করেছেন বলে দাবি করেন বাপি। কিন্তু পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। কোনও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বিষয়টি আটকে রয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা। বাপি বলেন, “সে কারণেই আমরা দাবি করছি বাদল অধিবেশনে এই আইনের পরিবর্তন করতে হবে। তাতেই এত শিক্ষকের সমস্যার সমাধান হবে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement