— প্রতীকী চিত্র।
একাদশ-দ্বাদশ স্তরে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে কি ফের জটিলতা বাড়ছে? সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তেমনই আশঙ্কা করছেন শিক্ষক পদপ্রার্থীরা।
সম্প্রতি শূন্যপদের তালিকায় অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, জেলা স্কুল পরিদর্শকেরা সেই তালিকা যাচাই করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তা হলে কী ভাবে কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া চলছে? উঠছে প্রশ্ন।
শিক্ষক পদপ্রার্থীদের দাবি, কর্তৃপক্ষ যা করছেন, তা যেন আইনসঙ্গত হয়। এর জন্য আবার যেন পরে তাঁদের সমস্যায় পড়তে না হয়। ভবিষ্যতে চাকরি নিয়ে ফের টানাটানি হতে পারে আশঙ্কা করে নিজেরাই স্কুলে স্কুলে গিয়ে খোঁজ খবর শুরু করেছেন প্রার্থীরা। কোনও স্কুলে আদৌ শূন্যপদ রয়েছে কি না, কাউন্সেলিংয়ের আগে তা-ই যাচাই করে নিতে চাইছেন তাঁরা।
চলতি সপ্তাহ থেকে একাদশ-দ্বাদশ স্তরে ১০টি বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগের জন্য কাউন্সেলিং শুরু করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। প্রায় ৩৩০০ পদে দফায় দফায় এই কাউন্সেলিং হবে। কিন্তু প্রাথমিক ভাবে শূন্যপদের যে তালিকা প্রকাশ হয়েছে সেখানে গরমিল রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষক সংগঠন অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক চন্দন গড়াই বলেন, “আমরা চাই স্বচ্ছতার সঙ্গে নির্ভুল ভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি চলুক। যে কারণে আমি দফতরের দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়েছি।” এর পরই নড়ে বসে দফতর। সম্প্রতি মধ্যশিক্ষা পর্ষদ থেকে জেলা স্কুল পরিদর্শকদের ওই তালিকা ফের যাচাই করে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সমস্যা ঠিক কোথায়?
এক চাকরি প্রার্থী জানান, দু’টি ক্ষেত্রে প্রধান ত্রুটি রয়েছে। যা আগামী দিনে সকল চাকরিপ্রার্থীকে সমস্যায় ফেলতে পারে। প্রথমত, ২০১৬ সালে কোনও প্রার্থী একটি স্কুলে শিক্ষকতার কাজে যোগ দিয়েছিলেন। পরে তিনি আপস-বদলির মাধ্যমে অন্য স্কুলে চলে গিয়েছেন। অর্থাৎ তাঁর জায়গায় ওই স্কুলে ইতিমধ্যেই অন্য শিক্ষক রয়েছেন। অথচ সম্প্রতি যে তালিকাপ্রকাশ হয়েছে সেখানে এই পদটিকে শূন্য হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
আবার অন্য ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে কোনও একটি স্কুলে কোনও একটি বিষয়ে হয়তো একটি শূন্যপদ রয়েছে। কিন্তু তালিকায় দেখানো হচ্ছে শূন্যপদ দু’টি। সে ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়বেন নতুন প্রার্থীরা।
আগামী এপ্রিলে কাউন্সেলিং হবে। সেখানে ডাক পেয়েছেন এমন এক শিক্ষক পদপ্রার্থী আনন্দবাজার ডট কমকে জানান, দফতরের পরিস্থিতি এমন যে তাঁরা ভরসা করতে পারছেন না। সে কারণে নিজেরাই স্কুলের শূন্যপদ যাচাই করতে বেরিয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, “যে সব স্কুলে আমরা কয়েকজন কাজে যোগ দিতে ইচ্ছুক, সেই স্কুলগুলি ঘুরে দেখছি। শূন্যপদের তালিকার সঙ্গে বাস্তবের মিল রয়েছে কি না।” তাঁদের আশঙ্কা, হয়তো কাউন্সেলিংয়ে কোনও স্কুল বেছে নিলেন। কিন্তু কাজে যোগ দেওয়ার সময়ে দেখলেন সেখানে কোনও পদই শূন্য নয়। তাঁরা নিজেরাই এমন বেশ কিছু ঘটনার নজির পেয়েছেন বলে দাবি।
উত্তরবঙ্গের একটি স্কুলের প্রধানশিক্ষক বলেন, “আমার স্কুলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে একটি শূন্যপদ রয়েছে। অথচ তালিকায় দেখাচ্ছে দু’টি। নিয়োগপত্র নিয়ে যদি দু’জনেই আসেন তা হলে আমি তো তাঁদের কাজে যোগ দেওয়ার অনুমতি দিতে পারব না। দফতরে বিষয়টি জানিয়েছি।”
কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, শূন্যপদ সংক্রান্ত কোনও বিষয় তাদের দফতর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় না। যদিও স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার বলেন, “আমার কাছে কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ এলে স্কুলশিক্ষা দফতরকে জানাচ্ছি। সেখান থেকে শূন্যপদ সংশোধন হয়ে এলে তারপরে ফের সুপারিশ দেওয়া হচ্ছে।”