Jadavpur University 2026

অর্থ সঙ্কট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে, রাজ্য সরকারের কাছে সাহায্য চাওয়ার সিদ্ধান্ত কর্মসমিতিতে

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা জানান, ছাত্রাবাস-সহ বহু ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। অধিকাংশ লিফটে লিফটম্যান নেই। রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। সম্প্রতি আরজি কর হাসপাতালের দুর্ঘটনার পরে আশঙ্কা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ১৯:৩২
Share:

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত।

এক শিক্ষক তাঁর ঘরে বসে কাজ করতে পারছেন না, কারণ ঘরে বৈদ্যুতিন আলো খারাপ। সংশ্লিষ্ট কর্মীর কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংগ্রহে কোনও আলো নেই, তাই তা বদলানো যায়নি। অবশেষে নিজেই আলো লাগানোর বন্দোবস্ত করতে চাইলেন শিক্ষক, নিজের খরচে।

Advertisement

দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ না হওয়ায় ‘ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলি কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিভাগে এক সময় আগুন লেগে গিয়েছিল বলে অভিযোগ।

এই চিত্র দেশের খ্যাতনামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের। অভিযোগ, এ ভাবেই কোথাও বিদ্যুতের মেরামতি অভাব, কোথাও কর্মীর অভাব এবং সর্বোপরি গবেষণাগারে যন্ত্রপাতির অভাবে জর্জরিত কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি এ বার তাঁরা দ্বারস্থ হলেন রাজ্য সরকারের। ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ, গবেষণার যন্ত্রপাতি কেনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু বাকি পড়ে থাকা কাজের জন্য বরাদ্দ প্রয়োজন।

Advertisement

গত সপ্তাহে আরজি করে লিফ্‌টে আটকে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। তার পরই লিফ্‌টের মেরামতি নিয়েও নড়ে বসেছেন কর্তৃপক্ষ। সে কারণে প্রশাসনের কাছে ২১ কোটি টাকা অর্থ সাহায্য চাইল বিশ্ববিদ্যালয়। কর্মসমিতিতে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান এক সদস্য।

ওই সদস্য জানান, রাজ্য বাজেটে প্রায় ২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ২০ কোটি টাকার সামান্য বেশি পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু বাকি প্রায় ৬ কোটি টাকা এখনও পাওয়া যায়নি। যে কারণে স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

এই অর্থ যথেষ্ট নয়, শোনা যাচ্ছে এমনই। তাই ১৫ কোটি বাড়তি অর্থের দাবি করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, সম্প্রতি বিধাননগর ক্যাম্পাসের গ্রন্থাগারে বইয়ের জন্য প্রাক্তনীদের কাছে দরবার করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা জানান, ছাত্রাবাস-সহ বহু ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। অধিকাংশ লিফটে লিফটম্যান নেই। রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। সম্প্রতি আরজি কর হাসপাতালের দুর্ঘটনার পরে আশঙ্কা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার আগেই অবশ্য কর্ম সমিতিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাজ্য সরকার সাহায্য না করলে দৈনন্দিন কাজ চালানো মুশকিল হয়ে যাবে বলে দাবি করেছেন শিক্ষকদের একাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন জুটার সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় চালাতে হলে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয় সেটা দেওয়া হয় না। বছরে প্রায় ৫০ কোটি টাকার প্রয়োজন হয়। কিন্তু সরকার মাত্র ২০ থেকে ২৫ কোটি দেয়। সে কারণে পরিকাঠামো এবং পড়াশোনা সহ গবেষণার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সে কারণে এই অর্থ চাওয়া হয়েছে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement