UPSC CSE 2026

ইউপিএসসি পারে, এনটিএ পারে না কেন? কোথায় খামতি? প্রশ্নফাঁস বিতর্কের আবহে উঠছে প্রশ্ন

যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রযুক্তিগত গোলমালের মতো একাধিক সমস্যার জেরে বার বার পরীক্ষা বাতিল করেছে এনটিএ। অন্য দিকে ইউপিএসসি-র পরীক্ষার ক্ষেত্রে এই গাফিলতির সুযোগ নেই বললেই চলে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ ১৩:৫৯
Share:

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা (নিট) কিংবা স্নাতকে ভর্তির যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা— সবেতেই প্রশ্নপত্রের সুরক্ষা, পরীক্ষার্থীদের বায়োমেট্রিকের কাজে ব্যর্থতার অভিযোগ ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি-র বিরুদ্ধে (এনটিএ)। এ নিয়ে শীর্ষ আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে ওই আয়োজক সংস্থাকে। সুপ্রিম কোর্ট পরামর্শ দিয়েছে, ইউপিএসসি-র মতো পরীক্ষা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।

Advertisement

কোন ক্ষেত্রে নিয়ম বদলেছে ইউপিএসসি?

গত কয়েক বছরে কমিশনের তরফে ডিজিটাল মাধ্যমে আবেদনের প্রক্রিয়া জমা দেওয়া বা পরীক্ষার্থীদের ছবি তুলে পরীক্ষাকেন্দ্রেই যাচাই করার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ২০২৬-এ সিভিল সার্ভিসেস-এর প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় মোট ২,০৭২টি পরীক্ষাকেন্দ্রে সফল ভাবে ওই প্রযুক্তির সাহায্যে পরিচয় যাচাই করা হয়েছে।

Advertisement

সংশ্লিষ্ট কাজটি একটি অ্যাপের মাধ্যমে সম্পূর্ণ হয়েছে, যা ন্যাশনাল ই-গভর্ন্যান্স ডিভিশন-এর সহযোগিতায় তৈরি করা হয়েছিল। ওই অ্যাপের সাহায্যে এক মিনিটের মধ্যে একসঙ্গে ১২,০০০ হাজার পরীক্ষার্থীর তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়েছে। পরীক্ষা দিয়েছেন সাড়ে পাঁচ লক্ষেরও বেশি প্রার্থী।

এনটিএ-র বিরুদ্ধে অভিযোগ

কুয়েট ইউজি-র ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনায় অনেক কম, ৭৩,১০৬ জন। সেই পরীক্ষায় বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে বিকল হয়ে পড়ে যন্ত্র। ফলে ৩,৭৬৫ জন পরীক্ষাই দিতে পারেননি। অন্য দিকে নিট ইউজি-র প্রশ্নপত্র জিপিএসযুক্ত গাড়িতে করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানো থেকে শুরু পরীক্ষাকেন্দ্রে ৫জি জ্যামার বসানো পর্যন্ত একাধিক ক্ষেত্রে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপ তৈরি করা হয়েছিল। তার পরও প্রশ্নফাঁস রুখতে পারেনি এনটিএ।

বছরের পর বছর দ্বাদশ উত্তীর্ণ পড়ুয়ারা সর্বভারতীয় স্তরের প্রবেশিকা দিতে গিয়ে নানাবিধ সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রযুক্তিগত গোলমালের মতো একাধিক সমস্যার জেরে বার বার পরীক্ষা বাতিল করেছে এনটিএ। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষা করার পর পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা বাতিলের কথা জানতে পেরেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন।

কোথায় সমস্যা?

ইউপিএসসি-র মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ স্তরের আধিকারিক থেকে শুরু করে সরকারি বিভাগে সাধারণ কর্মী নিয়োগের পরীক্ষার আয়োজন করা হয়ে থাকে। তাই নিরাপত্তার জন্য আলাদা করে জেলাশাসক এবং স্থানীয় প্রশাসনের উপর দায়িত্ব থাকে। নির্দিষ্ট কেন্দ্রেই পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘেরাটোপে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের রাজধানী এবং বড় শহরে পরীক্ষা নেওয়া হয়।

অন্য দিকে এনটিএ-র ক্ষেত্রের সংস্থার আধিকারিক এবং কর্মীদের তুলনায় বেশি নির্ভর করা হয় বেসরকারি সংস্থাগুলির উপরে। চুক্তির ভিত্তিতে বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে দেহতল্লাশি, নথি যাচাইকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি ওই সংস্থার কর্মীরাই করে থাকে। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিকাঠামোগত বিষয়গুলিতে খামতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে বহু বার। বড় থেকে ছোট, বিভিন্ন শহরে পরীক্ষার কেন্দ্র বেছে নেয় এনটিএ। তাই বাড়তি সুরক্ষা ব্যবস্থা আয়োজনের সুযোগ সে ভাবে থাকে না বলেই অভিযোগ করেছেন একাধিক পরীক্ষার্থী।

পরীক্ষা পদ্ধতি:

এনটিএ-এর প্রবেশিকাগুলি কম্পিউটার ভিত্তিক পরীক্ষা (সিবিটি) পদ্ধতিতে নেওয়া হয়ে থাকে। সেই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তি প্রক্রিয়া চলে। এ ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন, আধার কার্ডের বৈধতা যাচাই, দেহতল্লাশির মতো ব্যবস্থা থাকলেও প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবস্থাপনায় খামতির নানান অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং তদারকি কমিটি থাকা সত্ত্বেও প্রশ্নফাঁস হয়েছে একাধিক বার।

ইউপিএসসি-র ক্ষেত্রে পরীক্ষা পদ্ধতি আলাদা। ওএমআর শিটে প্রিলিমস এবং তাতে পাশ করার পর মেনস দিতে হয় পরীক্ষার্থীদের। খাতা-কলমে পরীক্ষার উত্তর লেখার পর আলাদা করে ইন্টারভিউও দিতে হয় তাঁদের। একাধিক ধাপে পরীক্ষার আয়োজন এবং বিষয় বিশেষজ্ঞদের দিয়ে মূল্যায়ন করার জন্য প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ নজর দিয়েছে কমিশন। তাতে কৃত্রিম মেধা থেকে শুরু করে মেশিন লার্নিং— সব ধরনের প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা হয়।

কারচুপির অতীত নজির

তবে, ইউপিএসসি-র পরীক্ষায় কারচুপির নজির যে একেবারেই নেই, তা কিন্তু নয়। ২০১৪-এ ইউপিএসসি-র সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ব্লু-টুথ ডিভাইস ব্যবহার করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন আইপিএস অফিসার সাফির করিম। তাঁকে এই কাজ করতে সাহায্য করেছিলেন তাঁর স্ত্রী। একই ভাবে শিক্ষানবিশ আইএএস আধিকারিক পূজা খেড়করের বিরুদ্ধে ভুয়ো জাতি শংসাপত্র জমা দেওয়ার অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছিল।

যদিও প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনা ইউপিএসসি-র ক্ষেত্রে ঘটেনি। এ ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের কমিশনকে নিয়ে মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্য্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement