Denim Causing Pollution

জিন্‌স কি পৃথিবীকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে? ফ্যাশন বাদ না দিয়েও পরিবেশরক্ষার উপায় বললেন সুজয়

অভিনেতা তথা বাচিকশিল্পী সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় এবং সমাজসেবী সোমিনী সেন দুয়ার মতে ডেনিম ব্যবহার নিয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু কী ভাবে? ডেনিমের সাজ কি কেউ এক কথায় ত্যাগ করতে পারবেন? তা হলে কী ভাবে ব্যবহার করবেন?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ ১৫:১৭
Share:

বাচিকশিল্পী সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় এবং সমাজসেবী সোমিনী সেন দুয়া। ছবি: সংগৃহীত।

বছরের পর বছর পালন করা হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। কিন্তু যাকে নিয়ে এত উ়দ্‌যাপন, তার স্বাস্থ্যরক্ষায় কোনও উদ্যোগ নেই কোথাও। ধুঁকছে শহর, গ্রাম, শহরতলি। দূষণে ভরা বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পরিবেশ রক্ষা করার এক কৌশলের কথা জানালেন অভিনেতা তথা বাচিকশিল্পী সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় এবং সমাজসেবী সোমিনী সেন দুয়া।

Advertisement

ডেনিমের শার্ট, প্যান্ট বা ব্যাগ ফ্যাশনের দুনিয়ায় চিরকালই কদর পেয়ে এসেছে। কিন্তু এক জোড়া সাধারণ জিন্‌স তৈরি করতে প্রায় হাজার হাজার লিটার জল অপচয় হয় এবং প্রায় ৩৫ কেজি কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন হয়। তুলা চাষে অতিরিক্ত জল ও কীটনাশকের ব্যবহার হয়। ও দিকে, পছন্দের রং আনতে সিন্থেটিক ইন্ডিগো এবং ব্লিচিং কেমিক্যাল দেওয়া হয় জলে। এর ফলে জলের বাস্তুতন্ত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মোটের উপর জল অপচয়, বায়ুদূষণ, জলদূষণের অন্যতম কারণ ডেনিম।

সুজয়প্রসাদ এবং সোমিনীর আর্জি, ডেনিম ব্যবহার নিয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু কী ভাবে? ডেনিমের সাজ কি কেউ এক কথায় ত্যাগ করতে পারবেন?

Advertisement

ডেনিম ব্যবহার নিয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

নিজের ফ্যাশনের সঙ্গে ডেনিম যদি ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে থাকে, তা হলে তা ত্যাগ করা অত সহজ নয়। ফ্যাশন থেকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু কেবল সচেতন হওয়ার কথা বলছেন সুজয়প্রসাদ এবং সোমিনী। ‘ডেনিম ড্রাইভ’ প্রকল্প শুরু করেছে সোমিনীর সমাজসেবী সংস্থা। মানুষকে আরও বেশি সচেতন করার উদ্দেশ্যে।

কী ভাবে ব্যবহারের কথা বলছেন তাঁরা?

সোমিনীর কথায়, ‘‘আমরা প্রয়োজন ছাড়াও জামাকাপড় কিনতেই থাকি। কিন্তু সেই সব তন্তু থেকে প্রবল দূষণ হয়। আর এই তালিকায় ডেনিম সবার উপরে। ৪ গুণ বেশি জল ব্যবহার হয় ডেনিম তৈরির সময়ে। এর তন্তু মাটির সঙ্গে মিশতে পারে না। রংও খুব ক্ষতিকারক। তাই আমরা পুরনো ডেনিম দিয়ে নানা রকমের জিনিস বানানো শুরু করছি।’’

সুজয়প্রসাদ বলছেন, ‘‘ডেনিমের যে কাপড় আমার কাছে ছিল, তা থেকে যদি আমি একটি হার বানাই, তা হলে তা অন্য ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আবার যখন সেই হার আর ব্যবহার করতে ইচ্ছে করবে না, তা ফেলে না দিয়ে আবার অন্য কিছু একটা বানিয়ে নেব। তাতে দীর্ঘমেয়াদি এবং টেকসই হবে জিনিসটি।’’ একই সঙ্গে প্রয়োজন ছাড়া জামাকাপড় না কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।

যেমন গামছা থেকে জামাকাপড় তৈরি হচ্ছে, শাড়ি দিয়ে পর্দা তৈরি হচ্ছে, পর্দা দিয়ে আবার ব্যাগও তৈরি হচ্ছে। সুজয়ের পরামর্শ, ‘‘যা কিছু দেশজ, তা পুনর্ব্যবহার করে ফ্যাশন তৈরি করা যায়। আমাদের দেশের যা যা প্রাকৃতিক ফ্যাব্রিক রয়েছে, সেগুলি দিয়ে কেতাদুরস্ত জিনিসপত্র ব্যবহার করুন।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement