ছবি: সংগৃহীত।
প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে অফিসের মধ্যেই সহকর্মীকে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল তরুণের বিরুদ্ধে। অফিসে বসে কাজ করছিলেন তরুণী। ছুরি নিয়ে এসে হঠাৎই তাঁর ঘাড়ে একের পর এক কোপ মারতে শুরু করেন তরুণ। সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে মৃতার নাম ডিম্পল। অভিযুক্তের নাম হরজিন্দর। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পঞ্জাবের মোহালির একটি বেসরকারি সংস্থার সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে সেই মর্মান্তিক ঘটনাটি। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, ডিম্পল নিজের ডেস্কে কাজ করার সময় হরজিন্দর পিছন থেকে তাঁর ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে নৃশংস ভাবে হামলা চালান। সহকর্মীদের সামনেই একের পর এক কোপ পড়তে থাকে ডিম্পলের উপর। হরজিন্দর ডিম্পলকে ২০ বারেরও বেশি ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বলে জানা গিয়েছে। কয়েক জন সহকর্মী ছুটে এসে তরুণকে নিরস্ত করার চেষ্টা করলেও কোনও লাভ হয়নি। ডিম্পলের উপর হামলা চালানোর পর একই অস্ত্র দিয়ে নিজের গলায় আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেন অভিযুক্ত। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, ডিম্পল ও হরজিন্দর দু’জনেই একটি বেসরকারি কুরিয়ার সংস্থায় কাজ করতেন। সেখানে তাঁদের পেশাগত সম্পর্কটি এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়। তবে, কিছু দিন আগেই এই যুগল তাঁদের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হরজিন্দর বিচ্ছেদ মেনে নিতে পারছিলেন না। বছর তিরিশের তরুণী ডিম্পলের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের জন্য বার বার চেষ্টা করেছিলেন। তাতে সাড়া দেননি মৃতা। এই নিয়ে মন কষাকষি ও তর্কবিতর্ক চলে দু’জনের মধ্যে। রাত প্রায় পৌনে ৮টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। হতভম্ব কর্মীরা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু’জনকেই গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে।
ডিম্পল ও হরজিন্দরকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে চিকিৎসকেরা ডিম্পলকে মৃত ঘোষণা করেন। হরজিন্দর আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ একটি খুনের মামলা দায়ের করে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। ফেজ়-১১ থানার স্টেশন হাউস অফিসার আমান বৈদওয়ান ডিম্পলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ভিডিয়োটি এক্স হ্যান্ডলে ‘দ্য তত্ত্ব’ নামের একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিয়োয় তরুণের নৃশংসতা দেখে শিউরে উঠেছেন অনেকেই।