Weight Loss Tips

ওজন ছিল ১০১ কেজি! কোন জাদুবলে ৩৬ কেজি কমালেন? নিজের সম্পূর্ণ ডায়েট তালিকা দিলেন নেটপ্রভাবী

ওজন কমানো সহজ নয়। আর ৩৬ কেজি ওজন কমিয়ে ফেলা তো যথেষ্টই কঠিন। তবে তা করে দেখিয়েছেন একজন নেটপ্রভাবী। কী ভাবে তা সম্ভব হয়েছে?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ ১৫:৪৮
Share:

৩৬ কেজি ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট কেমন হবে, দিন ধরে জানালেন নেটপ্রভাবী ছবি: সংগৃহীত।

এক বছরেরও কম সময়ে প্রায় ৩৬ কিলোগ্রাম ওজন কমিয়ে ফেলা চাট্টিখানি কথা নয়। তবে তা করে দেখিয়েছেন ইনস্টাগ্রামের জনপ্রিয় নেটপ্রভাবী কাজল। তাঁর ওজন বেড়ে হয়েছিল ১০১ কেজি। তার পরেই খাওয়াদাওয়ার ধরন বদলে ফেলেন। ধীরে ধীরে ওজনও কমতে শুরু করে। এখন তাঁর ওজন হয়েছে ৬৫ কেজি। দেখতেও অনেক বেশি ফিট ও ঝরঝরে লাগছে কাজলকে। কী ভাবে কম সময়ে এত বেশি ওজন ঝরিয়ে ফেলেছেন, সে কথা জানিয়েছেন নিজেই।

Advertisement

ওজন ঝরানো মানে উপোস করে থাকা নয়। জিমে গিয়ে ভারী ওজন তোলারও প্রয়োজন নেই। কাজল জানিয়েছেন, নিয়ম মেনে খাওয়া ও নিয়মিত শারীরচর্চাতেই তা সম্ভব। কাজল শুধু খাওয়ারদাওয়ার ধরন বদলে ফেলেছিলেন। কেমন ছিল সে ডায়েট, তা জানিয়েছেন নিজেই।

কী ভাবে ৩৬ কেজি ওজন কমালেন নেটপ্রভাবী?

Advertisement

কাজলের মতে, ওজন কমানোর জন্য বাইরের খাবার বা ক্র্যাশ ডায়েট নয়, বরং বাড়ির তৈরি সাধারণ ও সুষম খাবারই খেয়েছেন। কী কী খেতেন তিনি?

প্রথম দিন

সকালে খালিপেটে ১ কাপ জিরের জল এবং সঙ্গে ৫টি ভেজানো বাদাম।

প্রাতরাশে পুদিনার চাটনি সহযোগে ২টি ছোট বেসনের চিলা।

জলখাবারের পরে দুপুরের খাওয়ার আগে ১ বাটি পেঁপে এবং সঙ্গে ১ টেবিল চামচ সূর্যমুখীর বীজ।

দুপুরের আধ কাপ ব্রাউন রাইসের সঙ্গে ছোলার ডাল এবং ঢেঁড়শ ভাজা।

বিকেলে ভেষজ চায়ের সঙ্গে শুকনো খোলায় ভাজা মাখানা।

রাতের খাবার হালকা। টোফুর ভুর্জি ও সেদ্ধ বিন। সঙ্গে একটি বাজরার রুটি।

দ্বিতীয় দিন

সকালে খালিপেটে ভেজানো চিয়া বীজের সঙ্গে ঈষদুষ্ণ লেবুর জল।

প্রাতরাশে সয়াবিন দিয়ে তৈরি নিরামিষ পোহা বা চিঁড়ের পোলাও।

মিড-মর্নিংয়ে ১টি গোটা আপেল এবং ১ চামচ কুমড়োর বীজ।

দুপুরে হাতে গড়া ২টি রুটি, মুগ ডাল, লাউয়ের তরকারি এবং এক বাটি স্যালাড।

বিকেলে ১ কাপ দইয়ের ঘোল এবং ছোলা ভাজা।

রাতে ১টি জোয়ারের রুটির সঙ্গে পালং পনির এবং শসার রায়তা।

তৃতীয় দিন

সকালে ঈষদুষ্ণ জলের সঙ্গে অ্যালো ভেরার রস।

জলখাবারে রাগি দোসার সঙ্গে সম্বর ডাল এবং চাটনি।

এর পরে ১টি পেয়ারা এবং ১ টেবিল চামচ তিসির বীজ।

দুপুরে ১টি জোয়ারের রুটি, অড়হর ডাল, পালং শাকের তরকারি এবং স্যালাড।

বিকেলে ১ বাটি চিনি ছাড়া গ্রিক ইয়োগার্ট। কখনও তার সঙ্গে চিয়া বীজ এবং বেদানা মিশিয়ে নিয়ে।

রাতে নানা সব্জি দিয়ে কিনোয়ার পোলাও এবং শসা-টম্যাটোর স্যালাড।

চতুর্থ দিন

মেথি ভেজানো জল দিয়ে দিন শুরু।

জলখাবারে প্রচুর সব্জি দিয়ে উপমা।

কয়েক ঘণ্টা পরে ১টি নাশপাতি এবং ৮-১০টি ভেজানো কিশমিশ।

দুপুরে মিলেটের খিচুড়ি, সঙ্গে সব্জি।

বিকেলে ২টি রাইস কেক এবং সঙ্গে লেবুর শরবত।

রাতে হাতে গড়া ১টি রুটির সঙ্গে সয়াবিনের তরকারি।

পঞ্চম দিন

সকালে খালি পেটে লেবু-আদার জল এবং সঙ্গে ৫টি ভেজানো আখরোট।

প্রাতরাশ ওট্‌সের চিলার সঙ্গে পুদিনার চাটনি।

এর সঙ্গে ফ্রুট স্যালাড ও নানা রকম বীজ।

দুপুরে ২টি বাজরার রুটির সঙ্গে মুসুর ডাল, ঢেঁড়শের তরকারি ও স্যালাড।

বিকেলে ভাজা বাদামের সঙ্গে এক গ্লাস দইয়ের ঘোল।

রাতে পনির টিক্কার সঙ্গে আধ কাপ ব্রাউন রাইস।

ওজন কমানোর ডায়েট সকলের জন্য এক রকম নয়। কাজল যা খেয়ে ওজন কমিয়েছেন, তা সকলের জন্য উপযুক্ত না-ও হতে পারে। তাই ডায়েট শুরুর আগে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement