স্তনদুগ্ধ দানে কোনও জাত-ধর্ম বা বর্ণের ভেদাভেদ থাকে না। মাতৃদুগ্ধই প্রাধান্য পায় সেখানে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
যশোদা পেশায় জননী। যাকে বলে ‘প্রফেশনাল মাদার’। তাঁর বেঁচে থাকার একমাত্র পুঁজি অবস্থাপন্ন হালদার বাড়ির সন্তানদের স্তন্যপান করানো। মহাশ্বেতা দেবীর ‘স্তনদায়িনী’ যশোদা কেবল এক চরিত্র নয়, সে ছিল পিতৃতান্ত্রিক ও পুঁজিবাদী সমাজের সেই নির্মম বাস্তবতার প্রতীক, যেখানে মায়ের দুধকে স্রেফ একটি ‘পণ্য’ বা ‘পরিষেবা’ হিসেবে গণ্য করা হয়, কিন্তু ব্রাত্য থেকে যায় স্বয়ং মায়ের অধিকার ও স্বাস্থ্য। লেখিকা যশোদার যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়েছিলেন এক চরম একাকীত্বে। পেশাগত ভাবে ‘দুধ-মা’ নামে পরিচিত যশোদা নির্মম বাস্তবতার শিকার হয়েছিল ঠিকই, তবে আজকের যশোদারা সেখানে সসম্মানে উত্তীর্ণ। মাতৃদুগ্ধ দানকে সে দিনের সমাজ হেলায় দেখেছিল, কিন্তু আজ এর গুরুত্ব অপরিসীম। স্তন্যদাত্রী মায়েদের দুধ সংরক্ষণ করার ব্যাঙ্ক তৈরি হয়েছে। কলকাতা শহরেও তা রয়েছে একাধিক। যে মা স্তন্যপান করাতে অক্ষম বা যে শিশু জন্মের পরেই জীবন টিকিয়ে রাখার কঠিন যুদ্ধে অবতীর্ণ, তাদের জন্যই এগিয়ে এসেছেন আরও অনেক মা। নিজের সন্তানকে পরিপুষ্ট করার পরেও তাঁরা উদ্বৃত্ত স্তনদুগ্ধ দান করছেন আরও অনেক সন্তানের জন্য। এখানে ভাবাবেগের থেকেও বড় হয়ে উঠেছে সামাজিক দায়বদ্ধতা।
মাতৃদুগ্ধ দানের বিষয়টি নতুন নয়। এ দেশে তা অনেক দিন ধরেই রয়েছে। ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা জ্বালা গুট্টার স্তন্যদানের খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পরে তা ফের এক বার আলোচনায় উঠে এসেছে। হায়দরাবাদ ও চেন্নাইয়ের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে প্রায় ৬০ লিটার স্তনদুগ্ধ দান করেছেন জ্বালা। নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ) ভর্তি শিশুদের জন্যই তাঁর এই প্রচেষ্টা। একই উদ্যোগ নিয়েছেন টিভি তারকা নকুল মেহতার স্ত্রী জানকী পারেখও। দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পরে তিনি প্রায় ৯০ প্যাকেট স্তনদুগ্ধ দান করেছেন প্রি-ম্যাচিয়োর বা সময়ের আগেই জন্মানো কম ওজনের শিশু ও অসুস্থ শিশুদের জন্য। দুই মায়ের এই প্রয়াস প্রশংসিত হচ্ছে বিপুল ভাবে। মাতৃদুগ্ধের বিকল্প নেই। নবজাতকের পুষ্টি, বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য যাবতীয় প্রয়োজন মায়ের দুধ থেকে পাওয়া যায়। জন্মের অন্তত এক ঘণ্টার মধ্যেই নবজাত শিশুকে স্তনদুগ্ধ পান করাতে হয়। তাই যে মায়ের স্তনদুগ্ধ আসতে বিলম্ব হচ্ছে বা যিনি তা পান করাতে অপারগ, তাঁর সন্তানের জন্য অন্য মায়ের স্তনদুগ্ধই দেওয়া হয় সর্বপ্রথম। সেখানে কোনও জাত-ধর্ম বা বর্ণের ভেদাভেদ থাকে না। মা কে তা বিচার করা হয় না, কেবল তাঁর মাতৃসুধাই হয়ে ওঠে এক সদ্যোজাতের একমাত্র জীবনরেখা।
প্রায় ৬০ লিটার মাতৃদুগ্ধ দান করেছেন ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা জ্বালা গুট্টা।
মাতৃদুগ্ধ সংরক্ষণের দিশা দেখায় সিয়ন
১৯৮৯ সালে মুম্বইয়ের লোকমান্য তিলক মিউনিসিপ্যাল জেনারেল হাসপাতাল যা সিয়ন হাসপাতাল নামে বেশি পরিচিত, সেখানেই তৈরি হয় দেশের প্রথম মাতৃদুগ্ধের ব্যাঙ্ক। চিকিৎসক আরমিদা ফার্নান্দেজ় গোটা বিষয়টির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার পর দেশের নানা জায়গায় মাতৃদুগ্ধের ব্যাঙ্ক তৈরি হয়। দিল্লিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে ন্যাশনাল হিউম্যান মিল্ক ব্যাঙ্ক ‘বাৎসল্য মাতৃ অমৃত কোষ’। কলকাতায় ২০১৩ সালে প্রথম এসএসকেএম হাসপাতালে তৈরি হয় মাতৃদুগ্ধের ব্যাঙ্ক ‘মধুর স্নেহ’। এখন বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালেও মাতৃদুগ্ধ সংরক্ষণ করে রাখার পরিকাঠামো রয়েছে।
কন্যাসন্তান জন্মের পরে ৯০ প্যাকেট মাতৃদুগ্ধ দান করেছেন জানকী পারেখ।
কেন জরুরি মাতৃদুগ্ধ দান?
শিশুর জন্মের পরে, প্রথম ঈষৎ হলুদ বর্ণের যে গাঢ় দুধ নিঃসৃত হয়, তাকে ‘কলোস্ট্রাম’ বলা হয়। ‘কলোস্ট্রাম’ নবজাতকের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী। কারণ, এতে পুষ্টিগুণ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ‘ইমিউনোগ্লোবিউলিন’ থাকে, যা নবজাতকের শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তোলে। বিভিন্ন সংক্রামক অসুখবিসুখ থেকে বাঁচায়। এ বিষয়ে স্ত্রীরোগ চিকিৎসক মল্লিনাথ মুখোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, ছ’মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের দুধই খাওয়াতে হবে। কোনও কৌটোবন্দি দুধ বা হেলথ ড্রিঙ্ক নয়। জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করানো জরুরি। এতে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা সঠিক থাকবে আর শিশু স্তন্যপান শুরু করলে কলোস্ট্রাম পাবে, যার মধ্যে অ্যান্টিবডি থাকে। তবে অনেক সময়েই দেখা যায়, নর্ম্যাল ডেলিভারি হোক বা সি-সেকশন, সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর পরই ‘ব্রেস্ট মিল্ক’ আসতে অনেক দেরি হয়। কখনও তাতে ২-৩ দিন সময় লাগে। এই সময়ে শিশুকে মাতৃদুগ্ধ দিতেই বিভিন্ন হাসপাতালে স্তনদুগ্ধ সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়।
সন্তানজন্মের পরে এ দেশের মায়েদের প্রায় এক বছর পর্যন্ত ৪০০-৬০০ মিলিলিটার মাতৃদুগ্ধ তৈরি হতে পারে। শিশুর ক্ষেত্রে তিন কিলোগ্রাম ওজনের জন্য ১০০ কিলোক্যালরি শক্তির প্রয়োজন হয়। আর মায়ের প্রতি ১০০ মিলিলিটার দুধে ৭০ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। নবজাত শিশু সারা দিনে যে পরিমাণ মাতৃদুগ্ধ পান করে তার পরিমাণও কম। কাজেই অতিরিক্ত দুধ নষ্টই হয়। তা দান করলে আরও অনেক শিশু অপুষ্টিজনিত রোগ থেকে বাঁচতে পারে। মাতৃদুগ্ধ নিরাপদ ও জীবাণুমুক্ত। তাই এক মায়ের স্তনদুগ্ধ অন্য মায়ের সন্তান নিশ্চিন্তেই খেতে পারে।
মাতৃদুগ্ধ দানে মায়েরও উপকার হয় অনেক।
এ দেশে রোটা ভাইরাসের সংক্রমণে বহু শিশুর মৃত্যু হয়। সন্তানজন্মের পরেই স্তনদুগ্ধ খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে শিশুমৃত্যু প্রতিরোধ করা যায়। এই কারণেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু), ইউনিসেফ এবং ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর ব্রেস্ট ফিডিং অ্যাকশন জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যেই মায়ের দুধ খাওয়ানোর উপর জোর দেয়। প্রোটিন রিচ পলিপেপটাইড বা পিআরপিএস সমৃদ্ধ মাতৃদুগ্ধ নিয়ে গবেষণা করে জানা গিয়েছে, ইকোলাই, রোটা ভাইরাস, সিগেলার মতো মারাত্মক সংক্রমণের হাত থেকে এটি আজীবন সুরক্ষা দিতে পারে। তাই যে শিশুরা মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত, তাদের সুরক্ষার জন্য স্তন্যদান বেশি জরুরি।
কোন শিশুদের জন্য বেশি জরুরি?
সময়ের আগেই জন্মেছে এমন শিশু বা জন্মের পরে ওজন খুব কম, এমন শিশুর জন্য বেশি জরুরি।
প্রসবের পর অনেক মা গুরুতর অসুস্থ থাকেন অথবা প্রসবের পরে মৃত্যু হলে সেই মায়ের সন্তানের জন্য অন্য মায়ের স্তনদুগ্ধই প্রয়োজন হয়।
মায়ের স্তনে যদি পর্যাপ্ত দুধ তৈরি না হয়, তখন দুগ্ধদাত্রী অন্য মায়ের থেকে তা নেওয়ার প্রয়োজন হয়। এই বিষয়ে কল্যাণীর কলেজ অফ মেডিসিন অ্যান্ড জেএনএম মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও চিকিৎসক মৃগাঙ্কমৌলি সাহা জানান, যে মায়েদের প্রসবকালীন সময়ে কোনও সংক্রামক অসুখ ধরা পড়ে অথবা যাঁরা মানসিক রোগের ওষুধ খান, তাঁরা সন্তানকে স্তন্যদান করতে পারেন না অনেক সময়েই। আবার, মায়েরা যদি লিথিয়াম গোত্রের ওষুধ খান অথবা অন্য কোনও জটিল অসুখের চিকিৎসা চলে, তখন সেই মাকে স্তন্যদান করতে দেওয়া হয় না। বদলে ‘ডোনার মিল্ক’ বা অন্য মায়ের স্তনদুগ্ধই শিশুকে দেওয়া হয়।
জন্মগত রোগে আক্রান্ত বা জন্মের পরে কোনও সংক্রামক রোগে আক্রান্ত শিশু, যাদের নিওেনেটাল কেয়ার ইউনিটে রাখতে হয়েছে তারা সরাসরি মায়ের থেকে স্তন্যপান করতে পারে না অনেক সময়েই। তখন ‘ডোনার মিল্ক’-এরই বেশি প্রয়োজন হয়।
কোন মায়েরা স্তনদুগ্ধ দান করতে পারবেন, তার কিছু নিয়ম আছে।
স্তনদুগ্ধ দান করলে মায়েদের কী কী উপকার হয়?
স্তনদুগ্ধ তৈরি ও তা পাম্প করার প্রক্রিয়ায় ক্যালোরি খরচ বেশি হয়। এতে প্রসব পরবর্তী সময়ে মায়ের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুবিধা হয়।
স্তনদুগ্ধ নিঃসরণ করলে শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা ভবিষ্যতে মায়েদের স্তন ও জরায়ু ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।
স্তনে দুধ জমে থাকলে সেখানে তীব্র ব্যথা ও ক্ষেত্র বিশেষে সংক্রমণও হতে পারে। পারে। অতিরিক্ত দুধ পাম্প করে দান করলে তা হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
মায়েদের প্রসব পরবর্তী সময়ের মানসিক অবসাদ বা ‘পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন’ হওয়ার ঝুঁকি অনেক কম থাকে।
কোন মায়েরা স্তনদুগ্ধ দান করতে পারেন ও কারা নয়?
কোন মায়েরা স্তনদুগ্ধ দান করতে পারবেন ও কারা নয় এই বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) ও ইউনিসেফের সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা আছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইচ্ছুক মায়েরা, যাঁদের এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি এবং সিফিলিস রোগ নেই, তাঁরা স্তনদুগ্ধ দান করতে পারেন।
যে মায়েদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ১০ গ্রাম বা তার বেশি এবং যাঁরা কোনও গুরুতর রোগে আক্রান্ত নন, তাঁরা স্তনদুগ্ধ দান করতে পারেন।
এইচআইভি থাকলে সাধারণত সে মায়ের স্তনদুগ্ধ নেওয়া হয় না অনেক ক্ষেত্রেই। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, সেই মায়েরা প্রসবকালীন সময়ে যদি ‘হাইলি অ্যাকটিভ অ্যান্টিরেট্রোভিয়াল থেরাপি’ করান ও যাবতীয় ওষুধপত্র ঠিকমতো খান, তা হলে তাঁদের স্তনদুগ্ধ দানে কোনও বাধা নেই। কারণ সংক্রমণ মাতৃদুগ্ধের মাধ্যমে শিশুর শরীরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কম।
স্তনদুগ্ধ দানের পরে তার ভাইরাল স্ক্রিনিং করিয়ে নেওয়া হয়। যে মায়েরা ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়াজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত, তাঁদের স্তনদুগ্ধ সাধারণত নেওয়া হয় না।
মা যদি প্রসবের আগে শরীরে কোনও ট্যাটু করান, তা হলে তাঁর স্তনদুগ্ধ দানে সমস্যা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মায়েদের নানা শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া হবে আগে।
মায়ের যদি যক্ষ্মা থাকে এবং তার কোনও পূর্ব চিকিৎসা না হয়ে থাকে, তা হলে স্তনদুগ্ধ দান করা যাবে না।
মাতৃদুগ্ধ দান রক্ত বা প্লাজ়মা দানের মতোই জরুরি।
ক্যানসারের চিকিৎসা চলছে বা কেমোথেরাপি দেওয়া হচ্ছে, এমন মায়েরা সাধারণত স্তন্যদান করতে পারেন না।
মৃগীরোগের ওষুধ চলছে বা স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ খেলে স্তন্যদানের ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মায়ের স্তনে বা তার আশপাশে হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসের সংক্রমণ হলে, সেই মা স্তনদুগ্ধ দন করতে পারবেন না।
মায়ের যদি অঙ্গ প্রতিস্থাপন হয়ে থাকে, তা হলে সুরক্ষার খাতিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তিনি স্তন্যদান করতে পারবেন না।
শিশুদের জন্য মাতৃদুগ্ধ পুষ্টির দারুণ উৎস। মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য এবং রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে এর কোনও বিকল্প নেই। সব শিশু যদি মাতৃদুগ্ধ পায়, তা হলে বিশ্ব জুড়ে পাঁচ বছরের নীচে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১৩ শতাংশ কমে যাবে।
মহাশ্বেতা দেবী তাঁর গল্পে স্তনদায়িনীর নাম রেখেছিলেন যশোদা। এর পিছনে ক্রিয়াশীল পৌরাণিক সূত্রটি অবশ্যই চোখ এড়ায় না। দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তান পালিত হয়েছিলেন নন্দ-জায়া যশোদার স্তনদুগ্ধে। যে সন্তান পরবর্তীকালে পুরুষোত্তম হিসেবে পূজিত। এ মহাভারত কৃষ্ণকথাকে নিজের জীবনের অঙ্গ বলেই মনে করে। 'যশোদা' তাই কোনও সাধারণ মায়ের নাম নয়। অথচ মহাশ্বেতা দেবীর গল্পে চরিত্রটির করুণ পরিণতি যে তার নামটিকে বক্রোক্তি হিসেবে দেখায়, সে কথাও পাঠকের নজর এড়িয়ে যায় না। কিন্তু আজ পরিস্থিতি বদলেছে। মাতৃদুগ্ধের ভান্ডার গড়ে তুলে যেন সেই পৌরাণিক কাল থেকে মহাশ্বেতা-আখ্যানের এক ইতিবাচক উপসংহার রচিত হয়েছে। যেখানে জাতি-বর্ণ-ধর্ম একাকার, মানুষের পরিচয় শুধুই মানুষ। এই উদ্যোগ মনুষ্যত্বের বিজয়কেই সূচিত করে। আজকের যশোদারা তাই হেরে যাওয়া, বিস্মৃত মানবী নন। তাঁরা বিজয়িনী।