WB University Eetirement Benefits Dispute

অধ্যাপকদের অবসরকালীন সুযোগ সুবিধায় কোপ! বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে

পেনশন এবং গ্র্যাচুরিটি নিয়ম বিধিতে বড়োসড়ো পরিবর্তন আনতে চলেছে সরকার। ১ অক্টোবর ও তারপরে যারা অবসর নিয়েছেন এবং যারা জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত তারা আংশিক এবং প্রভিশনাল বা অস্থায়ী ভিত্তিতে সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৫১
Share:

নিজস্ব চিত্র।

সরকারি কোষাগারে টান পড়েছে বলেই কি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের পেনশন-সহ অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধায় টান পড়তে চলেছে! গত কয়েক দিনে এমনই আলোচনা শুরু হয়েছে রাজ্য জুড়ে। এরই বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিল রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষক সংগঠন।

Advertisement

মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে কলকাতা, যাদবপুর, বর্ধমান, রবীন্দ্রভারতী-সহ রাজ্যের ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সংগঠন ও শিক্ষকরা একত্রে কথা বলেন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, আধিকারিক এবং শিক্ষাকর্মীদের পেনশন এবং গ্র্যাচুয়িটি ক্ষেত্রে বড় কোপ পড়তে চলেছে।

সম্প্রতি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছেন, ১ অক্টোবর ২০২৫ বা তার পর জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত যে সব কর্মী অবসর নিয়েছেন, তাঁরা আংশিক এবং শর্ত সাপেক্ষে অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এমনকি যাঁরা ইতিমধ্যেই এই ১০০ শতাংশ অবসরকালীন ভাতা ও অন্য সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁরাও নাকি তা পাচ্ছেন শর্ত সাপেক্ষেই। সরকারের পরবর্তী নির্দেশের আগে তাকে চূড়ান্ত হিসাবে ধার্য করা যাবে না।

Advertisement

গ্র্যাচুয়িটির ক্ষেত্রেও শর্তসাপেক্ষে ৭৫ শতাংশ টাকা পাবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জারি করা নির্দেশিকায়। সে ক্ষেত্রে বাকি ২৫ শতাংশ টাকা তাঁরা পাবেন কি না, তা সরকারের পরবর্তী নির্দেশের উপর নির্ভর করবে। ইতিমধ্যেই সরকারের তরফে এক নির্দেশিকা জারি হয়েছে, যা ২০০০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত জারি হওয়া একাধিক বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে।

এ প্রসঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় বলেন, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী। অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা বিশ্ববিদ্যালয় স্থির করবে। সরকার এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে আমাদের বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে।” কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সদস্য (কুটা) শাঙ্খায়ন চৌধুরী বলেন, “সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারে হস্তক্ষেপ করছে সরকার। এত দিন পর্যন্ত এ যাবতীয় নিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে ন্যস্ত ছিল, নানা বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও কোনও লাভ হয়নি। এখন অধিকার খর্ব করতে চাইছে তারা।” বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধিকার রক্ষায় এবং নিজেদের দাবি আদায়ে সংগঠিত আন্দোলনের পথে হাঁটতে চাইছে শিক্ষক সংগঠনগুলি।

এরই পাশাপাশি ১১ টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা অবিলম্বে নিরশনের দাবি তুলেছেন তাঁরা। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর গোস্বামী বলেন, “স্থায়ী উপাচার্য না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ থেকে শুরু করে পঠন-পাঠন সবকিছুই থমকে রয়েছে। এই সমস্যার আশু সমাধান প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে অন্য বিষয় নিয়ে না ভেবে পড়ুয়াদের স্বার্থের কথা ভাবা উচিত।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement